• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট,৬ মাসে গ্রেপ্তার কিশোর গ্যাংয়ের চার হাজার সদস্য

Reporter Name / ৯৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা মোহাম্মদপুরে গড়ে উঠেছে এক অন্ধকার জগৎ। দিনের আলোয় যেন সব স্বাভাবিক, কিন্তু রাত নামতেই অলিগলিতে নামে আতঙ্কের ছায়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গড়ে উঠেছে নতুন এক অপরাধের সংস্কৃতি। গত ছয় মাসে মোহাম্মদপুর, আদাবর আর হাজারীবাগে পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েছে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। শুধু মোহাম্মদপুরেই গ্রেপ্তার চার হাজারের বেশি। অন্যদিকে র‍্যাবের ৬৩২টি অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে ৮৯২ জন। উদ্ধার হয়েছে ৭৬টি বিদেশি অস্ত্র, গ্রেনেড, রকেট লঞ্চারসহ এক হাজার ৪৫০ রাউন্ড গুলি।

মুঘল স্থাপনা আর সম্রাটদের নামে নামকরণের জন্য সুপরিচিত মোহাম্মদপুর, যেন মুঘল সম্রাটদের আবাসভূমি। তবে সব অভিজাত আর ঐতিহ্য পেছনে ফেলে মোহাম্মদপুর এখন রাজধানীর বুকে এক সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য।

রাত নামলেই থমকে যায় মোহাম্মদপুর, আদাবর আর হাজারীবাগ। কারণ একটাই কিশোর গ্যাং আতঙ্ক। হাতে ছুরি, কোমরে চাপাতি, চোখে এক অদ্ভুত উন্মাদনা। দলবেঁধে চলে তাণ্ডব যাত্রা। যাদের প্রত্যেকরে বয়স মাত্র ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।

ভুক্তভোগী একজন বলেন, ‘দেয়ালের ভেতরে থেকে ওরা সাত-আটজন বের হয়ে আসলো। এসেই আমার ওপর চাপাতি ধরলো, বলে- যা আছে সব দিয়ে দে। কোনো কথা কবি- গলা কেটে ফেলবো। পরে আমি যা যা আছে দিয়ে দিছি। এখানে লোকজন ডাক দিছি কেউ ভয়ে যায় না আর।’

হত্যা, ধর্ষণ, মাদক বিক্রি, আর হত্যা যেন এখানের রোজকার চিত্র। আর এলাকার দখল নিয়ে চলে হত্যাযজ্ঞ। কব্জিকাটা আনোয়ার, ডন ৭১, উই ডোন্ট কেয়ার মোহাম্মদপুর কিংস- এর মতো প্রায় অর্ধশত গ্যাংয়ের দখলে পুরো অঞ্চল। এমনটাই বললেন সাবেক দুই গ্যাং লিডার।

সাবেক গ্যাং লিডারদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ওপেনে গাঁজা, ইয়াবা বিক্রি করছে। সব চলে এখানে, সবার ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়স।’

অন্য একজন বলেন, ‘ছোট বাচ্চা যে কন্ট্রাক্ট কিলিংয়ে যায়। কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে গেছে এরা। মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এরা নিজেরা নিজেরাও মারামারি লাগে।’

অভিযান চলছে, গ্রেপ্তারও হচ্ছে। অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক না কেন তাদের আটকে অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক। জানান, সুস্থ-সংস্কৃতির অভাব আর সমাজের বিবেকবানদের নীরবতাই এদের উত্থানে সমানভাবে দায়ী।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের কাছে অপরাধী সবসময়ই অপরাধী। সে কিশোর অপরাধী হলে তার কিশোর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যখন অপরাধ করছে তখন তার বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিশোর যে বয়স, এসময়টা সাংস্কৃতিক, বিনোদন ও শরীর চর্চা, খেলাধুলা ইভেন্টের মধ্যে যেন তারা সময়টা পার করতে পারে এ সুযোগটা করে দিতে পারলে আমার মনে হয় তাদের এ অপরাধের হারটা কমে যাবে।’

অপরাধ দমনে পুলিশের সফল অভিযানের ব্যাখ্যা দিয়ে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, এ কিশোররা সোশ্যাল মিডিয়া নিজেদের দলের সদস্য সংখ্যা বাড়ায়। এক একটা ফেসবুক গ্রুপ যেন এক একটা গ্যাংয়ের সদর দপ্তর। যেখানে পরিকল্পনা হয় হামলার, ঠিক হয় লক্ষ্য।

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা বলেন, ‘বৃহত্তর মোহাম্মাদপুরে প্রায় ছয় হাজারের মতো আসামিকে বিভিন্ন অপরাধে আমরা আদালতে সোপর্দ করেছি। একটা গ্রুপ খুব নাম করে ফেললো আমরা তো ওদের গোষ্ঠীসহ নির্বংশ করে দিয়েছি। এখন আবার নতুন গ্রুপের নাম সামনে আসছে করছে। টিকটক, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম আরও যেগুলো আছে সবগুলোই এ অপরাধটাকে আরও উস্কে দিচ্ছে। তারা একত্রিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এটা হতে পারে যে, কিশোরদের যে একটা উন্মাদনা কাজ করে- সবাই একত্রিত হবো, কিছু একটা হবো। এদের তো পয়সা নাই পকেটে, তখন এরা করে কী- শটকাট পদ্ধতিতে যায়। অল্প টাকা ব্যবহার করে দুইটা চাপাতি কিনে ফেলে তা নিয়ে রাস্তায় নেমে যায়।’

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনে করেন, কিশোর অপরাধ একটি ভয়ানক মহামারী। যা বন্ধ করতে না পারলে ধ্বংস হবে একটি প্রজন্ম। তাই প্রশ্ন আটকের পরে সংশোধনে না দিয়ে কীভাবে সহজেই জামিনে মুক্তি পায় এসব অপরাধী।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পারভেজ হোসেন বলেন, ‘একটা কিশোরের অপরাধ যত বড়ই হোক না কেন সর্বোচ্চ সাজা হচ্ছে ১০ বছর। খুব কষ্ট করে বলতে হচ্ছে আমাদের আইনজীবী বন্ধুরাই এ কাজটা করছেন। একটি বড় সিন্ডিকেট এদের সঙ্গে থাকে। যেহেতু সে কিশোর, একটা সহানুভূতি যে পাবে, আইনে এ সহানুভূতি দেয়া আছে। অসত্য কিছু কাগজ তৈরি করে নানাভাবে আদালতের কাছে উপস্থাপন করে আদালতকে মিসলিড করে, ভুল বুঝিয়ে তাদের আবার ফ্রি হওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। একজন কিশোর অপরাধী যখন এভাবে একটি বড় অপরাধ করার পরও এ সিন্ডিকেটের সহযোগিতা নিয়ে সে মুক্ত হয়ে যায় তখন দ্বিতীয়বার অপরাধ করতে তার আর দ্বিধা থাকে না।’

যে বয়সে থাকার কথা ছিল স্কুলের আঙ্গিনা বা খেলার মাঠে সে বয়সে তারা আজ অপরাধের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে এ অঞ্চলগুলোতে। রাত হলেই শুরু হয় তাদের অপরাধ আর এ অঞ্চলগুলো হয়ে ওঠে অপরাধের হটস্পট। এ শহর কার হাতে নিরাপদ বা মানুষই কতটা নিরাপদ এ শহরে? শুধুই কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা না কি দেখেও না দেখার ভান করে থাকা এ সভ্য সমাজের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।