• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পল্টন ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিতের দাবীতে রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল জব্দ রাজশাহীতে নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগমারার পরিত্যক্ত গাওড়া বিল পরিষ্কারের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের আশা কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলের ২৭ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে এমপি আবু সাঈদ চাঁদের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে অনলাইন জুয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, ২ মোবাইল জব্দ রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

জনগণ ঘুমিয়ে থাকার সময়ে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে : ডা. শফিকুর রহমান

Reporter Name / ৩৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়িয়ে জনগণের উপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার ফাহিমার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গত মাসে ১২ শতাংশ দাম বাড়ানো হলো। একমাসের ব্যবধানে আবারো দাম বাড়ানো হলো। উপরন্তু জনগণ যখন ঘুমিয়ে, তখন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এটা ভাল কাজ না, ভাল কাজ হলে দিনের বেলা করতেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিশুর ম রামিশার ন্যায় ফাহিমার বিচারও ১৫ দিনেধ্যে হবে, প্রধানমন্ত্রী এমন ঘোষণা দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। তিনি বলেন, ফাহিমার বিচারও ১৫ দিনের মধ্যে হওয়ার ঘোষণা দিলে এরজন্য তিনি অবশ্যই দোয়া পাবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর আনুগত্যকরণ অনুসরণ করব। আর এখানকার মন্ত্রী (সিলেট-১ আসন) তিনিও ঘোষণা দেবেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফাহিমারও বিচার হবে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা রামিসার বাবাকে বলেছিল, তিনি বিচার চান কিনা? তিনি বলেছিলেন, কার কাছে বিচার চাইব। তিনি অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন, কেননা বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর মানুষের আস্থা নেই। আস্থা থাকলে তিনি একথা বলতেন না। আমরা সেই বাবাকেও কথা দিয়ে এসেছি, আপনার পাশে আছি, থাকব। বাংলাদেশের মানুষ যেখানেই মজলুম হবে, সেখানেই আমরা হাজির হব। আমরা মানে জামায়াত একবুক দরদ নিয়ে হাজির হব। আমরা দেখব না, মজলুম কোন দলের বা ধর্মের। আমরা সেটা দেখব না।

তিনি আরও বলেন, আমরা লোক দেখানো কিছুই করতে চাই না। কেবল বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমরা বিপদ দূর করতে পারব না, তবে কষ্টের ভার নিতে পারব।এলাকাবাসীর কাছে ফাহিমার পরিবারকে আমানত হিসেবে রেখে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইনগত দিক থেকে আদালতে তাদের পক্ষে আমরা সর্বোচ্চটা করব। এটা একটি অসম লড়াই। এই অসম লড়াইয়ে এলাকাবাসী তাদের পক্ষ নিলে তারা জিতবে, ইনশাহআল্লাহ। আমরা চাই, আর কোনো মায়ের যেন চোখের পানি না ফেলতে হয়।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা নিয়ে প্রথমে আমি কথা বলেছি, টাইমলাইনে গিয়ে খুঁজলে পাবেন। আমি স্পষ্টই বলেছি, এটা জনগণের ওপর সুবিচার করা হয়নি। গত মাসে ১২ শতাংশ দাম বাড়ানো হলো। একমাসের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানো হল। আর যদি করতেই হয়, সামনে বাজেট অধিবেশন ছিল, সেটা নিয়ে বসে আলোচনা করা যেতো, নয়তো তেলের ক্রাইসিস মোকাবেলায় কমিটি ছিল, আলোচনা করা যেতো। সরকারও বাধ্য হতো, ন্যায্যতার ভিত্তিতে একটা সিদ্ধান্ত হতো। যুৎসই না হলে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতাম। বরং তড়িঘড়ি করে পাশ কাটিয়ে এই কাজ করেছেন, এটা জনগণের সাথে প্রতারণা। এটা জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্টের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। আলাপ করে বললে জনগণও বুঝতো কতটুকু করা দরকার।

হাম উপসর্গে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের বয়স ৩ মাস হয়েছে, তারা কী করছে। অন্তর্বর্তী সরকার টিকা কিনে না থাকলে, এর ব্যাখ্যা ওরা দেবে। উনারা ৩ মাসে কি করেছেন, তার ব্যাখ্যাও দিক। উনারাতো হঠাৎ করে ঘুম থেকে ওঠেননি। উনারা দায়িত্বে আসার আগেই হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। এর মাঝেই কাভারেজ দেওয়া দরকার ছিল, সেটা যদি দিয়ে থাকেন, আলহামদুলিল্লাহ।

তিনি বলেন, অনেক বাচ্চা হামের টিকা সবই নিয়েছে, তার হাম হলেও হালকা গ্রেডে হচ্ছে। কিন্তু যারা টিকা পায়নি, তারা হাম হওয়ার সাথে সাথেই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছে। দায় কার আছে, এটাও সংসদে জানতে চাইব।

তেলের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তেলের কোনো মজুতের অভাব নাই। আগে থেকে প্রতিদিন বিক্রি হয় বেশি। এরপর আমরা রাস্তায় নেমে দোকানিদের জিজ্ঞেস করলাম-চিত্র পেলাম সম্পূর্ণ ভিন্ন। সংসদে যখন চেপে ধরলাম, তখন তারা স্বীকার করতে বাধ্য হলেন, যে তেল সংকট আছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মুখে মুখে সব, আসলে কিছুই নেই। সব সোনা আর ডায়মন্ডের মোহর ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মূলত যা বাস্তব আছে, তাই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। তখন সবাই মিলে আমরা সমাধানের পথ খুঁজব, কীভাবে সমস্যা থেকে উত্তরণ হওয়া যায়। দেশ এবং জাতির পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব সরকারের একার নয়। সরকারের প্রধান দায়িত্ব, পাশাপাশি বিরোধী দলের তথা আমাদেরও দায়িত্ব আছে। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে চাই। কেউ আমাদের সেই অধিকার না দিলেও আমরা আদায় করে ছাড়ব।

এর আগে ডাক্তার শফিকুর রহমান শিশু ফাহিমার বাবা-মায়ের সাথে দেখা করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। এসময় তার সঙ্গে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাওলানা জুবায়ের আহমদসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।