• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না যমুনা এলাকায় সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়নি: ডিএমপি ইনকিলাব মঞ্চের জাবের ও রাকসুর জিএসসহ আহত অন্তত ২৩ ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে শক্তহাতে প্রতিহত করার আহ্বান জামায়াত আমিরের একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল

‘দলিত, হরিজন, তফসিল পরিষদের মানুষকে রাজনীতির নেতৃত্বে আসতে হবে’

Reporter Name / ১৬৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৫

দলিত, হরিজন, তফসিলি পরিষদের মানুষকে তাদের নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজনীতির নেতৃত্বে আসতে হবে। যদি রাজনীতি না আসেন তহালে রাজনৈতিক দলগুলো আপনাদের ভোটার হিসেবে দেখবে এবং ভোট আসলে শুধু গুরুত্ব দেবে তা ছাড়া আর তাদের দেখা মিলবে না। তাই চিরদিন এভাবে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটর জাতীয় নাগরিক কমিটির কার্যালয়ে যোগেন মন্ডলের ১২২তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। এ আলোচনার সভার আয়োজন করে দলিত, হরিজন, তফসিলি পরিষদ ও জাতীয় নাগরিক কমিটি।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ড.আতিক মুজাহিদ, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আলামিন, সহ-মুখপাত্র মুশফিক উস সালেহীন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি বিষয়ক সম্পাদক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, নির্বাহী সদস্য, সম্পাদক শ্রমিক সেল মো.মাজহারুল ইসলাম,দলিত, হরিজন ও তফসিলি পরিষদের আহ্বায়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু, কেন্দ্রীয় সদস্য জয়নাল আবেদীন শিশির। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সদস্য কৈলাশ চন্দ্র রবীদাস।

জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, আওয়ামী লীগ ভয়ংকর ধরনের অন্যায় করেছে। আমরা যাদের উত্তরসূরী আওয়ামী লীগ তা মুছে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ হলো একটা কালপিঠ দল। এ দলটি যা করছে এদেশে অন্য কোনো দল করেনি। তারা তাদের মতো করে ইচ্ছামত ইতিহাস বলছে, সৃষ্টি করেছে। এদেশে ইতিহাসের কু তৈরি করেছে আওযামী লীগ।

এ দলটি বাংলাদশের ইতিহাস ছিনতাই করেছে। যা কোনো শত্রুও করেনি। এ দলটির বিরুদ্ধে এখনি আমরা কথা বলছি না তা না। যখন থেকে আমরা বুদ্ধি ভিত্তিক রাজনীতি চর্চা করছি তখন থেকেই আমরা এটা শুরু করছি।

তিনি বলেন, দেশ যে ভাগ হয়েছে সেটা আমরা মূলত দেখি হিন্দু ও মুসলিম ফ্রেমে। এ ফ্রেমের কারণে আমরা দেখি ভারতবর্শী বা দক্ষিণ এশিয়া। আমরা যার ওপর দাড়িয়ে আছি পাকিস্তান আন্দোলন। আমরা যখনি পাকিস্তান আন্দোলন ধারণ করি এ কথা বললে তখন অনেকেই বলে- এ কথা বলার মানে কী।

ধীরে ধীরে সব ভুল বুঝাবুজির শেষ হবে। ’৪৭ সালের আন্দোলন হিন্দু মুসলিমদের হিসেবে দেখবেন না। পাকিস্তান না হলে বাংলাদেশ হতো না। বাংলাদেশের রাজনীতির চরিত্রের যারা নেতা তাদের মধ্যে একজন হলো যোগেন মন্ডল। তিনি শুধু তফসিল পরিষদের নেতা বলে আমরা দেখি না।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবর একটা সাউন্ডগ্রেনেডে বিছিন্ন হয়ে গেছেন। আবার বলে নতুন করে তারা ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন করে মাঠে নামবে।

