• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পল্টন ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিতের দাবীতে রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল জব্দ রাজশাহীতে নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগমারার পরিত্যক্ত গাওড়া বিল পরিষ্কারের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের আশা কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলের ২৭ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে এমপি আবু সাঈদ চাঁদের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে অনলাইন জুয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, ২ মোবাইল জব্দ রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

দরিদ্র প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা চালুর কাজ শুরু

Reporter Name / ৭৪ Time View
Update : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সকল দরিদ্র প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈতনিক করতে কাজ শুরু করেছে সরকার।

স্বল্পমেয়াদী অর্থাৎ এক বছরে বাস্তবায়নযোগ্য সিদ্ধান্ত হিসেবে সব দরিদ্র প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর শিক্ষা অবৈতনিক করা, দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক (আইসিটি), সহকারি শিক্ষক (হিন্দুধর্ম) এবং সহকারি শিক্ষক( গ্রন্থাগারিক) পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি ডোমেইন ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ৩ মে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বরিশাল, ফরিদপুর ও বরগুনার জেলা প্রশাসক এসব প্রস্তাব দেন। দরিদ্র প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অবৈতনিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার প্রস্তাব এসেছে বরিশালের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শিক্ষা সচিবকে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্বল্পমেয়াদী (এক বছরে বাস্তবায়ন যোগ্য), মধ্য মেয়াদী (তিন বছরে বাস্তবায়নযোগ্য) ও দীর্ঘ মেয়াদে (পাঁচ বছরে বাস্তবায়নযোগ্য) মোট ১২টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষা সচিবকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে  নির্দেশনা  দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে প্রায় ৮১ হাজার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নিয়মিত উপবৃত্তি পায়।
প্রাথমিক স্তরে  ৯শ’ টাকা, মাধ্যমিক ও উ”চ-মাধ্যমিক স্তরে ৯শ’ ৫০ টাকা, উ”চতর স্তরে ১ হাজার ৩শ’ টাকা করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জাতীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জরিপ অনুযায়ী, ৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের স্তরভিত্তিক শিক্ষার হারপ্রাথমিক শিক্ষা: ৫৩%, মাধ্যমিক শিক্ষা: ৩৭.৪৭% ও উ”চশিক্ষা: ৯.৫১%।

আগামী ৩ বছরের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে অর্থাৎ মধ্য মেয়াদে স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি এসেছে জামালপুর ও ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে।

এছাড়া নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে অ্যাগ্রোভিত্তিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক। এছাড়া ‘ দ্যা পাবলিক এক্সামিনেশন (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০-এর ধারা ২)-এ পাবলিক এক্সামিনেশনের সংজ্ঞাসহ ৮ ও ৯ এ বর্ণিত শাস্তির পরিমার্জন করতে হবে। পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক এটি পরিমার্জনের দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুর জেলায় একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ফরিদপুরের ডিসি। পিরোজপুরের ডিসি প্রস্তাব দিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নিজস্ব ক্যাম্পাস স্থাপনের ।

এদিকে, জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের  উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করেছেন নীলফামারীর ডিসি।
বগুড়া জেলার ডিসি জেলায় একটি কৃষি কলেজ স্থাপনের  কথা বলেছেন।  হাতিয়া উপজেলাধীন নিঝুমদ্বীপে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন  করতে হবে বলে জানিয়েছেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠপ্রশাসন অধিশাখার উপ-সচিব মো. মামুন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে  (বাসস) বলেন,‘ ডিসি সম্মেলনে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা বই আকারে বের করার কাজ করছে বিজি প্রেস। আর সেসব বই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি দিয়ে তাদের করণীয় জানানো হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নপূর্বক অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে।’

প্রতিবছরই মাঠপ্রশাসন ও কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের কাজের সমন্বয় করতে অনুষ্ঠিত হয় জেলা প্রশাসক সম্মেলন বা ডিসি সম্মেলন। এবছর গত ৩ থেকে ৬ মে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে  মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন এবং এতে মোট ৩৪টি অধিবেশনে ৪৯৭টি প্রস্তাব নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ডিসিদের আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।