• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ইয়াবা-ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কারাবন্দী বিএনপি নেতার পরিবারের পাশে রাসিক প্রশাসক পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি বন্ধ ফেসবুকে ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করা যুবক আটক অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে দেখতে হাসপাতালে মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ রাজশাহীতে নারীসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ট্যাপেন্টাডল-গাঁজা উদ্ধার দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে রাসিক প্রশাসক, শুভেচ্ছা বিনিময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার সমান: সমাজকল্যাণমন্ত্রী পেনাল্টি মিস, তবু গোলসংখ্যায় মেসির চেয়ে এগিয়ে রোনালদো মাগুরায় যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার, গুলিতে হত্যার অভিযোগ

রাজশাহীতে কমেছে সবজির দাম, হাঁফ ছেড়ে বাঁচছেন ক্রেতারা

Reporter Name / ৬৮ Time View
Update : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ  বৃষ্টি ও মৌসুমী বন্যার রেশ না কাটলেও রাজশাহী মহানগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি নেমে এসেছে।

পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় এখন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে চড়া বাজারের চাপে থাকা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার, সাগরপাড়া, নওদাপাড়া, হড়গ্রাম বাজার, মাস্টারপাড়া, লক্ষ্মীপুর কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোতে সবজির পর্যাপ্ত আমদানি রয়েছে। আশপাশের এলাকা থেকে টাটকা সবজি সরাসরি বাজারে আসায় দাম অনেকটাই ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।

নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েকদিন আগেও যে কাঁচামরিচ ঝাঁজ ছড়িয়ে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, তা এক লাফে কমে এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে।

পটল ৮০টাকা থেকে ৫০টাকা কেজিতে নেমে এসেছে, ঢেঁড়স বাজার ভেদে ৪০ থেকে ৫০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০টাকা কেজি দরে। আর কচু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০টাকা কেজিতে। যদিও মাত্র কয়েকদিন আগেই বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১শ’ টাকা কেজি দরে। করলা ও শসা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০টাকা প্রতি কেজি।

বেগুন প্রতি কেজি ৬০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫টাকা কেজি এবং কাঁচা পেঁপে ২০ থেকে ২৫টাকা কেজি। মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাউ ওজন ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০টাকায়। পেয়াজ ও রসুন এবং বিভিন্ন শাকের দামও কম রয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটা সবজির দামই এখন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। তবে মুরগি, মাছ ও ডিমের দাম বাড়ছে। এসব জিনিসপত্রের দামও যাতে কমে সেই ব্যাপারে ক্রেতারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

মফিজুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বাসস’কে বলেন, যা আয় করছিলাম তা সবজি কিনতে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। চাহিদা অনুযায়ী কোনো কিছুই কিনতে পারছিলাম না। দাম কমায় কিছুটা সুবিধা হচ্ছে।

মাসুমা নামের আরেক এক ক্রেতা বলেন, আমাদের মত অল্প আয়ের মানুষের জন্য বেশি দাম হলে কষ্টকর হয়ে যায়। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী কোনো কিছুই কিনতে পারিনা। সবজির দাম কমে যাওয়ায় সেই কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে। সবজির বাজারে এই স্বস্তি বজায় থাকলে আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষের জন্য ভাল হবে।

সবজি বিক্রেতা রমিশ উদ্দিন বাসস’কে বলেন, পাইকারি বাজারে সবজির দাম কম হওয়ায় আমরা কম দামে কিনতে পারছি। সেজন্য আমরাও কম দামে বিক্রি করছি। আশা করছি সামনে আর দাম নাও বাড়তে পারে।

রাজশাহী মহানগর পাইকারি কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাসস’কে বলেন, এখন সব ধরনের সবজির দাম কম। পানি নেমে যাওয়ায় উৎপাদন বেড়েছে। তাই সরবরাহ বাড়ায় কম দামে কিনতে পারছি আমরা। উৎপাদন বাড়ায় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বাসস’কে বলেন, ক্ষেত থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। একারণে উৎপাদন স্বাভাবিক হচ্ছে। আশা করছি আগামী দিনে উৎপাদন আরো বাড়বে। এতে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে আসবে সবজির দাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।