• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি ২২ বছর পর রাজশাহীতে যাচ্ছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা

রাজশাহীতে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু

Reporter Name / ১৬০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১
corona virus
corona virus

গত ৫ দিন থেকে রাজশাহীতে বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। সেই সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে করোনা শনাক্ত ও উপসর্গ রোগীর সংখ্যা। এছাড়াও রোববার ও সোমবার দুইদিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় ও উপসর্গে চিকিৎসারত ৯ রোগী মারা গেছেন। সোমবার রামেক হাসপাতালে নতুন করে ৬১ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে রামেক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ইদের কয়েকদিন আগে থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ রাজশাহীতে এসে চলাচল করেছে। ইদের দুইদিন আগে থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ ভাগ মানুষ মাস্ক না পরে বাইরে বের হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরাতে আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় নি। এই অসচেতনতা কারেণে করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। সাথে বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এক সপ্তাহ আগে যেখানে রামেক হাসপাতালের আইসিইউ বেডে রোগী থাকতো ৮ থেকে ৬ জন। কিন্তু গত রোববার থেকে আইসিইউতে বেড আর ফাঁকা নেই। এখন স্বাস্থ্যবিধি না মানায় মাশুল দেয়া লাগতে পারে। নিয়মিত মাস্ক না পরা, স্বাস্থবিধি না মানা, বড় পরিসরে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিদেশগামী মানুষদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত না হওয়া, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষের থার্মমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষার বিষয়টি যথাযথ হচ্ছে না।

আর স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ইদে হাট-বাজারে ও শপিংমলে ইচ্ছে মতো ঘোরাফেরায় সংক্রমণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে নতুন নতুন ভাবে পদক্ষেপ ও কঠোর হওয়া ও বর্ডার এলাকায় শক্ত অবস্থান নিতে হবে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে এক রাতে সোমবার ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকি ২ জন মারা গেছেন করোনা উপসর্গ নিয়ে। গত রোববার মারা গেছে মোট ৬ জন। উপসর্গ নিয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তিনি জানান, বর্তমানে করোনা ওয়ার্ডে ১০৭ জন ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৭৩ জন করোনা উপসর্গ রয়েছে। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন মোট ১৪ জন। মৃতদের মধ্যে হাসপাতালের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে দুইজন, ও আইসিইউতে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ডা. সাইফুল ফেরদৌস।

এদিকে রাজশাহী বিভাগে করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৬ মে) বিভাগের বগুড়া ও পাবনায় একজন করে এ দুইজনের মৃত্যু হয়। সোমবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভাগের আট জেলায় এ পর্যন্ত ৫১৫ জনের মৃত্যু হলো করোনায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বগুড়ায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৬ জন মারা গেছেন রাজশাহীতে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২ জন, নওগাঁয় ৩৬ জন, নাটোরে ২০ জন, জয়পুরহাটে ১১ জন, সিরাজগঞ্জে ২৩ জন এবং পাবনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিভাগে নতুন ৮২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এ দিন বিভাগের ৮১ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। বিভাগে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ হাজার ১৭ জন। এদের মধ্যে ৩০ হাজার ২৫ জন সুস্থ হয়েছেন। বিভাগে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিন হাজার ৭২৩ জন কোভিড-১৯ রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী জেলায় আরও ১৭ জন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৮০২৬ জন প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত হলেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়মিত প্রতিবেদনে আজ এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ৭২০৪ জন সুস্থ হয়েছেন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৭৬ জন মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৪৬ জন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান বাদশা জানান, ইদে যেমন ভাবে যানবাহনে মানুষ যাতায়াত করেছে সেটা আমাদের কাম্য ছিলো না। ভারতের দিকে তাকিয়ে দেখতে হবে জীবন আগে না আনন্দ আগে! সেখানে কিন্তু চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছে। আমাদের দেশে গত সপ্তাহে শনাক্ত ও মারা যাওয়ার সংখ্যা কমেছিলো। কিন্তু এই সংখ্যা আবারো বেড়েছে। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, করোনার সংক্রমণ গত সপ্তাহের চেয়ে এখন বেশি। গত সপ্তাহে হাসপাতালে শনাক্ত ও উপসর্গ নিয়ে ৭০ জনের নিচে ভর্তি ছিলো। কিন্তু গত চারদিন থেকে এই সংখ্যা এখন ১০০ জনের উপরে। মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। আইসিইউতে বেড ফাঁকা নেই! এই সপ্তাহে নতুন করে আরো ১০ টি আইসিইউ বেড বাড়ানো হচ্ছে। রোববার নতুন করে রামেক ল্যাবে মোট ৬১ জনের করোনা শনাক্তের রিপোর্ট এসেছে।

 

তথ্য সূত্রঃ পদ্মা টাইমস ২৪


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।