• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে ইসিতে ১১ নারী সংগঠন ক্ষমতায় গেলে নাহিদকে মন্ত্রী করা হবে: জামায়াত আমির ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টায় শেষ হচ্ছে নির্বাচনি প্রচারণা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু, অচল চট্টগ্রাম বন্দর রাজার ছেলে রাজা হবে, এ রাজনীতি আমরা ভেঙে দিতে চাই: শফিকুর রহমান ক্ষমতায় গেলে এ দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দেয়া হবে: জামায়াত আমির একটি দল ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে: হাসনাত আবদুল্লাহ পুলিশের তাণ্ডব নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের আভাস: মঞ্জু যমুনা এলাকায় সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়নি: ডিএমপি ইনকিলাব মঞ্চের জাবের ও রাকসুর জিএসসহ আহত অন্তত ২৩

বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সনদ সংগ্রহ আরও সহজ হবে

Reporter Name / ১৩৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪

বিদেশে পড়তে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থী বা ব্যবসা করতে আগ্রহী ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ধরনের সনদ সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া সহজ করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ চালু হওয়া নতুন নিয়মে শিক্ষা, ব্যবসা ও অন্যান্য আইনি সনদ, যা বিদেশে প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলোর সংগ্রহ প্রক্রিয়া সহজ হয়ে যাবে।

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের তাদের শিক্ষাসনদ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করতে হয়। এরপর যে দেশে তারা যেতে আগ্রহী ওইসব দেশের দূতাবাস বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সেটি আবার সত্যায়িত করার পরে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা দিলে সেটি গ্রহণ করা হয়। একই বিষয় প্রযোজ্য ব্যবসায়ীদের জন্যও। তাদের বিভিন্ন বাণিজ্যিক সনদ যেমন- ট্রেড লাইসেন্স বা মেমোরান্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন দেশে সত্যায়িত করার পরে বিদেশি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সত্যায়িত করতে হয়।

এ প্রক্রিয়াটি সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ এবং অনেক ক্ষেত্রে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। গোটা প্রক্রিয়াটি সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সবকিছু ঠিক থাকলে বছরের শেষ নাগাদ শুধু দেশীয় অনুমোদন সংগ্রহ করলেই সেটি বিদেশে গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে সোমবার (২০ মে) কেবিনেট বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘বিদেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ডকুমেন্ট দেশে সত্যায়িত করার পরে সেটি আবার বিদেশি দূতাবাস বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সত্যায়িত করার প্রযোজন হয়। আমরা গোটা প্রক্রিয়াটি সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছি যাতে করে যারা সেবা নিতে আসবে তাদের ভোগান্তি বা হয়রানি না হয় এবং তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেবাটি পেয়ে যান।’

বিদেশি দূতাবাস থেকে সত্যায়িত করার প্রয়োজন হয় এমন ডকুমেন্টের মধ্যে রয়েছে শিক্ষাসনদ, বিবাহ সনদ, বাণিজ্যিক সনদসহ বিভিন্ন ধরনের কাগজ, তিনি জানান।

সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক দেশের দূতাবাস নেই। ফলে বাংলাদেশিদের ভারতে গিয়ে ওইসব দূতাবাসগুলোতে সনদ সত্যায়িত করতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।’

কীভাবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে

‘অ্যাপোসটাইল কনভেনশন, ১৯৬১’ নামে একটি কনভেনশন আছে। এর প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে সনদ সত্যায়িত করে থাকে, সেটি অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যেকোনও প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। ওই কনভেনশনে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে কেবিনেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার (২০ মে) তেজগাওঁয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তি‌নি ব‌লেন, বাংলাদেশ এতদিন এই কনভেনশনে সদস্য না থাকায় আমাদের অনেক ভোগান্তি হয়েছে। মন্ত্রিসভা খুবই ইতিবাচকবভাবে এটি গ্রহণ করেছেন। এটিতে সই করলে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিদে‌শ যাওয়ার ক্ষেত্রে এখন যে ভোগান্তি হয় সেটি আর হবে না এবং ব্যয় সাশ্রয়ও হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী বা কোনও ব্যক্তি যখন বিদেশে যান তখন অনেক ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন করতে হয়। শিক্ষা সংক্রান্ত সনদ হলে প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করে পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করতে হয়। এরপর যে দেশে যাবে সে দেশের দূতাবাস থেকেও সত্যায়িত করতে হয়। এরপর তা ওই দেশে কার্যকর হয়।

মাহবুব হোসেন বলেন, যেসব দেশের দূতাবাস বাংলাদেশে নেই দিল্লিতে গিয়ে ওইসব দেশের দূতাবাসে সনদ জমা দিয়ে সত্যায়িত করতে হয়। এতে বিরাট জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। ভোগা‌ন্তির শিকার হ‌তে হয়। এই কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্রগুলো নির্দিষ্ট ফরমেট অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সত্যায়িত বা ভেরিফাই করে দিলে এরপর আর ওই দেশের দূতাবাসে গিয়ে সত্যায়িত করতে হয় না। ফ‌লে, ১২৬টি দে‌শে যাওয়ার ক্ষেত্রে এখন যে ভোগান্তি হয় সেটি আর হবে না এবং ব্যয় সাশ্রয়ও হবে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বর্তমানে ১২৬টি দেশ এর সদস্য এবং তাদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, রাশিয়া, সৌদি আরবসহ প্রায় পৃথিবীর সব বড় রাষ্ট্র। আমরা এর সদস্য হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেসব সনদ সত্যায়িত করবে সেগুলো অন্য দেশের কর্তৃপক্ষের কাউন্টার সনদের প্রয়োজন হবে না।

এই কনভেনশনের সদর দফতর নেদারল্যান্ডে এবং আমরা এখন আমাদের যোগ দেওয়ার ইচ্ছার কথা তাদের জানানো পর তারা একটি নোটিফিকিশেন ইস্যু করলে বাংলাদেশ অ্যাপোসটাইল কনভেনশনের সদস্য হতে পারবে। নোটিফিকিশেন ইস্যু করতে সাধারণত ছয় মাস সময় লাগে বলে তিনি জানান।

আভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সনদ সত্যায়িত করার প্রক্রিয়টিও ডিজিটাল করা হবে এবং এজন্য আইসিটি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের যেসব মন্ত্রণালয় সত্যায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত যেমন শিক্ষা বা আইন মন্ত্রনালয় তাদের কার্যক্রম সমন্বয় করে একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হবে যাতে করে সেবাগ্রহনকারীরা সহজে সত্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।