• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে এমপি আবু সাঈদ চাঁদের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে অনলাইন জুয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, ২ মোবাইল জব্দ রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ছুটি শেষে আজ খুলছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীকে সাইকেল উপহার দিলেন প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে নারীসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও এসকাফ সিরাপ উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, আবু বকর ৭ দিনের রিমান্ডে

সাহেব বাজারের স্বর্ণপট্টিতে দুঃসাহসিক ডাকাতি, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

Reporter Name / ৮৫ Time View
Update : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ রাজশাহীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টিতে দুঃসাহসিক ডাকাতি, কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট

রাজশাহী নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার স্বর্ণপট্টিতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে কারুশ্রী জুয়েলার্সে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে স্বর্ণপট্টির দোকানপাট খোলার সময় প্রথম ঘটনাটি নজরে আসে। পরে দেখা যায়, আফিয়া জুয়েলার্স ও কারুশ্রী জুয়েলার্সের মধ্যবর্তী পার্টিশন ওয়াল কেটে দুর্বৃত্তরা দোকানের ভেতরে প্রবেশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতরা প্রথমে আফিয়া জুয়েলার্সের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর সেখান থেকে পার্টিশন ওয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে ঢুকে পড়ে এবং সিন্ধুকের তালা খুলে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। বের হওয়ার সময় তারা আফিয়া জুয়েলার্সে আবারও তালা মেরে দেয়।

কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তূর্য সরকার প্রতিদিনের মতো সকালে দোকান খুলতে এসে ভেতরের অস্বাভাবিক অবস্থা দেখতে পান। মালামাল এলোমেলো পড়ে থাকতে দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে দেয়ালে কাটা অংশ ও সিন্ধুকের অবস্থা দেখে তিনি ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বর্ণপট্টির অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীদের মতে, এটি কোনো সাধারণ চুরি নয়; বরং দীর্ঘ পরিকল্পনা ও পূর্ব প্রস্তুতির মাধ্যমে সংঘবদ্ধ একটি চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দুর্বৃত্তরা দোকানের অবস্থান, ভেতরের কাঠামো এবং মূল্যবান সামগ্রী সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিল বলে তারা ধারণা করছেন। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দেয়াল কেটে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে এই ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, কারুশ্রী জুয়েলার্সের ওপরের আবাসিক হোটেলে অবস্থান নিয়ে দুর্বৃত্তরা আগে থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিল। আবার কেউ ধারণা করছেন, আশপাশের হলিডে মার্কেটে ব্যবসায়ীর পরিচয়ে অবস্থান করে ডাকাতচক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা সাজিয়েছে। তবে এসব বিষয় এখনও তদন্তাধীন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঠিক কত পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ খোয়া গেছে তা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। দোকান কর্তৃপক্ষ হিসাব-নিকাশ শেষে সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানাবে। তবে প্রাথমিকভাবে কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার থাকা প্রয়োজন ছিল। নিরাপত্তার ঘাটতির সুযোগ নিয়েই সংঘবদ্ধ চক্রটি এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হয়েছে।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন। জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত ডাকাতি কি না, কিংবা এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করেছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকায় এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।

ঘটনার পর দুপুর ১টার দিকে জুয়েলার্স সমিতির মালিক ও কর্মচারীরা আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল বের করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।