• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি ২২ বছর পর রাজশাহীতে যাচ্ছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা নির্বাচনি প্রচারণায় আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতে বই চুরিতে শাস্তি হতো, এখন নির্যাতনেও নয়

Reporter Name / ১৮৩ Time View
Update : শনিবার, ৪ মার্চ, ২০২৩

এই কমিটির সভা প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার হওয়ার কথা। কিন্তু সমস্যা হলো, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৪ বছরে শৃঙ্খলা কমিটির মাত্র দুটি সভা হয়েছে—২০১১ ও ২০১৬ সালে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করে জানা গেছে, ওই দুই সভায় চার জনের শাস্তি হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিককালে যাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছে, তাঁরা মূলত ছাত্রলীগের নেতা, কর্মী ও সমর্থক। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগ্রহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই। অথচ একসময় বই চুরির মতো অপরাধেও কড়া শাস্তি হতো।

যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির একটি সভা হয়েছিল ২০০১ সালের ২১ আগস্ট। ওই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে বই চুরির অপরাধে তিন শিক্ষার্থীর শাস্তি হয়। এর মধ্যে একজনের এক বছরের পরীক্ষা বাতিল ও এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। বাকি দুজনকে তিন হাজার করে টাকা জরিমানা করা হয়। একই সভায় শিক্ষককে টেলিফোনে বিরক্ত করা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

শৃঙ্খলা কমিটির ওই সভায় শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, শাস্তির কথা ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর স্বজনদের জানানো এবং পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা নিতে প্রক্টরের দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আর এখন!

এখন ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আসন–বাণিজ্যের ঘটনায়ও বিচার হয় না। ২০২১ ও ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটেছে ৩০টির বেশি। অন্তত ২৫টি ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। ১৩টি ঘটনা ঘিরে তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে ৮টির বেশি। তবে কোনো ঘটনায় ছাত্রলীগের কাউকে শাস্তির আওতায় আনতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

যেমন গত বছরের ১৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নির্যাতন করা হয় আল-আমিন নামের এক শিক্ষার্থীকে। তাঁর অভিযোগ, নির্যাতনের পর ছাত্রলীগের দুই নেতা তাঁর ডেবিট কার্ড থেকে ৪৫ হাজার টাকাও তুলে নেন। কিন্তু তিনি কোনো বিচার পাননি।

অবশ্য একটি ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এড়িয়ে যেতে পারেনি। সেটি হলো, ২০১৪ সালের আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীরের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া এবং প্রকৌশল দপ্তরের পিয়ন সুমন ও প্রহরী আবুল কাশেমকে মারধর করা। শৃঙ্খলা কমিটির সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, ওই ঘটনায় ২০১৬ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল হোসেন (তুহিন), সহসভাপতি তন্ময় আনন্দ (অভি) এবং শহীদ হবিবুর রহমান হল শাখা কমিটির সভাপতি মামুন-অর-রশিদকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

এটি ছিল ১৪ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির দুটি বৈঠকের একটি। ওই সময় শৃঙ্খলা কমিটিতে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনাটির ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছিল।

ঘটনার কিছুদিন আগে মূল অভিযুক্ত তৌহিদ আল হোসেনের অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়ার ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তিনি পদ্মা সেতুর জন্য টাকা তুলে ভাগাভাগি করেছিলেন। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছিল। এরপর প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করেছিলেন। ফলে প্রশাসনের শাস্তি দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

গত ১৪ বছরে শৃঙ্খলা কমিটির দুটি সভার আরেকটি হয়েছিল ২০১১ সালের ১৫ নভেম্বর। ওই সভায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে শাস্তি হিসেবে দুই বছর পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বিভাগের এক শিক্ষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির এখনকার সভাপতি উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার। এই কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন প্রক্টর আসাবুল হক। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে দুজন সহ-উপাচার্য, একজন ডিন ও একজন ছাত্র উপদেষ্টা রয়েছেন। এখনকার কমিটিতে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের অনুসারী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের রাজনীতি করে আসা।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সহ–উপাচার্য মো. সুলতান-উল-ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কমিটির সভা প্রতি ছয় মাসে একটি হওয়ার কথা। তবে প্রয়োজনে আরও বেশি হতে পারে। আর উপাচার্য চাইলে কমিটির সদস্যসংখ্যা বাড়াতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত ২০ ফেব্রুয়ারি শৃঙ্খলা কমিটির একটি সভা ডাকা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে সভাটি স্থগিত হয়ে যায়। ওই সভায় ১৩টি অভিযোগ ও প্রতিবেদন ওঠার কথা ছিল। প্রক্টর আসাবুল হক জানান, তাঁদের কাছে ১৩-১৫টি অভিযোগ আছে। এগুলো শৃঙ্খলা কমিটিতে উঠবে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার প্রথম আলোকে বলেন, সময়স্বল্পতার কারণে সভাটি করা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই সভাটি হবে।

শাস্তি কেন হয় না!

শিক্ষকদের কেউ বলছেন, শিক্ষকেরা প্রশাসনের বড় পদ পান ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী শিক্ষক সংগঠনের রাজনীতি করে। ছাত্রলীগ আবার ক্ষমতাসীন দলেরই ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। তাই তাদের অপরাধের শাস্তি হয় না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, হলগুলোতে নিয়মিত মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। শাস্তি না হওয়ায় ঘটনা আরও বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বেশির ভাগ ঘটনা ঘটাচ্ছে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন। তাদের শাস্তি হয় না। কারণ, উপাচার্য নিয়োগ হয় ক্যাম্পাসের প্রতিনিধিদের মতামত ছাড়াই সরকারের পক্ষ থেকে। এতে ওই উপাচার্য সরকার কিংবা সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে যাওয়ার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।