• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ছুটি শেষে আজ খুলছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীকে সাইকেল উপহার দিলেন প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে নারীসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও এসকাফ সিরাপ উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, আবু বকর ৭ দিনের রিমান্ডে ফুটপাত দখলমুক্তের পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসন করা হবে: রাসিক প্রশাসক স্পেন-যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আমীর নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৬৮৪ জন গ্রেপ্তার, ৪৪ মামলা

Reporter Name / ৪৩ Time View
Update : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

 ফ্যাসিবাদের বয়ান তৈরি করেছে সাংবাদিকদের একাংশ: ড. মাসউদ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ, সাংবাদিকসহ অনেকেই ফ্যাসিস্টদের গোলামি করেছেন এবং তাদের পক্ষে বয়ান তৈরি করেছেন।

তিনি বলেন, “মাফিয়াদের দখলে থাকা সাংবাদিকরা হাসিনার উন্নয়নের জিকির এবং হাসিনাকে মানবতাবাদী হিসেবে উপস্থাপনের বয়ান গণমাধ্যমে তৈরি করেছিলেন।”

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহীর একটি রেস্টুরেন্টে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচার পতন: সাংবাদিক-পেশাজীবীদের লড়াই এবং পরবর্তী বাংলাদেশের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

‘স্বৈরাচার একটি প্রজন্মের চিন্তা-চেতনা ধ্বংস করেছে’

অধ্যাপক মাসউদ বলেন, “স্বৈরাচার হাসিনা একটি প্রজন্ম ও তাদের চিন্তা-চেতনাকেও ধ্বংস করেছেন। তিনি ছিলেন পৃথিবীর নিকৃষ্টতম ফ্যাসিস্ট। এরপরও একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র তাকে আশ্রয় দিয়েছে। সেখানে দিনের পর দিন মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে। আমাদের নিরাপত্তার চাবিকাঠিসহ সবকিছু তিনি ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।”

তিনি বলেন, “১৯০৫ সালের পর এই ভূখণ্ডে আমরা অনেক বড় অর্জন পেয়েছি। ১৯৪৭ সালের পরও এ দেশের মানুষের বড় অর্জন ছিল। অথচ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হয়েও আমাদের কলকাতার জমিদারদের কাঁচামাল সরবরাহ করতে হতো। এ দেশে কোনো স্কুল ছিল না। অপরদিকে রবীন্দ্রনাথের কাছারি ভবন দেখা যায়, কিন্তু তিনি কোনো স্কুল তৈরি করতে পারেননি।”

‘জুলাই আন্দোলনও ধারাবাহিকতার অংশ’

রাবি রেজিস্ট্রার বলেন, “আমাদের চিন্তা-চেতনা এক। ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালের মূল লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায়-ইনসাফপূর্ণ সমাজব্যবস্থা এবং আমাদের জাতিসত্তার মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা। জুলাই আন্দোলনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তাই আমাদের পেশাজীবীদের আরও সোচ্চার হতে হবে, যাতে এ দেশে আর কোনো স্বৈরাচারের জন্ম না হয়।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক দেশে বিভিন্ন ধরনের সংবিধান রয়েছে। এরপরও সেখানে উগ্রবাদী জনগোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে। এর কারণ আমাদের অনুসন্ধান করতে হবে। আজকে দেশের প্রধানমন্ত্রী মনে হচ্ছে একাই হয়ে গেছেন। বর্তমানে তিনি এমন এক ধরনের সহযোগী পেয়েছেন, যারা তাকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছেন।”

‘জুলাই বিপ্লবের তিনটি শর্তই পূরণ হয়েছিল’

সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাহ হোসাইন আহমদ মেহেদী বলেন, “আমরা জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত এটিকে গণঅভ্যুত্থান বলা হচ্ছে, বিপ্লব বলা হচ্ছে না। অথচ একটি বিপ্লবের তিনটি শর্ত থাকতে হয় এবং জুলাই বিপ্লবের চিত্রে সেই তিনটি শর্তই উঠে এসেছিল।”

তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছরের আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে তাদের মতের সঙ্গে না মিললেই মানুষকে রাজাকার, জঙ্গি কিংবা বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া হতো।”

ড. শাহ মেহেদী আরও বলেন, “জুলাই সনদে ২৬টি দল ঐকমত্য প্রকাশ করে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটে বিজয়ী মতামত বাস্তবায়ন হয়নি। তাই জুলাইয়ের ধারায় পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণসহ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আমাদের যথেষ্ট চেষ্টা থাকতে হবে।”

মূল প্রবন্ধে উঠে আসে রাষ্ট্র ও পেশাজীবীদের ভূমিকা

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন।

মূল প্রবন্ধে তিনি গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, ভোটাধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক সংকট এবং পেশাজীবী ও সাংবাদিকদের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরেন।

সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কেবল ক্ষমতার রদবদল ছিল না; বরং এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ। ছাত্র-জনতার সঙ্গে আইনজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের পেশাজীবীদের ইস্পাতকঠিন ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে।

বক্তারা আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে ভয়ের সংস্কৃতি ও গুমের অবসান ঘটেছে এবং বিচার বিভাগ, প্রশাসনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধ, অপপ্রচার (ডিসইনফরমেশন) ও ‘মব কালচার’ বন্ধ, পেশাজীবী সংগঠনের দলীয়করণ রোধ এবং সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

যারা উপস্থিত ছিলেন

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা. আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্তর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম, লেখক ও গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গবেষক সরদার আব্দুর রহমান, কথাসাহিত্যিক ড. নাজিব ওয়াদুদ, ড্যাব রাজশাহীর সভাপতি ডা. ওয়াসিম হোসেন এবং রাজশাহী এডিটরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব অপু।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।