• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে ইসিতে ১১ নারী সংগঠন ক্ষমতায় গেলে নাহিদকে মন্ত্রী করা হবে: জামায়াত আমির ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টায় শেষ হচ্ছে নির্বাচনি প্রচারণা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু, অচল চট্টগ্রাম বন্দর রাজার ছেলে রাজা হবে, এ রাজনীতি আমরা ভেঙে দিতে চাই: শফিকুর রহমান ক্ষমতায় গেলে এ দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দেয়া হবে: জামায়াত আমির একটি দল ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে: হাসনাত আবদুল্লাহ পুলিশের তাণ্ডব নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের আভাস: মঞ্জু যমুনা এলাকায় সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়নি: ডিএমপি ইনকিলাব মঞ্চের জাবের ও রাকসুর জিএসসহ আহত অন্তত ২৩

যা চলছে বেইলি রোডের ভবনটি ঘিরে

Reporter Name / ১৩০ Time View
Update : শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪

রাজধানীর বেইলি রোডে ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ নামে সাততলা ভবনটি একদিন আগেও ছিল আলো ঝলমলে। নানা ধরনের দোকানে ছিল ক্রেতা সমাগম। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে অগ্নিকাণ্ডে ভবনের পুরো চিত্র পাল্টে গেছে। ভবনটি এখন পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে, সামনে পড়ে আছে ভাঙা কাঁচ, আগুনে পোড়া কয়লা। ভবনটি ঘিরে এখন শুধু হাহাকার আর নীরবতা।

শনিবার (২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ওই ভবনের সামনে অবস্থান করে দেখা গেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভবনটি ঘিরে রেখেছে। ভবনের সামনে এখনও উৎসুক জনতার ভিড়। আজও ভবন পরিদর্শন করেছেন বিভিন্ন সংস্থার লোকজন। এছাড়া মারা যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজন, বন্ধুরা তাদের শেষ স্মৃতি নিয়ে কথা বলছেন ভবনের সামনে এসে। খোলা হয়েছে ভবনটির আশপাশের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানও। ঘটনার পর এলাকার লোকজনের মাঝে ভয়ভীতিও তৈরি হয়েছে বলে জানান অনেকে।

‘গ্রিন কোজি কটেজ’ ভবনের সামনে এখনও উৎসুক জনতার ভিড়। ছবি: প্রতিবেদক

ইংলিশ মিডিয়ামে পড়তেন তিন বন্ধু সাইফ আলী ওয়াজেদ, ফয়সাল রেজা রাতুল ও বিয়ানকা রয়। বৃহস্পতিবার রাতে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় একটি রেস্টুরেন্টে বিয়ানকা রয় মাকে নিয়ে খেতে গিয়েছিলে। নিচে আগুন লাগলে দ্বিতীয় তলা থেকে নামতে গিয়ে সিঁড়িতে আটকা পড়েন তারা। সেখানেই ধোঁয়ায় অচেতন হয়ে মারা যান।

ফয়সাল রেজা রাতুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে পড়তাম। আমার বন্ধু তার মাকে নিয়ে এখানে রাতে খেতে এসেছিল। আগুন লাগলে তারা নিচ পর্যন্ত আসতে পারেনি। সিঁড়িতে আটকা পড়ে মারা যায়। তাদের মরদেহ আজ সিলেটের হবিগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।’

ভবনটির সামনে রয়েছে ‘মি. বেকার’ নামে একটি দোকান। এক পাশের শার্টার খুলে দোকানটিতে বেচাকেনা করা হচ্ছে। দোকানের পরিচালক কাজী নাবিল বলেন, ‘ঘটনা ঘটার পর আমরা সচেতন হই, এর আগে না। আমাদের সামনের ভবনে এমন একটি ঘটনা ঘটলো। এসব দেখে নিজের মধ্যে ভয় কাজ করে।’

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘ভবনের নিচতলার খাবার দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু অভিযোগে একটি মামলা করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ মামলা করতে চাইলেও করতে পারবে। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভবনের মালিক থেকে শুরু করে যার দায় পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আজও ভবন পরিদর্শন করেছেন বিভিন্ন সংস্থার লোকজন। ছবি: প্রতিবেদক

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভবনের প্রথম তলায় ‘চায়ে চুমুক’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট ছিল। এছাড়া ছিল ‘গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার’, ‘স্যামসাং’, ‘শেখ হোলিক ও ওয়াফে বে’ নামে চারটি শোরুম। দ্বিতীয় তলার পুরোটাজুড়ে ছিল ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্ট। তৃতীয় তলায় ‘ইলিয়ন’ নামের একটি শোরুম। চতুর্থ তলায় ‘খানা’স’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট, পঞ্চম তলায় ‘পিৎজা হাট’, ষষ্ঠ তলায় ‘স্টিট ওভেন’ ও ‘জেস্টি’ নামে দুটি রেস্টুরেন্ট এবং সপ্তম তলায় ‘ফোকুস’ ও ‘হাক্কা ডাকা’ নামে দুটি রেস্টুরেন্ট ছিল। এছাড়া ভবনটির ছাদেও ‘অ্যাম্বোশিয়া’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট ছিল।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছেন। মৃতদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী এবং আট জন শিশু‌। নিহতদের মধ্যে ৪০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তাদের ৩৮ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মর্গে রয়েছে দুজনের লাশ। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বাকি ছয় জনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।