
সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে রাজশাহীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: রাজশাহীসহ সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার সকাল ১১টায় সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জান্নাতুল সাবিরার সঞ্চালনায় এবং ইশতিয়াক আহম্মেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহব্বত হোসেন মিলন, রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী জিন্নাত আরা সুমু, নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নাদিম সিনা, রুয়েটের শিক্ষার্থী জারির আহমেদ, এস. এন সুভা, আনিস, আরিফুল ইসলাম, সজিব, শাহীন রবি, মো.জাকারিয়া, সকিল আহমেদ প্রমূখ।
এসময় শিক্ষার্থীরা দাবি তোলেন, “অবিলম্বে সকল বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দাও দিতে হবে।”
মোহব্বত হোসেন মিলন বলেন, করোনা মহামারীর বাহানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অযৌক্তিকভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে।
জিন্নাত আরা সুমু বলেন, অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে করোনা টিকার আওতায় আনতে হবে।
নাদিম সিনা বলেন, করোনা মহামারীর দোহাই দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে জিম্মি করা হচ্ছে। সরকার পরিকল্পিত ভাবে এই প্রজন্মকে অসার ও মেরুদণ্ডহীন করে তুলছে। অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খুলে দিলে আমার কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দিবো।
উল্লেখ্য, ৪৩৫ দিন ধরে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ আছে। লকডাউনের মধ্যেও শপিংমল, মার্কেট, অফিসসহ গণপরিবহণ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এদিক বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ খুলে দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ছয়টি দাবি তুলে ধরেন ইশতিয়াক আহম্মেদ। দাবি সমূহ নিম্নরুপ —
১. অবিলম্বে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হল ও হোস্টেল খুলে দিতে হবে।
২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে করোনা টিকার আওতায় আনতে হবে।
৩. যদি কোন শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তদারকিতে আক্রান্ত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা হতে হবে এবং করোনা আক্রান্ত হওয়ার ফলে যদি কোন পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থী অপারগ হয় সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে তাকে সাপ্লিমেন্টারী পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
৪. দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
৫. আটকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা গুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে সম্পন্ন করতে হবে।
৬. রিভিউ ক্লাস/এক্সট্রা ক্লাস/ওপেন ক্রেডিট/ব্যাকলগ পরীক্ষা ইত্যাদি সুবিধা সমূহ দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতিপূরণের সুযোগ করে দিতে হবে এবং এই সুবিধা সমূহের জন্য কোন অতিরিক্ত ফি আদায় করা যাবে না।
বিক্ষোভ সমাবেশে শেষে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ছাত্র সমাবেশের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।