• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি ২২ বছর পর রাজশাহীতে যাচ্ছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা নির্বাচনি প্রচারণায় আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন

বিভাগীয় আন্তঃকলেজ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ

Reporter Name / ৬৪ Time View
Update : সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ রাজশাহী বিভাগীয় আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে নাটোরের বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ চ্যাম্পিয়নের শিরোপা জয় করেছে। দর্শকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, নাটকীয় গোল, লাল কার্ড ও ট্রাইবেকারের রোমাঞ্চ—সব মিলিয়ে ফাইনাল ম্যাচটি পরিণত হয় এক স্মরণীয় ফুটবল লড়াইয়ে।

আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের মুখোমুখি হয় নাটোরেরই সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর থেকেই দুই দল আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে খেলায় গতি আনে। মাঝমাঠে বলের দখল নিয়ে চলে তীব্র লড়াই। শুরু থেকেই গ্যালারিভর্তি দর্শকদের উল্লাসে মুখর থাকে স্টেডিয়াম।

ম্যাচের শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ছাপ রাখে বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ। দ্রুতগতির উইং আক্রমণ ও নিখুঁত ছোট পাসে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমার্ধের সপ্তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় দলটি। সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে ১৫ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় আমানুল্লাহ নিখুঁত শটে জাল কাঁপান। প্রথম গোলেই ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

খেলার ১৬ মিনিটের মাথায় হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মাঠের পরিস্থিতি। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ম্যাচ রেফারি মোসাদ্দেকুল কুদ্দুস দুই দলের দুই খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখান। সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩ নম্বর জার্সিধারী রিফাত হোসেন এবং বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের ৭ নম্বর জার্সিধারী শুভ মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এতে উভয় দলই দশজন খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচ চালিয়ে যায়।

লাল কার্ডের ধাক্কা সামলেও বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ আক্রমণের ধার কমায়নি। প্রথমার্ধের ২৭ মিনিটে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন ৪ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় রাকিবুল। তার শক্তিশালী শট গোলরক্ষকের হাত ফসকে জালে জড়িয়ে যায়। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রথমার্ধ শেষ করে বিলচলন কলেজ।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামে সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। মাঝমাঠে চাপ বাড়িয়ে তারা একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। এর ফল মেলে ৫৩ মিনিটে। দলের ১০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় ফাহাদ হোসেন একটি দৃষ্টিনন্দন গোল করে ব্যবধান কমান। গোলের পর ম্যাচে নতুন করে প্রাণ ফিরে আসে। এরপর ৫৯ মিনিটের মাথায় নাটকীয়ভাবে সমতায় ফেরে সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। দলের ১২ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় আবদুল্লাহ বিন কাফি সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। নির্ধারিত ৬০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ২-২ গোলের সমতায়। দর্শকদের উল্লাসে স্টেডিয়াম তখন উত্তাল। ম্যাচের ফল নির্ধারণে আশ্রয় নিতে হয় ট্রাইবেকারের। স্নায়ুচাপের এই মুহূর্তে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের গোলকিপার। প্রতিপক্ষের একাধিক শট ঠেকিয়ে তিনি দলের জয়ের পথ সুগম করেন। শেষ পর্যন্ত ট্রাইবেকারে জয় নিশ্চিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয় বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ।

রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিসের উদ্যোগে এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার মোট ১৬টি কলেজ দল অংশগ্রহণ করে। নকআউট পদ্ধতিতে আয়োজিত প্রতিযোগিতার প্রতিটি ম্যাচেই ছিল জমজমাট লড়াই। ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। এ সময় তিনি তরুণদের খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সবুর আলী, টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, ক্রীড়া পরিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক আখতারুজ্জামান রেজা তালুকদার রুমি, নাটোরের জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য ও মানবজমিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ডালিম হোসেন শান্তসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ধারাভাষ্যকার হিসেবে ছিলেন, আব্দুর রোকন মাসুম, আব্দুল হানিফ মিয়া, সিরাজী ফেরদৌস, জাহিদুল ইসলাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।