
প্রিয়জন ডেস্কঃ রাজশাহীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টিতে দুঃসাহসিক ডাকাতি, কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট
রাজশাহী নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার স্বর্ণপট্টিতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে কারুশ্রী জুয়েলার্সে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে স্বর্ণপট্টির দোকানপাট খোলার সময় প্রথম ঘটনাটি নজরে আসে। পরে দেখা যায়, আফিয়া জুয়েলার্স ও কারুশ্রী জুয়েলার্সের মধ্যবর্তী পার্টিশন ওয়াল কেটে দুর্বৃত্তরা দোকানের ভেতরে প্রবেশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতরা প্রথমে আফিয়া জুয়েলার্সের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর সেখান থেকে পার্টিশন ওয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে ঢুকে পড়ে এবং সিন্ধুকের তালা খুলে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। বের হওয়ার সময় তারা আফিয়া জুয়েলার্সে আবারও তালা মেরে দেয়।
কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তূর্য সরকার প্রতিদিনের মতো সকালে দোকান খুলতে এসে ভেতরের অস্বাভাবিক অবস্থা দেখতে পান। মালামাল এলোমেলো পড়ে থাকতে দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে দেয়ালে কাটা অংশ ও সিন্ধুকের অবস্থা দেখে তিনি ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বর্ণপট্টির অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীদের মতে, এটি কোনো সাধারণ চুরি নয়; বরং দীর্ঘ পরিকল্পনা ও পূর্ব প্রস্তুতির মাধ্যমে সংঘবদ্ধ একটি চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দুর্বৃত্তরা দোকানের অবস্থান, ভেতরের কাঠামো এবং মূল্যবান সামগ্রী সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিল বলে তারা ধারণা করছেন। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দেয়াল কেটে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে এই ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, কারুশ্রী জুয়েলার্সের ওপরের আবাসিক হোটেলে অবস্থান নিয়ে দুর্বৃত্তরা আগে থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিল। আবার কেউ ধারণা করছেন, আশপাশের হলিডে মার্কেটে ব্যবসায়ীর পরিচয়ে অবস্থান করে ডাকাতচক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা সাজিয়েছে। তবে এসব বিষয় এখনও তদন্তাধীন।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঠিক কত পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ খোয়া গেছে তা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। দোকান কর্তৃপক্ষ হিসাব-নিকাশ শেষে সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানাবে। তবে প্রাথমিকভাবে কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার থাকা প্রয়োজন ছিল। নিরাপত্তার ঘাটতির সুযোগ নিয়েই সংঘবদ্ধ চক্রটি এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হয়েছে।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন। জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত ডাকাতি কি না, কিংবা এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করেছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকায় এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।
ঘটনার পর দুপুর ১টার দিকে জুয়েলার্স সমিতির মালিক ও কর্মচারীরা আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল বের করেন।