• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পল্টন ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিতের দাবীতে রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল জব্দ রাজশাহীতে নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগমারার পরিত্যক্ত গাওড়া বিল পরিষ্কারের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের আশা কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলের ২৭ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে এমপি আবু সাঈদ চাঁদের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে অনলাইন জুয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, ২ মোবাইল জব্দ রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে খাট-বিছানা ও রান্নাঘর

Reporter Name / ৩৯ Time View
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কালারাই বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কক্ষ দখল করে রীতিমতো রান্নাবান্না ও বসবাসের সাম্রাজ্য গড়ে তোলার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চমৎকার পরিচ্ছন্নতা, নান্দনিক পরিবেশ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য বিদ্যালয়টি এলাকায় বেশ প্রশংসিত। সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস, পরিপাটি শ্রেণিকক্ষ, বর্ণিল ফুলের বাগান ও গোছানো পরিবেশের কারণে এটি সীমান্ত এলাকার অন্যতম সেরা দৃষ্টিনন্দন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ, আধুনিক আসবাবপত্র, শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চ এবং বই সংরক্ষণের সুব্যবস্থাও রয়েছে এখানে।

তবে এই সুন্দর পরিবেশের আড়ালেই সম্প্রতি ঘটে গেছে এক নজিরবিহীন ঘটনা। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের বেঞ্চ সরিয়ে সেখানে খাট, বিছানা ও রান্নার সরঞ্জামসহ ব্যক্তিগত নানাবিধ সামগ্রী রাখা হয়েছে। মাঝেমধ্যেই সেখানে বহিরাগত লোকজনের আনাগোনা ও অবস্থানও লক্ষ্য করা গেছে।

একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে বিদ্যালয়টি এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল, সেখানে এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ এভাবে ব্যক্তিগত বসবাসের কাজে ব্যবহার করা শিক্ষা পরিবেশের চরম অবমাননা। এতে বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তারা অবিলম্বে শ্রেণিকক্ষটি থেকে ব্যক্তিগত সামগ্রী অপসারণ করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনমুন বণিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা তার ছোট সন্তানের দেখাশোনার জন্য সাময়িকভাবে ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন। শিশুর দেখভালের জন্য একজন গৃহকর্মীও সেখানে রাখা হয়েছিল। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কক্ষটি সম্পূর্ণ খালি করে আগের পাঠদানের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর জানান, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং তা শিক্ষা পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।