• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পল্টন ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিতের দাবীতে রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল জব্দ রাজশাহীতে নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগমারার পরিত্যক্ত গাওড়া বিল পরিষ্কারের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের আশা কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলের ২৭ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে এমপি আবু সাঈদ চাঁদের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে অনলাইন জুয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, ২ মোবাইল জব্দ রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহীতে প্রচণ্ড গরমে তালের শাঁসের চাহিদা বেড়েছে

Reporter Name / ৪০ Time View
Update : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ মহানগর ও আশেপাশের উপজেলাগুলোতে  জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে জনজীবন। প্রখর রোদের কারণে সৃষ্ট এই অস্বস্তিকর গরমে তৃষ্ণা মেটাতে মানুষ নির্ভর করছে প্রাকৃতিক খাদ্যের ওপর। গরমে তৃষ্ণা মেটাতে রাজশাহী মহানগরীর সর্বত্র এখন কদর বেড়েছে কচি তালের শাঁসের।

পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত হওয়ায় সব বয়সী মানুষের প্রথম পছন্দ এখন প্রকৃতির এই রসালো উপহার।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, রেল স্টেশন চত্বর, লক্ষ্মীপুর মোড়, ভদ্রা মোড়, কোর্ট চত্বর, তালাইমারী ও আলুপট্টিসহ নগরীর অলিগলিতে ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভ্যানে করে কচি তালের পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তীব্র গরমের কারণে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এসব দোকানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, গরম যত বাড়ছে, তালের শাঁসের চাহিদাও তত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

আকারভেদে প্রতিটি কচি তাল (যার ভেতরে ৩ থেকে ৪টি শাঁস থাকে) বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ টাকায়।

আবার অনেক জায়গায় প্রতি পিস শাঁস খুচরা ৫ থেকে ৮ টাকা দরেও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নগরীর সাহেববাজার এলাকায় তালের শাঁস কিনতে আসা সুরমা নামের এক পথচারী বলেন, বাইরে প্রচণ্ড রোদ আর ভ্যাপসা গরম। ডাবের দাম অনেক বেশি। ডাব এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সেই তুলনায় তালের শাঁস অনেক সাশ্রয়ী এবং এতে কোনো ভেজাল বা কেমিক্যাল থাকে না। এটি খেলে সহজেই তৃষ্ণা মেটে।

ব্যবসায়ী সাইফুল জানান, তারা খুব ভোরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বাঘা, চারঘাট, তানোর এবং পবা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে গাছচুক্তি কচি তাল সংগ্রহ করে মহানগরে নিয়ে আসেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পাইকারি বাজারে তালের দাম কিছুটা বেশি।

বাঘা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী শহিদুল জানান, গত বছর ১০০টি কাঁচা তাল ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় কেনা গেলেও, এবার তা কিনতে হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়। তার ওপর পরিবহন খরচ যুক্ত হওয়ায় খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে সরবরাহ ও চাহিদায় কোনো কমতি নেই।

চিকিৎসকদের মতে, কচি তালের শাঁসের প্রায় ৯০ শতাংশই জলীয় অংশ, যা তীব্র গরমে দ্রুত শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ভিটামিন ‘সি’। যা লিভার সুরক্ষিত রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যা দূর করে। তবে চিকিৎসকেরা ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে কেটে রাখা শাঁস না খেয়ে, সরাসরি চোখের সামনে কেটে তা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে দিনে দুই থেকে তিনটির বেশি তালের শাঁস খাওয়া উচিত নয়। এতে হজমের সমস্যা হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও তীব্র তাপ প্রবাহের এই সময়ে একদিকে যেমন তালের শাঁস মানুষের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে এই মৌসুমি ফল বিক্রি করে রাজশাহীর কয়েক শ’ প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকার নতুন পথ তৈরি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।