• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

শাহজালালের অগ্নিকাণ্ড: তিন দিনেও মেলেনি ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব

Reporter Name / ৯৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পার হলেও এখনও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব মেলেনি। ব্যবসায়ীদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বলছে, ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এদিকে খাত সংশ্লিষ্ট সবাই বলছেন, এতো বড় দুর্ঘটনার দায় এড়াতে পারে না বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কিংবা কাস্টম হাউজ কেউ-ই।

২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে। ঢাকা থেকে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের চাপ বেড়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই বেশিরভাগ কার্গো পরিবহন কার্যক্রম চলে। ঢাকায় ৩৫টি এয়ারলাইনস ফ্লাইট পরিচালনা করে, এর বেশিরভাগই বেলি কার্গো সুবিধা দেয়। এর বাইরে এমিরেটস, কাতার, টার্কিস, সাউদিয়াসহ বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনস কার্গো পরিবহন করে।

ঢাকা থেকে বছরে ২ লাখ ১০ হাজার টন পণ্য রফতানি হয়। বলা হচ্ছে, প্রতিদিন ২শ থেকে আড়াইশ কারখানার পণ্য আকাশপথে রপ্তানি হয়। ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল, কম ওজনের বিভিন্ন মেশিনপত্র, তৈরি পোশাক, আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মালামাল ও ই-কমার্স উদ্যেোক্তাদের পণ্য পরিবহন হয় এই পথে।

বিমানবন্দরে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য যেখানে এই আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্য রাখা হয়, শনিবার সেই কার্গো ভিলেজ পুড়ে ছাই। সেই আগুন নাড়িয়ে তুলেছে সংশ্লিষ্ট খাতের সকলকে। প্রশ্ন উঠছে কেপিআই এলাকায় নিরাপত্তা ও অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে।

বিকোএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘এত দ্রুততম সময়ে আগুনটা এভাবে ব্যাপ্তি লাভ করলো কেন বা ফায়ার সার্ভিসের যে নিজেদের ফায়ার ফাইটিং টিম, তারা কী করলো? তারা কেন শুরুতেই এটা নিয়ন্ত্রণে নিলো না?’

তিনি বলেন, ‘আগুনটা এখন কিন্তু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো বাংলাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান কতটা অনিরাপদ!’

বহুদিন ধরে ব্যবসায়ীদের কার্গো সম্পর্কিত বিভিন্ন অভিযোগ আমলে না নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এয়ারলাইন্স ও ব্যবসায়ী- দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বিমান বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদ উল আলম বলেন, ‘এখন ইম্পোর্ট কার্গো আসলে সেগুলো রাখার কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। যার জন্যইম্পোর্ট কার্গো আনার ব্যাপারে একটি অলিখিত নিষেধাজ্ঞা এয়ারলাইনগুলোকে দেয়া হয়েছে আরকি। এতে এয়ারলাইনগুলো লুজার হবে, যাদের দ্বারা এ মালামালগুলো পুড়ে গেছে। তাদের এ মালামালগুলো নতুন করে আনতে হবে। যদি এখন মাল আনতে না পারে, ইম্পোর্ট না হয়, তাহলে তো তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

গেলো ১২ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূল্যায়ন করে শতভাগ নাম্বার দিয়েছিল যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট। আর এর ৬ দিনের মাথায় এই কার্গো ভিলেজেই শিকার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের। যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সময় লেগেছে ৭ ঘণ্টা এবং আগুন পুরোপুরি নেভাতে লেগেছে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময়।

ফায়ার সার্ভিস বলছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এত সময় লাগতো না, যদি এখানে থাকতো নিজস্ব কোনো ডিটেকশন বা প্রোটেকশন সিস্টেম। এখন তাই জনমনে প্রশ্ন উঠছে, যদি সত্যিই এখানে কোনো ডিটেকশন বা প্রোটেকশন সিস্টেম না থেকে থাকে তাহলে ডিটেকশন ফর ট্রান্সপোর্ট কীসের ভিত্তিতে শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়েছিল এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থায়?

ইলেক্ট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মো. নিয়াজ আলী চিশতী বলেন, ‘শুধু কি কার্গো ভিলেজ, আমাদের প্যঅসেঞ্জার এয়ারপোর্ট যেটা রয়েছে, আল্লাহ তো বাঁচিয়েছে যে, সেখানে যদি আগুন লাগতো, শত শত মানুষ মারা যেতে পারতো। শুনতে অবাক লাগে যে এখানে কোনো ফায়ার ইক্যুইপমেন্টস নেই।’

আপাতত ম্যানুয়ালি পন্য আমদানির কাজ চললেও এই কার্গো ভিলেজের বিকল্প কী হবে তা নিয়ে অগ্নিকাণ্ডের তিনদিন পেরিয়ে গেলেও আসেনি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ ‘নতুন যে ভবন আছে সেখান থেকে ইম্পোর্টের কাজটা করতে পারে, করার পারমিশন দিতে পারে। এখানে পর্যাপ্ত স্থান ছিল না।’

২০১৫ সালে ইমিগ্রেশন পুলিশ অফিসে আগুন, ২০১৬ সালে টেক-অফের আগে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের বিমানে আগুন, ২০১৭ সালে টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড, ২০২৫ এ এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। দুর্ঘটনাবশত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাকি কোনো বাহিনীর গাফিলতি? উত্তর হয়তো মিলবে তদন্ত কমিটির রিপোর্টেই। তবে ইনস্যুরেন্স থাকলে ক্ষতিপূরণ পাবার সুযোগ থাকলেও বহু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে সেই নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।