• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি ২২ বছর পর রাজশাহীতে যাচ্ছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা নির্বাচনি প্রচারণায় আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন ১২ তারিখের নির্বাচন জাতির টার্নিং পয়েন্ট : শফিকুর রহমান

রাজশাহী মিডিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন টেলিভিশন ক্যাপিটালস

Reporter Name / ৪৩ Time View
Update : রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ রাজশাহীতে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বহুল প্রতীক্ষিত মিডিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে নাটকীয় ও দাপুটে জয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠেছে টেলিভিশন ক্যাপিটালসের মাথায়।

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে নগরীর রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে বেতার ওয়ারিয়র্সকে ৯ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে দলটি। ফাইনালের শুরু থেকেই মাঠে ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটের ছাপ। টেলিভিশন ক্যাপিটালস ও বেতার ওয়ারিয়র্সের মুখোমুখি লড়াই যেন পুরো টুর্নামেন্টের উত্তাপ এক ম্যাচেই উজাড় করে দেয়। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বেতার ওয়ারিয়র্স শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। ক্যাপিটালসের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আক্রমণের সামনে তারা ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে। নির্ধারিত ১০ ওভারে দলটির সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ৭১ রানে। ইনিংসের কোনো পর্যায়েই বড় জুটি গড়তে না পারায় প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে ব্যর্থ হয় বেতার ওয়ারিয়র্স।
জবাবে লক্ষ্য তাড়ায় নামা টেলিভিশন ক্যাপিটালস শুরু থেকেই পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ের পরিচয় দেয়। ওপেনাররা ধৈর্য ধরে ইনিংস সাজান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রান তুলতে থাকেন। মাঝের ওভারগুলোতে ঝুঁকিমুক্ত ক্রিকেট খেলে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন তারা। বোলারদের ওপর অযথা চাপ না নিয়ে হিসেবি ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ৭ ওভারের মধ্যেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দলটি। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটের দাপুটে জয় নিশ্চিত করে উল্লাসে মাতে টেলিভিশন ক্যাপিটালস শিবির। জয়ের মুহূর্তে মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস ও করতালির ঝড়। খেলোয়াড়দের উল্লাস, সতীর্থদের অভিনন্দন আর সমর্থকদের আনন্দঘন চিৎকারে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। ফাইনালের এই সাফল্য শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, বরং পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেরই প্রতিফলন- এমনটাই মনে করছেন উপস্থিত ক্রীড়া-অনুরাগীরা।

খেলা শেষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা. আব্দুল আউয়াল। সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্তর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিন শওকত, রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ও রাজশাহী-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী ডা মো. জাহাঙ্গীর, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, মহানগর জামায়াতের ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাহবুবুল আহসান বুলবুল, রাজশাহী-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। অতিথিরা টুর্নামেন্টের আয়োজন, শৃঙ্খলা ও খেলোয়াড়দের সৌহার্দ্যপূর্ণ অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা. আব্দুল আউয়াল বলেন, রাজশাহীতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়ন এবং পেশাগত ঐক্য জোরদার করতেই এই মিডিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে সাংবাদিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও দলগত চেতনা তৈরি হয়, যা পেশাগত দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, মাঠের এই সৌহার্দ্য বাস্তব কর্মক্ষেত্রেও ঐক্য ও সহযোগিতার প্রতিফলন ঘটাবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা যাতে কোনো সংকটে একা না থাকেন, সে বিষয়ে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন সবসময় সদস্যদের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, দুই দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে রাজশাহীতে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করে। নকআউট ভিত্তিতে আয়োজিত প্রথম দিনের ম্যাচগুলোতে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, নাটকীয়তা ও উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত। ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়েই পর্দা নামলো সাংবাদিকদের এই বহুল আলোচিত ও প্রতিযোগিতামূলক মিডিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের—যার স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে জাগরুক থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।