• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল জব্দ রাজশাহীতে নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগমারার পরিত্যক্ত গাওড়া বিল পরিষ্কারের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের আশা কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলের ২৭ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে এমপি আবু সাঈদ চাঁদের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে অনলাইন জুয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, ২ মোবাইল জব্দ রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

বাগমারার পরিত্যক্ত গাওড়া বিল পরিষ্কারের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের আশা

Reporter Name / ১৩ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরের চাইপাড়া হিন্দুপাড়ায় প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ বিঘা আয়তনের গাওড়া বিলে কচুরিপানা অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর বিলটি মাছ চাষের উপযোগী করতে উদ্যোগ নিয়েছেন ইজারাদার ওয়াহিদ সরকার। তাঁর উদ্যোগে বর্তমানে প্রায় ১০০ জন শ্রমিক বিলের বিভিন্ন অংশে কচুরিপানা অপসারণের কাজ করছেন। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিলটিকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ইজারা না হওয়ায় বিলটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। একপর্যায়ে পুরো বিল কচুরিপানায় ছেয়ে যায়। পরে জমির মালিকদের সম্মতি ও ইজারা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিলটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে শ্রমিকেরা বিলের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কারের কাজ করছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হলে সেখানে মাছ চাষ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জমির মালিকদের দেওয়া নথিতে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার চাইপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গাওড়া বিলে অবস্থিত জমি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের সম্মতির তথ্য রয়েছে। নথি অনুযায়ী, প্রতি বছর বিঘাপ্রতি ৪০ হাজার টাকা হিসাবে ১৪৩২ থেকে ১৪৪০ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ইজারার হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইজারার মেয়াদ, তৃতীয় বছরের অর্থ বণ্টন এবং জমির মালিকদের টাকা গ্রহণ ও স্বাক্ষরের বিবরণও রয়েছে।

নথিতে বিলের পাড় বাঁধাই, বিলের ধার সংরক্ষণ ও ভাঙন রোধের বিষয়ে শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। পাড় বাঁধাইয়ের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যেসব জমি ভেঙে বিলের মধ্যে নেমে গেছে, সেসব জমির পরিমাণ অনুযায়ী জমির মালিকদের আনুপাতিক হারে টাকা দেওয়ার শর্তও রয়েছে।

এ-সংক্রান্ত আর্থিক নথিতে গোপালপুরের কালাম মৃধার নামে ১৯৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমির বিপরীতে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৪৮ টাকা গ্রহণের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। নথিতে ২৫ মে ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরের কথাও পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া চাইপাড়া, গোপালপুর ও সাদোপাড়া এলাকার একাধিক জমির মালিকের নাম, জমির পরিমাণ এবং প্রাপ্য অর্থের হিসাব নথিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জমির মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইজারার অর্থ বণ্টন ও টাকা গ্রহণের স্বাক্ষরসংবলিত নথিও সংরক্ষিত রয়েছে।

ইজারাদার ওয়াহিদ সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে প্রকাশ্য ডাকের মাধ্যমে তাঁরা প্রতি একর ৪০ হাজার টাকা দরে বিলটি ইজারা নেন। বিল পরিষ্কারের কাজ শেষ হলে সেখানে মাছ চাষ শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষ বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করছে বলে তাঁর অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বাধা সত্ত্বেও তাঁরা বিলটি ব্যবহারের উপযোগী করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের কার্যক্রমের কারণে কারও কোনো ক্ষতি হলে এবং সেই ক্ষতির দায় তাঁদের ওপর বর্তালে তা পূরণ করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ বিঘা আয়তনের গাওড়া বিলটি পরিষ্কার করে মাছ চাষ শুরু করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে প্রায় ১০০ জন শ্রমিকের অংশগ্রহণে চলমান কচুরিপানা অপসারণের কাজ স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।

পরবর্তী সময়ে মাছ চাষ শুরু হলে মাছের উৎপাদন, পরিচর্যা, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও মানুষের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি জমির মালিকদের ইজারার অর্থ প্রাপ্তি এবং বিলের যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা বিলটি পরিষ্কার করে উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহারের এ উদ্যোগ ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিলের পাড় সংরক্ষণ, ভাঙন রোধ এবং মাছ চাষের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে গাওড়া বিলটি আবারও এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নির্ভর করবে বিলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জমির মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিত মাছ চাষ বাস্তবায়নের ওপর।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।