ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ শুক্রবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। লেবাননে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসরাইলি বিমান হামলায় ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইল দাবি করেছে, তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক চুক্তির পর এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় যৌথ প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র দুই দিন আগে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে কেন্দ্র করে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠকের নতুন তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন টেলিফোনে কথা বলেছেন। লেবাননের প্রেসিডেন্ট দপ্তর জানায়, আউন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে হবে এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, আলোচনার সময় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী দফা আলোচনার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা হয়েছে, যা ২৩ থেকে ২৫ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কো রুবিও পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং লেবাননের ভূখণ্ডে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, ইসরাইল লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির পক্ষে, তবে এর জন্য হিজবুল্লাহকে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হামলা বন্ধ করতে হবে।
এদিকে এই সপ্তাহে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে সম্পন্ন হয়। চুক্তির লক্ষ্য ছিল চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো।
তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, শুক্রবার তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং সংগঠনটির বহু সদস্যকে হত্যা করেছে।