• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পল্টন ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিতের দাবীতে রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল জব্দ রাজশাহীতে নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগমারার পরিত্যক্ত গাওড়া বিল পরিষ্কারের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের আশা কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলের ২৭ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে এমপি আবু সাঈদ চাঁদের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে অনলাইন জুয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, ২ মোবাইল জব্দ রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

মির্জা ফখরুল বলেন জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে হবে বিএনপির নেতাকর্মীদের

Reporter Name / ৫১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনে জনগণ বিএনপি ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আস্থা রেখেছেন। তাই বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। তাদেরকে জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে হবে।

গতকাল (বুধবার, ৪ জুন) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী উপজেলা পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পতন এটা প্রমাণ করেছে, ধমকিয়ে ও পিটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে ভালো কাজের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পতিত সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে তাদের দলবল নিয়ে এমনভাবে পালিয়ে যেতে হয়েছে যে, ইচ্ছে করলেও তারা আর ফিরতে পারছে না। বিএনপি সেটা চায় না। বিএনপি চায় সুন্দর, সুস্থ ও সহনশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আমরা উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমাদের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু এখন আমরা সে সময় পার করে এসেছি। এখন আমরা বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারি। তারা চেয়েছিলো ধমকিয়ে ও পিটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে। কিন্তু ধমকিয়ে ও পিটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না।’

 

তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনের সময় একটা রাজনৈতিক দল এমন অপপ্রচারের আবহাওয়া সৃষ্টি করেছিলো, যেন বিএনপি শেষ হয়ে গেছে, তারেক রহমান নাই হয়ে গেছেন। কিন্তু সব গুজব মিথ্যা প্রমাণ করে জনসাধারণ বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী করেছে।’

পতিত সরকারের অপকর্ম ও গণতন্ত্র ধ্বংসের নানা বিষয় তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে, ব্যাংক রিজার্ভ খালি করে রেখে গেছে, অর্থনীতিকে দেউলিয়া করে রেখে গেছে। সেখান থেকে এই অর্থনীতিকে উন্নতির শিখড়ে নিতে আমাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। এটা কোনো সহজ কাজ নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান কোনটিই ভুলে যাওয়ার মতো নয়। কারণ এগুলোর মধ্য দিয়েই কিন্তু আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।’

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতায় এসেছি মানে আপনাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। আপনারা ভালো কাজের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করুন। তাহলে সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়নে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে রুহিয়া ও ভূল্লীকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওবাসীর বহুল প্রত্যাশিত মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে এবং পরিত্যক্ত বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, যেমন- মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের উন্নয়নসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অন্যান্য নেতারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।