• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহীতে মাদকসেবনের দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ১০৫ রানে ফিরলেন সাদমান পল্টন ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিতের দাবীতে রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল জব্দ রাজশাহীতে নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগমারার পরিত্যক্ত গাওড়া বিল পরিষ্কারের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের আশা কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলের ২৭ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে এমপি আবু সাঈদ চাঁদের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে অনলাইন জুয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, ২ মোবাইল জব্দ

পশ্চিমবঙ্গে এগিয়ে আছে বিজেপি

Reporter Name / ৪৮ Time View
Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ সোমবার সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে ভোটগণনা। মোটামুটি দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে আগামী পাঁচ বছর পশ্চিমবঙ্গ থাকবে কার হাতে।

নীলবাড়ি নবান্নের ১৪ তলায় প্রত্যাবর্তন হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? না কি দেড় দশক পরে আবার ‘পরিবর্তন’ দেখবে পশ্চিমবঙ্গ? যে পরিবর্তনের ফলে প্রশাসন আবার নিয়ন্ত্রিত হবে লালদিঘির পাড়ের লালবাড়ি থেকে?

তবে, ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সকাল ১০ নাগাদ ভোট গণনার ফলাফলে এগিয়ে আছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১৫৯টি আসনে এগিয়ে আছে বিজেপি, আর ১১৮টি আসনে এগিয়ে আছে তৃণমূল।

গত ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। তার পরে দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয় দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলার ১৪২টি আসনে। ২৯৪টি আসনের ভোটগ্রহণ হয়ে গেলেও সোমবার ভোটগণনা হচ্ছে ২৯৩টি কেন্দ্রের।

কারণ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনে নির্বাচনে ‘অনিয়মের অভিযোগে’ গোটা ভোটই বাতিল বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২১ মে ফলতায় নতুন করে ভোটগ্রহণ হবে। ২৪ মে হবে সেই ভোটের গণনা। যখন সেই ভোট হবে, তখন পশ্চিমবঙ্গ পরিচালনা করবে নির্বাচিত নতুন সরকার।

মোট আসন ২৯৪ থেকে কমে ২৯৩ হয়ে যাওয়ায় সরকার গঠনের জাদুসংখ্যাও একটি কমেছে। সরকার গড়তে হলে আগে পেতে হত ১৪৮টি আসন। এখন পেতে হবে ১৪৭টি।

প্রথম দফায় যে ভোটগ্রহণ হয়েছিল, তার বেশির ভাগ জেলা বিজেপির ‘শক্ত ঘাঁটি’ বলে পরিচিত। আবার দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছিল তৃণমূলের ‘দুর্গ’ বলে পরিচিত দক্ষিণবঙ্গে।

কে কার দুর্গে ফাটল ধরাবে বা আদৌ ধরাতে পারল কি না, সোমবার তা বোঝা যাবে। ফলাফল নিয়ে দুই শিবিরই ‘আত্মবিশ্বাসী’। দুই শিবিরের তরফেই দাবি এবং পাল্টা দাবি রয়েছে।

দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হতেই বিভিন্ন সংস্থা যে বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করেছিল, তার বেশির ভাগেই ইঙ্গিত মিলেছিল রাজ্যে ‘পরিবর্তন’ হতে চলেছে। ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। পাল্টা তৃণমূল দাবি করেছে, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের ভোটেও বুথফেরত সমীক্ষা মেলেনি। এ বারও মিলবে না।

এসআইআর-এর কারণে এবার মোট ভোটারের সংখ্যা অনেকটা কমে যাওয়ায় প্রত্যাশিত ভাবেই ভোটদানের হার বেড়েছে। কিন্তু সরল পাটিগণিতের বাইরেও এবার ভোটদাতার সংখ্যা ২০২১-এর তুলনায় ৩০ লক্ষেরও বেশি।

ফলে দু’য়ে মিলিয়ে ভোটদানের হার রেকর্ড গড়ে ফেলেছে। সেই ভোটের অভিমুখ কোন দিকে, তৃণমূলের দিকে থাকা সংখ্যালঘু ভোটের সমর্থনে ফাটল ধরেছে কি না, হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ ভাবে বিজেপির দিকে গিয়েছে কি না বা বিপুল সংখ্যক মহিলা ভোট গিয়েছে কোন দিকে, এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে নানা বিশ্লেষণ চলেছে। সোমবার দুপুরের পরে স্পষ্ট হয়ে যাবে পশ্চিমবঙ্গ কেমন পরীক্ষা দিয়েছে।

২০২৬ সালের ভোটে সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র ভবানীপুর। যা এ বারের ভোটের ‘নন্দীগ্রাম’ হয়ে উঠেছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারীর লড়াই হয়েছিল। জিতেছিলেন শুভেন্দু। এবার ভবানীপুরে দু’জনের সম্মুখসমর।

তবে নন্দীগ্রামের থেকে ভবানীপুর গুণগত ভাবে এগিয়ে। তার কারণ, পাঁচ বছর আগের লড়াই ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে বিজেপি নেতা শুভেন্দুর লড়াই। কিন্তু ভবানীপুরে লড়াই মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিরোধী দলনেতার। যা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঘটেনি। সেই কারণেই, সারা রাজ্যের সঙ্গে পৃথক ভাবে সকলের নজর থাকবে দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের দিকে। সেখানেই হবে ভবানীপুরের ভোটগণনা।

এ বারের ভোটে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গোড়া থেকেই আলোচনা ছিল। বস্তুত, ভোট এপ্রিলে হলেও গত নভেম্বর থেকেই এসআইআর-এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ভোট শুরু হয়ে গিয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ের নজিরবিহীন ভোট দেখেছে এই রাজ্য। সেই অর্থে বড় কোনও গোলমাল, বোমাবাজি, বুথদখল, ছাপ্পা, হানাহানি হয়নি। সব পক্ষই মেনে নিয়েছে, মানুষ তাদের ভোট দিয়েছেন। তবে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষকে ‘বিনা বিচারে’ ভোটের বাইরে রাখা নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছে কমিশন।

ফলাফলের আগে যদিও জনমানসে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা রয়েছে। কারণ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্মৃতিতে এখনও টাটকা ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের রক্তাক্ত স্মৃতি।

এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে যুযুধান দুই শিবিরের নেতাদের ধারাবাহিক আগ্রাসী বক্তব্য। বিজেপির তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেমন হিসাব করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রচারে, তেমন অমিত শাহ বলেছিলেন, যারা অত্যাচার করেছে, তাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।

আবার তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও বলেছেন, রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে বাজবে, কখনও বলেছেন ঝান্ডার সঙ্গে ডান্ডাটাও শক্ত রাখতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতেও ভোটগণনা হচ্ছে সোমবার।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।