• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন

সরকার সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে

Reporter Name / ৪৬ Time View
Update : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে একমাত্র পথ হলো সংবিধান মেনে চলা।

তিনি বলেন, ‘সবকিছুই-সরকার গঠন, সংসদ ও সব সংসদ সদস্য-সংবিধানের অনুযায়ী এসেছে, কিন্তু এখন সংবিধানকে উপেক্ষা করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা যায় কীভাবে?’

তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২) কর্তৃক আনীত জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব (বিধি-৬২) -এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ ‘ভবিষ্যতের পথ রেখা’-একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণয়ন, সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন’র বিষয়ে তিনি প্রস্তাবটি আনেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-কে লেজিসলেটিভ ফ্রড এবং কালারেবল লিজিসলেশন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা চাই ৩৩টি রাজনৈতিক দল কর্তৃক অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন করতে, কিন্তু আদেশটি পূর্বে সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্মত সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেনি।’

তিনি বলেন, সংবিধান পুনর্লিখনের কোনো প্রয়োজন নেই, জনগণের নির্দেশ অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব। তিনি সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দেন, যাতে সব রাজনৈতিক দলের সদস্যরা সংবিধান সংশোধনের জন্য কাজ করতে পারেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পঞ্চম সংশোধনী ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিরোধী দলকে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘পঞ্চম সংশোধনী শাহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দ্বারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা পরে বাতিল করা হয়েছে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসরণ করা প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এই সনদ স্পষ্টভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয় এবং এটি কোনো রাজনৈতিক দলকে প্রভাবিত করতে পারে না।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যে আইনটি সংবিধান ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করবে, সেটি প্রয়োগযোগ্য নয়। জুলাই সনদ হলো জনগণের রক্ত, ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস, এটি কোনো রাজনৈতিক দলীয় দলিল নয়।’

সংসদে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান মুলতবি প্রস্তাবটি গ্রহণ না করার জন্য অনুরোধ করেন, কারণ একই প্রস্তাব আগেও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু সেই প্রস্তাবের পরিণতি কী হয়েছে তা জানা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক (যশোর-৫), আখতার হোসেন (রংপুর-৪), নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫), আন্দালীব রহমান (ভোলা-১) আলোচনায় অংশ নেন।

১ এপ্রিল সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রস্তাব উত্থাপনের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম আলোচনার জন্য প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন এবং ৫ এপ্রিল আলোচনার জন্য দুই ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করেন।

প্রস্তাব উত্থাপন করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ হলো ১৭ বছরের সংগ্রাম ও ত্যাগের পর বিএনপির জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ফল। এটি আমাদের ভবিষ্যতের রোডম্যাপ।’

তিনি বলেন, সনদটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা বিভিন্ন আইন ও সংবিধান সংশোধনের স্পষ্ট প্রস্তাবনা দেয়। এটি বাস্তবায়নের বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।