• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে নরওয়ের ডেপুটি মেয়রের সাক্ষাৎ, পরিচ্ছন্ন রাজশাহীর প্রশংসা রাজশাহীতে চোরাই ২ ল্যাপটপ ও ১২ মোবাইল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ রাজশাহীতে মাদকসেবনের দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ১০৫ রানে ফিরলেন সাদমান পল্টন ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিতের দাবীতে রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল জব্দ রাজশাহীতে নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগমারার পরিত্যক্ত গাওড়া বিল পরিষ্কারের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের আশা কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলের ২৭ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে এমপি আবু সাঈদ চাঁদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাবি শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতার ছুরিকাঘাত; প্রতিবাদে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

Reporter Name / ৬২ Time View
Update : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাসান ও আজাহারুল ইসলামের ওপর ছাত্রদল নেতার অতর্কিত হামলা ও ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় রাকসু নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। তারা বলেন, ক্যাম্পাসে এমন হামলার ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ‘আমার ভাইকে মারলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস একসাথে চলে না’, ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘বিচার চাই, সন্ত্রাসীদের বিচার চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত ঝরে, প্রশাসন কী করে’, ‘বাহ প্রশাসন চমৎকার, সন্ত্রাসীদের পাহারাদার’-ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হাসান বলেন, “চারুকলা এলাকায় একজন গার্ড রয়েছে এবং সেখানে কিছু বহিরাগত টুকাই প্রায়ই ঘোরাফেরা করতে আসা দর্শনার্থীদের হেনস্থা করে। এর ধারাবাহিকতায় আমাদের এক ভাই গতকাল বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে তার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে সেখানে ঘুরতে গেলে তাকে আটকিয়ে হেনস্থা করা হয়। এ সময় ছাত্রদল নেতা হাসিব তার কাছে টাকা দাবি করে। আমাদের ওই ভাই প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি প্রক্টরকে ফোন দেওয়ার ঘটনাতেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরাও সেখানে উপস্থিত ছিলাম এবং আমাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে, গতকাল রাতে আমরা প্যারিস রোডের পাশে বসে থাকাকালে ছাত্রদল নেতা হাসিব সেখানে এসে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ওই ঘটনায় হাসিব ছাড়া ছাত্রদলের অন্য কোনো সদস্য উপস্থিত ছিল না।”

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান বলেন, “আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি দোষীদের শাস্তির দাবিতে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন আর কোনো শিক্ষার্থীর রক্ত না ঝরে-গতকালের ঘটনায় ছাত্রসমাজের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চাই ক্যাম্পাসে প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং আহত দুই শিক্ষার্থী যেন ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।”

মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “ছাত্রদল কর্তৃক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনাটি পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য অপমানজনক। সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন বলেই যদি কেউ নেতাগিরির নামে ক্যাম্পাসে মাস্তানি করে বা কোনো শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায় এবং প্রশাসন যদি এর বিচার না করে, তাহলে আমরা শিক্ষার্থীরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাবো। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি রাকসুর পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। সুষ্ঠু বিচার না হলে এই ক্যাম্পাসে কেউ নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। একটি ছাত্র সংগঠন কতটা দেউলিয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও হুমকি দেয়! আমরা জানিয়ে দিতে চাই, এসব দেউলিয়াত্ব এই ক্যাম্পাসে চলতে দেওয়া হবে না।”

প্রসঙ্গত, গতকাল (২১ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডের পাশে হাসান ও আজাহারের ওপর বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালায় ছাত্রদল নেতা হাসিব। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এরই প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত আজকের মানববন্ধনে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।