জাতীয় নাগরিক কমিটির এ নেতা বলেন, অনেকের কথা শুনি দলিত ও হরিজন বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। যান সেখানে কিন্তু দলীয়ভাবে দলিতদের রাজনীতি জায়গা দেবে না। বিএনপি তথ্য রাজনীতির দল শুধু আপাদের ভোটার হিসেবে দেখবে। কিন্তু জাতীয় নাগরিক কমিটি চায়, আপনারা রাজনীতি করে আপনারা নিজেরাই যোগেন মন্ডল হন এবং নিজেদের অধিকার নিজেরাই তৈরি করে নেন। দলিতরা কিন্তু রাজনীতিতে নাই।

জোটবদ্ধ ভাবে হলেই আপনার অধিকার নিশ্চিত করতে পারবেন। রাজধানীতে তেলুগো সম্প্রদায় আছে এটাই অনেকে জানতো না। আমরা সেখানে গিয়ে দেখছি বিএনপি পোস্টার লাগিয়েছে। মুজিবাদী সংবিধানর বাদ দিয়ে নতুন করে সংবিধান করা হবে। তাতে সবার অধিকার সমান থাকবে। যেটা মুজিবাদী সংবিধানে থাকবে না।

সংস্কার কমিশনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কার কমিশন তারা রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে বলেছে উচ্চ পরিষদ পাঁচজন থাকবে। সেখানে মজলুম কমিউনিটির লোক থাকবে। তারা প্রত্যেকটা দল ও জাতির গোত্রের কথা বলবে। অধিকারের কথা থাকবে। বিএনপিসহ কিছু দল যে দ্রুত নির্বাচন চাচ্ছে। সেটা যদি হয় এবং সংস্কার যদি না হয়। যদি সংস্কার কমিশন সংস্কার বাস্তাবায়ন করতে না পারে তাহলে আগের মতো রয়ে যাবে এবং আপনাদের ভোটার হিসেবেই থেকে যেতে হবে। আপনাদের জন্য আপনারা গণপরিষদে যাবেন কথা বলবেন ও যা যা করা লাগে তা প্রশ্ন করবেন এবং নতুন সংবিধানে তা যুক্ত করতে হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শ্রীলস্কার মতো রাষ্ট্র যদি মাত্র দুই বছরে শান্তিময় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। সেখানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন বিশ্ববরেণ্য খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তি। যদিও তার মধ্যে নানা সময় আমরা টানাপোড়ন দেখতে পাচ্ছি। কিছু দল সংসদ নির্বাচনের জন্য একো বিধিকিচ্ছি পরিস্থিতি তৈরি করছে।

ড.আতিক মুজাহিদ বলেন, ফ্যাসিবাদীরা দেশের স্বার্থে কিছু করেনি। এদেশের ইতিহাস তাদের মতো করে সাজিয়েছে। তাই এ সংবিধান সংশোধন করত হবে। কারণ সংবিধান হলো মুজিববাদী। এখন দেশের সব মানুষের অধিকার তুলে ধরার জন্য সংবিধান সংশোধন করত হবে। দলিত, হরিজন, তফসিল পরিষদের মানুষ এ দেশে বসবাস করলেও তাদেরকে ভিন্নভাবে দেখা হয়। তাই আপনাদেরকে নেতৃত্বে আসতে হবে। নেতৃত্বে এসে নিজেদের অধিকার আদায় করতে হলে রাজনীতিতে আসতে হবে।

আব্দুল্লাহ আল আলামিন বলেন, বাংলাদেশে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য মুজিববাদী সংবিধান বাতিল করতে হবে। নতুন করে সংবিধান করতে হবে। এদেশে যোগন মন্ডলের মতো নেতা তৈরি হয়ে নিজেদের অধিকারের দাবি তুলে আদায় করতে হবে। আপনারা যদি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে ঝুঁকে যান তাহলে তারা আপনাদের ভোটার হিসেবে দেখবে। তাই নিজেদের অধিকার নিতে হলে সংবিধানে নিজেদের অধিকার, কথা তুলে ধরতে হলে রাজনীতিতে আসতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।