• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না রাসিক প্রশাসকের নির্দেশে ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শনে সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি দল রাসিক প্রশাসকের নির্দেশে নগরীর হরিজন পল্লী এলাকার ড্রেনের কাদামাটি অপসারণ কাজ শুরু দিল্লি ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন স্টার্ক রাজশাহীতে নতুন জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম আগামী তিন মাসে যেকোনো বারের তুলনায় বাড়বে রাজস্ব আয়: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র ঈদের ছুটি শেষে বিকেল ৩টায় বসছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন ঈদ উপলক্ষে ট্রেন যাত্রীদের সহায়তায় রাসিক প্রশাসকের ব্যতিক্রমী প্রশংসনীয় উদ্যোগ ‘বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারে বাধা নেই’ দেশের সব পেট্রোল পাম্পে নিয়োগ করা হবে ট্যাগ অফিসার

জুমার দিনের আমল

Reporter Name / ১৩০ Time View
Update : শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১

সপ্তাহের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদার দিন জুমা। দিনভর আমল ইবাদতের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। জুমার দিনের সুন্নাত আমলগুলো কী?

জুমার দিনের সেরা আমল

জুমার দিনের সেরা আমল নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে জুমার ফরজ নামাজ আদায়ে আগে আগে মসজিদে চলে আসা। মসজিদে প্রবেশ করে কাউকে অতিক্রম না করে নামাজ পড়ে খুতবা শোনার অপেক্ষায় বসে বসে থাকা। কারো সঙ্গে কথা না বলে চুপচাপ জিকির-আজকার করা। ইমামের খুতবা দেওয়া শুরু করলে তা মনেোযোগের সঙ্গে শোনা।

জুমার দিনের সুন্নাতি আমলের দিকনির্দেশনা

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার নামাজ পড়া ছাড়াও বিশেষ কিছু সুন্নাতি আমলের কথা একাধিক হাদিসের বর্ণনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তাহলো-

১.  দোয়া করা

২. দরূদ পাঠ

হজরত শাদ্দাদ ইবনু আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। এ দিন আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে এবং তাতে বিকট শব্দ হবে। অতএব তোমরা এ দিন আমার উপর প্রচুর পরিমাণে দুরূদ পাঠ করো। তোমাদের দুরূদ অবশ্যই আমার কাছে পেশ করা হয়। এক ব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কীভাবে আমাদের দুরূদ আপনার কাছে পেশ করা হবে, অথচ আপনি তো অচিরেই মাটির সঙ্গে একাকার হয়ে যাবেন? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ নবিদের দেহ মাটির জন্য খাওয়া হারাম করেছেন।’ (ইবনে মাজাহ, ইবনে খুজাইমাহ, আবু দাউদ, মিশকাত)

৩. ইমামের পাশে বসে খুতবাহ শোনা

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে জুমার নামাজে এসে ইমামের কাছাকাছি হয়ে বসলো এবং নীরবে মনোযোগ সহকারে খুতবাহ শুনলো, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের এবং আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। আর যে ব্যক্তি কংকর স্পর্শ করলো, সে অনর্থক কাজ করলো।’ (ইবনে মাজাহ, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ, যদি না কবীরা গুনাহ করা হয়।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, তারগিব)

৪. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া

হজরত আওস ইবনু আওস আস-সাকাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন (স্ত্রী সহবাসজনিত) গোসল করলো এবং নিজে গোসল করলো এবং সকাল সকাল যানবাহন ছাড়া পায়ে হেঁটে মসজিদে গিয়ে ইমামের কাছাকাছি বসলো, মনোযোগ সহকারে প্রথম থেকে খুতবাহ শুনলো এবং অনর্থক কিছু করলো না, তার জন্য প্রতি কদমে এক বছরের রোজা রাখা ও রাত জেগে নামাজ পড়ার সমান সাওয়াব রয়েছে।’ (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

মনে রাখা জরুরি

যারা আগে আগে মসজিদে যাবে নীরবে ইমামের পাশ বসে খুতবাহ শুনবে তাদের জন্য কোরবানির সাওয়াব নির্ধারিত। হাদিসের বর্ণনা থেকেও তা প্রমাণিত-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জুমার দিন হলে মসজিদের প্রতিটি দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং লোকেদের আগমনের ক্রমানুসারে তাদের নাম লেখেন। যেমন প্রথম আগমনকারীর নাম প্রথমে। ইমাম যখন খুতবাহ দিতে বের হন, তখন তারা তাদের নথি গুটিয়ে নেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবাহ শোনেন। নামাজ এ প্রথম আগমনকারীর সাওয়াব একটি উট কোরবানিকারীর সমান; তারপরে আগমনকারীর সওয়াব একটি গরু কোরবানিকারীর সমান; তারপর আগমনকারীর সওয়াব একটি মেষ কোরবানিকারীর সমান; এমনকি তিনি মুরগী ও ডিমের কথা উল্লেখ করেন। অন্য বর্ণনায় সাহল ইবনু আবু সাহলের রেওয়ায়েতে আরও এসেছে, ‘এরপর যে ব্যক্তি আসে, সে কেবল নামাজ পড়ার সাওয়াব পায়।’ (ইবনে মাজাহ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, মুয়াত্তা মালিক, দারেমি)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, জুমার দিন নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা। আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পায়ে হেঁটে মসিজদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া। জুমার দিন সুন্নাতি আমলে নিজেদের নিয়োজি রাখা। হাদিসের ওপর আমল করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিন যথাযথভাবে সুন্নাতি আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।