• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ছুটি শেষে আজ খুলছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীকে সাইকেল উপহার দিলেন প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে নারীসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও এসকাফ সিরাপ উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, আবু বকর ৭ দিনের রিমান্ডে ফুটপাত দখলমুক্তের পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসন করা হবে: রাসিক প্রশাসক স্পেন-যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আমীর নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৬৮৪ জন গ্রেপ্তার, ৪৪ মামলা

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপনে বিএনপিতে যোগদান

Reporter Name / ৫৭ Time View
Update : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ জুলাই গণহত্যা মামলার আসামি নজরুল ইসলামকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির পল্লবী থানায় গোপনে পদায়ন করার অভিযোগ উঠেছে। এ গোপন অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, নজরুল ইসলাম মিরপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে পরিচয়ে এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও যুবলীগ নেতা কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিগত সময়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। বিএনপির নীতি-আদর্শ উপেক্ষা করে কীভাবে অন্য দলের বিতর্কিত নেতাকে পদ দেওয়া হলো, তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা।

জানা গেছে, গত ২২ জুলাই হঠাৎ করেই নজরুল ইসলামকে পল্লবী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক করে অনুমোদন দেন মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক ও সদস্য সচিব মোস্তফা জামান। অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী সিয়াম হত্যা মামলার ১১৩ নম্বর আসামি নজরুল ইসলামের বিএনপিতে পদায়ন টিকে গেলে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের আরও কয়েকজন নেতাকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন পদে যোগদান করানো হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে মিরপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা ও কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের অন্যতম সহযোগী জুলাই হত্যা মামলার আসামি বেনারসি ব্যবসায়ী ছান্দু ও মো. কাসেমের নাম। এই দুজনসহ আরও বেশ কয়েকজনকে পদ দেওয়ার বিষয়ে একটি পক্ষ প্রাথমিক কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি সৈয়দা ফৌজিয়া হোসেন এখন বিএনপির নেত্রী। বর্তমানে তিনি জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নেতাকর্মীরা বলছেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একাধিক নেতার বাসায় ফৌজিয়ার যাতায়াত ছিল এবং আওয়ামী সুবিধাভোগী ছিলেন। বিগত সময়ে ফৌজিয়া বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফাঁসি চেয়েও মানববন্ধন করেছিলেন। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এদের কারা দলে অনুপ্রবেশের সুযোগ দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

নজরুল ইসলামকে পল্লবী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, নজরুল ইসলাম কখনো বিএনপির প্রাথমিক সদস্যও ছিলেন না। ফ্যাসিবাদবিরোধী আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলন-সংগ্রামেও তাকে রাজপথে দেখা যায়নি।

বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলা ছিল। তিনি থানা ও হাউজিং এলাকায় দালালির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপরও তিনি বিভিন্ন সময় জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির আমি-ডামি জাতীয় নির্বাচনে ইলিয়াস মোল্লার পক্ষে মিরপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করেছিলেন নজরুল ইসলাম। গলায় নৌকা মার্কার ফটোকার্ড ঝুলিয়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ এবং জাল ভোট দেওয়ার কাজে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে সময় তার ভোটকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেওয়ার কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের সঙ্গে রাজপথে নজরুল ইসলামকে দেখা গেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এ ছাড়া নিজের ভাইদের সম্পত্তি দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নেতাকর্মীরা বলেন, ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি নজরুল ইসলাম তার স্ত্রী ও ভাতিজাকে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগদান করান। তাদের প্রশ্ন, এত অভিযোগের পরও কীভাবে তিনি বিএনপির পল্লবী থানা কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের পদ পেলেন। নজরুল ইসলামকে ওই পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কার সুপারিশ ছিল এবং কী প্রক্রিয়ায় তাকে পদায়ন করা হয়েছে, তা বিএনপির হাইকমান্ডকে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

মামলার সাক্ষী সারফারাজ পাপ্পু কালবেলাকে বলেন, নজরুল ইসলাম সারাজীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে এসেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ও তাকে রাজপথে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে আন্দোলন দমনে ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। এমনকি জুলাই আন্দোলনে ছাত্র মাহফুজ ও সিয়াম হত্যা মামলার আসামিও তিনি। তার মতো বিতর্কিত একজন বিএনপিতে কীভাবে পদ পেলেন?

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, জুলাইয়ে সিয়াম হত্যা মামলায় বাদী পক্ষ তাকে ভুল করে আসামি করেছিল। এরই মধ্যে তার নামসহ অনেকের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহার হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তিনি কখনো জড়িত ছিলেন না। কোনো পদে ছিলেন, সেই প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবে না।

নজরুল বলেন, মাদকবিরোধী একটি প্রোগ্রামে কাউন্সিলরের সঙ্গে আমি ছিলাম। কারণ আমি চাই এলাকা মাদকমুক্ত হোক। ২৪ সালের নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর (এমপি) বলেন, বিষয়টি আমার সম্পূর্ণ জানা নেই। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান কালবেলাকে বলেন, কোথাও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে কথা বলতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক অমিনুল হককে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।