• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পল্টন ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিতের দাবীতে রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল জব্দ রাজশাহীতে নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগমারার পরিত্যক্ত গাওড়া বিল পরিষ্কারের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের আশা কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলের ২৭ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে এমপি আবু সাঈদ চাঁদের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে অনলাইন জুয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, ২ মোবাইল জব্দ রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

লোকসভাতেও ভাঙন চাপে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস

Reporter Name / ৭০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় পরিষদীয় দলের পর এ বার লোকসভাতেও ভাঙন ধরলো তৃণমূল কংগ্রেসের। কেননা, লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ছেড়ে যোগ দিলেন বিদ্রোহী শিবিরে। আর এর মধ্য দিয়ে বিধানসভার মতো লোকসভাতেও তৃণমূলের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারালেন মমতা।

বিধানসভার পর এবার লোকসভাও হাতছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। লোকসভায় ২৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল থেকে আলাদা হয়ে জোট গঠন করেছেন। সেই লক্ষ্যে এসব সাংসদের সমর্থনে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একটি চিঠি জমা দেয়া হয় লোকসভার স্পিকারের কার্যালয়ে। শুধু তাই নয়, তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে সমর্থন দেবে বলে জানায় দলের সাংসদ ডা. শর্মিলা সরকার। জানা গেছে, লোকসভা স্পিকারকে চিঠি পাঠানোর আগে দিল্লিতে বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গোপনে বৈঠকে বসেন এ বিদ্রোহী সাংসদরা।

এদিকে, অসন্তোষের ছাপ তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদদের মধ্যেও। এরিমধ্যে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দু শেখর রায়। পাশাপাশি দলের প্রাথমিক সদস্য পদও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের এ অবস্থার জন্য অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিদ্রোহী তৃণমূলের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দল নেতা বলেন, ‘সুখেন্দুদা যে কথাগুলো বলেছেন, সেই কথাগুলোর সঙ্গে আমরা একমত। তিনি সেই কথাগুলো বলে তিনি মনে করেছেন, তিনি সংসদ সদস্য থাকবেন না রাজ্যসভার, ইস্তফা দিয়েছেন। আমাদের লেজিসলেটিভ পার্টির যারা সদস্য আছেন, তাদের যে ইচ্ছা, সেই ইচ্ছার ঐক্য, একই ধরনের ইচ্ছা। সেই ইচ্ছার ঐক্য বোধহয় দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছেছে।’

এরই মধ্যে দিল্লিতে যখন তৃণমূলের এ অন্দরে ফাটল নিয়ে টানটান উত্তেজনা, ঠিক তখনই রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন কলকাতা পৌরসভার পদত্যাগী মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তবে ঠিক কি কারণে এসেছেন সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেন নি তিনি।

এদিকে দিল্লিতে যখন তৃণমূলের ভাঙন অব্যাহত, ঠিক তখনই বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া জোটে’র বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। এসময় মমতা, কংগ্র্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রেসিডেন্ট অখিলেশ যাদবের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের এমন অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করতে পিছপা হয় নি বিজেপি। তৃণমূলের এই ভাঙন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্যাবিনেট মন্ত্রী তাপস রায় বলেছেন, তৃণমূলের এই ভাঙন অব্যাহত থাকবে এবং এটাই দলটির ভবিষ্যৎ।

ধারণা করা হচ্ছে, মূলত দলে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার পাশাপাশি অভিষেকের আধিপত্যের কারণে আজ ভাঙনের দিকে এগোচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে নিজ দলের সদস্যদের সমস্যা না মিটিয়ে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক কতটুকু কাজে দেবে সময়ই তা বলে দেবে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।