• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
স্পেন-যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আমীর নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৬৮৪ জন গ্রেপ্তার, ৪৪ মামলা রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ইয়াবা-ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কারাবন্দী বিএনপি নেতার পরিবারের পাশে রাসিক প্রশাসক পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি বন্ধ ফেসবুকে ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করা যুবক আটক অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে দেখতে হাসপাতালে মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ রাজশাহীতে নারীসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ট্যাপেন্টাডল-গাঁজা উদ্ধার দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে রাসিক প্রশাসক, শুভেচ্ছা বিনিময়

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, ত্রাণের অপেক্ষায় ৫ হাজার মানুষ

Reporter Name / ৭৫ Time View
Update : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর রোববারও হাজার হাজার মানুষ জরুরি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। শনিবার ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন নিহত এবং অন্তত ১০১ জন আহত হয়েছেন। এতে শত শত বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবির মুখপাত্র বার্তন সুয়ার পেলিতা পানজাইতান জানান, ভূমিকম্পের পর প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যান। ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টায় ৩৪১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর একটি সড়কও এখনো ব্যবহারযোগ্য হয়নি।

ফ্লোরেসের উত্তর উপকূলের নাঙ্গাহালে গ্রামের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী উমরি আজ সকালে এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের খাবার, পানি, ওষুধ এবং শিশুদের জন্য ডায়াপার দরকার।’

ভূমিকম্পের পর বাড়িতে ফিরতে ভয় পেয়ে তিনি অন্যদের সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করছেন।

একই পাহাড়ে রাত কাটানো ৫৫ বছর বয়সী নুরহিদায়াতি বলেন, ‘আমি এখনো খুব আতঙ্কিত। গতকালের ভূমিকম্পের কথা মনে পড়লে বুক ধড়ফড় করছে। আমরা গতকাল শুধু দৌড়ে এখানে উঠে এসেছিলাম। আমি এখনো খুব ভয় পাচ্ছি। ১৯৯২ সালের ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনো আমাকে তাড়া করে। তাই বাড়িতে ফিরতে সাহস করছি না।’

১৯৯২ সালেও ফ্লোরেসে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারায়।

নুরহিদায়াতি বলেন, ‘সরকার দ্রুত আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেবে- এটাই আশা করছি।’

বিএনপিবির মুখপাত্র বার্তন বলেন, আহত ১০১ জনের খবর পাওয়া গেছে।

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রাণহানির পাশাপাশি সমুদ্রের কাছে সংঘটিত এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।’

তিনি জানান, দুর্গতদের জরুরি তাঁবু, খাবার, ওষুধ, কম্বল, খাট, মাদুর, বিশুদ্ধ পানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর প্রয়োজন।

শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা আরও একজন বেড়েছে।

স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা ফাথুর রহমান রোববার এএফপিকে জানান, এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বা নিখোঁজ রয়েছেনÑএমন খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা শুধু উদ্ধার ও অনুসন্ধানের কাজে মনোযোগ দিচ্ছি এবং পুরো এলাকা তল্লাশি করছি।’

ভূতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ফ্লোরেসের উত্তর উপকূলের অদূরে সমুদ্রের নিচে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উঁচু ভবন খুব কম থাকায় বড় ধরনের ভবনধসের ঝুঁকি তুলনামূলক কম।

বিএনপিবির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৯১৪টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আরও শত শত বাড়ি কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভূমিকম্পে বহু সরকারি ও জনসেবা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৩৮টি সরকারি কার্যালয় রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।