• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন

হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না: আইআরজিসি

Reporter Name / ৪৪ Time View
Update : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ Hormuz Strait-এ স্থায়ী কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নেভি। তাদের ভাষ্য, এই জলপথ আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে দেওয়া এক ঘোষণায় আইআরজিসি নেভি এ কথা জানায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন Press TV এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পারস্য উপসাগরে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তুতির মধ্যেই এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি নেভির অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বিদেশি আধিপত্যের যুগ শেষ। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এমন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহিরাগত শক্তিগুলো আর ইরানের ওপর নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।
 
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তাদের ঘোষিত বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আইআরজিসি নেভি তাদের অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর লক্ষ্য পারস্য উপসাগরে একটি স্বতন্ত্র নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা, যা আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
 
এই প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে উন্নত নৌ মোতায়েন, আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি এবং সমন্বিত দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা। ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা এই নতুন ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
 
এদিকে ইরানে নিখোঁজ এক পাইলটকে উদ্ধারের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump নতুন করে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখে, তবে দেশটিতে ‘নারকীয় তাণ্ডব’ চালানো হবে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি আরও উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার এসব স্থাপনায় হামলা চালানোর দিন হতে পারে।
 
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা ১০ দিন স্থগিত রাখার যে ঘোষণা ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তার মেয়াদ সোমবার শেষ হচ্ছে। ফলে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করেছে। ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজ ছাড়া অন্যদের জন্য পথটি খোলা থাকবে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দামে পড়েছে।
 
এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হামলা বাড়লে তারা Red Sea অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা Ali Akbar Velayati বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
 
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, Bab al-Mandab Strait—যা সুয়েজ খালের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত—এলাকাটিও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এই পথকে লক্ষ্য করে হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে, যা অতীতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।