• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহীতে মাদকসেবনের দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ১০৫ রানে ফিরলেন সাদমান পল্টন ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিতের দাবীতে রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল জব্দ রাজশাহীতে নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগমারার পরিত্যক্ত গাওড়া বিল পরিষ্কারের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের আশা কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলের ২৭ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে এমপি আবু সাঈদ চাঁদের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে অনলাইন জুয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, ২ মোবাইল জব্দ

সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

Reporter Name / ৩৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় হাম ও রুবেলার সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে জনস্বাস্থ্য মহলে। একই সঙ্গে বাড়ছে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও।

সোমবার (৪ মে) রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে সিলেটে হাম-সংক্রান্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হাম উপসর্গে মারা গেছেন ১৫ জন এবং নিশ্চিতভাবে হাম রোগে মারা গেছেন আরও ৩ জন।

মৃত দুই শিশু হলো— সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সরতীশ এলাকার আব্দুল আকিকের ৬ মাস বয়সী শিশু ওমর এবং সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দরপুর গ্রামের টুটুল সরকারের ৫ মাস বয়সী ছেলে প্রিয়ম সরকার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম। তিনি জানান, সন্দেহজনক হাম উপসর্গ নিয়ে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৩ রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং নতুন করে একজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হাম ও রুবেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৮ জনে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ৮ জন (যার মধ্যে ২ জন রুবেলায় আক্রান্ত), মৌলভীবাজারে ১৬ জন, সুনামগঞ্জে ৬৪ জন এবং সিলেট জেলায় ৪০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৩ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩৯ জন, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ৬ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫ জন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৬ জন ভর্তি রয়েছেন।

বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২০০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৮৩ জন, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন এবং উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ৬ জনসহ অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে বাকিরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমানো যায়।

ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনায় সিলেট বিভাগে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।