• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন

ট্রান্সফরমার ঠিক করতে গিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের টেকনিশিয়ানের মৃত্যু

Reporter Name / ৪৫ Time View
Update : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ  ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় ট্রান্সফরমারের ফিউজ লাগাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হেলাল উদ্দিন (৩৫) নামে এক টেকনিশিয়ানের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার লক্ষীপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হেলাল উদ্দিন ফুলবাড়ীয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে টেকনিশিয়ান (হেলপার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের চৌদার গ্রামের আ. কদ্দুসের ছেলে।

জানা যায়, হেলাল উদ্দিন মূলত দেওখোলা ইউনিয়নের বিদ্যুৎ লাইনের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরে তিনি ফুলবাড়ীয়া সদর এলাকায় আসেন দেখভালের জন্য।

পথে লক্ষীপুর বাজারের একটি ট্রান্সফরমারের ফিউজ কেটে যাওয়ায় তাকে সেটি ঠিক করে দিতে অনুরোধ করা হয়। তিনি লাইন বন্ধ করিয়ে ট্রান্সফরমারের ফিউজ লাগানোর কাজ শুরু করেন।

এসময় সেখানে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন ওয়ারিং মিস্ত্রি হঠাৎ দেখতে পান, হেলাল উদ্দিন ট্রান্সফরমারের সঙ্গে ঝুলে আছেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন লাইন বন্ধ থাকা অবস্থায় কাজ চলাকালীন কীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলো?

তাদের দাবি, বিষয়টি রহস্যজনক। এটি অবহেলা নাকি পরিকল্পিত হত্যা— তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করতে হবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইনম্যানকে অবগত না করেই কেন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলো। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এদিকে, আবাসিক প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার ধর বলেন, হেলাল উদ্দিন আমাদের বেসরকারি লাইনম্যান (হেলপার)। ফিউজ লাগানোর বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। সম্ভবত অফিসের অন্য কারো সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি কাজটি করছিলেন। ওই সময় লাইন বন্ধ ছিল। পল্লী বিদ্যুতের সঙ্গে আমাদের একটি ক্রস লাইন রয়েছে, সেখান থেকে শর্টসার্কিট হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।