• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আমীর নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৬৮৪ জন গ্রেপ্তার, ৪৪ মামলা রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ইয়াবা-ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কারাবন্দী বিএনপি নেতার পরিবারের পাশে রাসিক প্রশাসক পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি বন্ধ ফেসবুকে ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করা যুবক আটক অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে দেখতে হাসপাতালে মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ রাজশাহীতে নারীসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ট্যাপেন্টাডল-গাঁজা উদ্ধার দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে রাসিক প্রশাসক, শুভেচ্ছা বিনিময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার সমান: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

রাকসুর এক বছর পূর্ণ, সমাধান হয়েছে কি রাবি শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা

Reporter Name / ৫২ Time View
Update : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ রাকসুর এক বছর: প্রতিশ্রুতির আড়ালে রাবি শিক্ষার্থীদের মৌলিক সংকট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফাইন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় বিশ্বাস। বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর প্রায় চার বছরের শিক্ষাজীবন শেষের পথে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও আবাসিক হলে একটি আসন জোটেনি তাঁর। হলের আসনের জন্য তিনবার আবেদন করেও বরাদ্দ না পাওয়ায় মেসেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

হৃদয়ের মতো এমন অভিজ্ঞতা রাবির অসংখ্য শিক্ষার্থীর। প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭টি আবাসিক হল ও একটি ডরমিটরিতে থাকার সুযোগ রয়েছে আনুমানিক ১০ হাজার শিক্ষার্থীর। ফলে প্রায় ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থীকে হলের বাইরে থেকেই পড়াশোনা করতে হচ্ছে।

আবাসন, খাবার, চিকিৎসা, পরিবহন ও একাডেমিক নানা সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক বছর আগে দায়িত্ব নেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘১২ মাসে ২৪ সংস্কার’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পর রাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকলেও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক সমস্যাগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। বরং আবাসন, খাবারের মান, চিকিৎসা ও পরিবহনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পুরোনো সমস্যাই রয়ে গেছে।

হৃদয় বিশ্বাসের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে হলে থাকার চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি। তিনি বলেন, অন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষেই আবাসিক সুবিধা পেলেও রাবিতে তৃতীয় বর্ষ শেষ করেও তিনি হলে উঠতে পারেননি। তিনবার আবেদন করেও আসন না পাওয়ায় তাঁর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাকসুর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

আবাসন সংকটের বিষয়ে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংসদের প্রায় প্রতিটি অধিবেশনেই আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য অনাবাসিক ভাতার বিষয়টিকেও তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে তাঁর অভিযোগ, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ

রাকসুর নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু এক বছর পরও হলের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসাইন বলেন, হলের খাবারের মানে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। মাঝেমধ্যে রাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিরা খাবার পরিদর্শন করলেও তাতে স্থায়ী কোনো উন্নতি দেখা যায়নি।

চিকিৎসাসেবায়ও সীমাবদ্ধতা

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সেবার মান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতির কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাওয়া যায় না।

রাকসুর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল মেডিকেল সেন্টারকে ২০ শয্যায় উন্নীত করা এবং ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা চালু করা। তবে এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এ বিষয়ে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা একসঙ্গে চালু করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রশাসনের কাছে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চাওয়া হয়েছে।

পরিবহন ও একাডেমিক সংকটও বহাল

শুধু আবাসন বা চিকিৎসা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনব্যবস্থা নিয়েও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন রুটে বাসের সংখ্যা, সময়সূচি ও ধারণক্ষমতা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। পরিবহনব্যবস্থা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

একই সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগে শ্রেণিকক্ষের সংকট, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে বিলম্বসহ একাডেমিক নানা সমস্যাও রয়েছে। এসব কারণে কোনো কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন দীর্ঘ হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রাকসুর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর প্রশ্ন

রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারাও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাবার, চিকিৎসা ও সেশনজটের মতো মৌলিক সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে রাকসু রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রাবি শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে আবাসন, খাবার ও সেশনজট অন্যতম। তাঁর দাবি, এক বছরে এসব সমস্যার সমাধান তো হয়নি, বরং কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীও রাকসুর কার্যক্রমের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে রাকসুর দৃশ্যমান কার্যক্রম খুব বেশি দেখা যায়নি। বরং রাজনৈতিক মতাদর্শ ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাকসু প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করেন তিনি।

‘৭৩ শতাংশ ইশতেহার বাস্তবায়ন’

তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তাঁর দাবি, নির্বাচনী ইশতেহারের ৭৩ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর বাইরে বেশ কিছু উদ্যোগ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসু নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, এক বছর পর সেই আগ্রহে কিছুটা ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফুয়াদ রাতুলের ভাষায়, বর্তমান রাকসু শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাঁর মতে, দীর্ঘ বিরতির পর রাকসু ফিরে আসার যে গুরুত্ব ছিল, বর্তমান নেতৃত্ব সেটি শিক্ষার্থীদের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারেনি।

সব মিলিয়ে এক বছর পেরিয়ে রাকসুর সামনে এখন বড় প্রশ্ন—ঘোষিত সংস্কার ও প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবে শিক্ষার্থীদের জীবনে পরিবর্তন আনতে পেরেছে, আর কতটাই বা রয়ে গেছে কাগজে-কলমে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।