
প্রিয়জন ডেস্কঃ ইরানি বন্দরগুলোতে পূর্ণাঙ্গ অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী তাদের সামুদ্রিক আধিপত্য বজায় রেখেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অবরোধকালে ৮টি তেলবাহী ট্যাংকারকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। এছাড়া আটক করা হয়েছে দুটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারকে। খবর আল জাজিরা
সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ‘ধারণা করা হয়— ইরানের অর্থনীতির ৯০% সমুদ্রপথের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। অবরোধ শুরু হওয়ার ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন বাহিনী সমুদ্রপথে ইরানের ভেতরে প্রবেশ করা এবং সেখান থেকে বাইরে যাওয়া সমস্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে থামিয়ে দিয়েছে।’
এদিকে এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর এই অবরোধ ইরানের উপকূলীয় এলাকা বা বন্দরে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সকল দেশের জাহাজের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো এই অবরোধ কার্যকর করার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এতে আরও জানানো হয়, একটি সাধারণ ডেস্ট্রয়ারে ৩০০-এর বেশি নাবিক থাকে, যারা আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনায় অত্যন্ত দক্ষ।
সেন্টকম জানিয়েছে, সোমবার থেকে অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজ এই অবরোধ পার হতে পারেনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টাকারী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারকে বাধা দিয়েছে এবং তাদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ঘটনাটি মঙ্গলবার ঘটেছে।
ওই কর্মকর্তার মতে, জাহাজ দুটি ওমান উপসাগরের চাবাহার বন্দর থেকে রওনা হয়েছিল এবং যুদ্ধজাহাজ থেকে রেডিওর মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কর্মকর্তাটি আরও জানান, এই দুটি ট্যাংকার সেই ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজের অন্তর্ভুক্ত ছিল যাদের সম্পর্কে সেন্টকম আগে জানিয়েছিল— জাহাজগুলো ‘ওমান উপসাগরের একটি ইরানি বন্দরে ফিরে যাওয়ার’ আদেশ পালন করেছে।