• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না পুলিশের তাণ্ডব নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের আভাস: মঞ্জু যমুনা এলাকায় সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়নি: ডিএমপি ইনকিলাব মঞ্চের জাবের ও রাকসুর জিএসসহ আহত অন্তত ২৩ ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে শক্তহাতে প্রতিহত করার আহ্বান জামায়াত আমিরের একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে

টানা দুই দিন সড়ক অবরোধ, ‘বেতন ছাড়া কোনও কথাই ভালো লাগছে না তাদের’

Reporter Name / ১৮৫ Time View
Update : সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৪

বকেয়া বেতনের দাবিতে শনিবার (৯ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া টিএনজেড অ্যাপারেলস পোশাক কারখানার শ্রমিকদের অবরোধে অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি), ক্রাইম ডিভিশন, ট্রাফিক ডিভিশন, শিল্প পুলিশ ও যৌথ বাহিনীসহ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরও তাদের কথা একটাই, বেতন না দিলে সড়ক ছাড়বো না।

সোমবার (১১ নভেম্বর) সকাল থেকেই মালেকের বাড়ি এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বেতনের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করছে। কোনোরকম বিশৃঙ্খলা এবং ভাঙচুর এড়াতে আশপাশের ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পালাক্রমে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধে অংশ নিচ্ছেন। যেসব শ্রমিক রাতে সড়কে অবস্থান করেছেন, তারা ফিরে যাচ্ছেন সকালে, যারা রাতে বাসায় ছিলেন তারা সকাল থেকে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন।

গাজীপুর ভোগরা বাইপাস হয়ে জয়দেবপুর, বনমালা, টঙ্গী দিয়ে অল্প সংখ্যক যানবাহন চলাচল করছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীরা গাজীপুর চন্দনা চৌরাস্তায় নেমে হেঁটে এবং বিকল্প পথে তাদের গন্তব্য যাত্রা করছে। যেসব যাত্রী উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে যাচ্ছেন তারা গাজীপুর চৌরাস্তা ও চন্দ্রা হয়ে তাদের গন্তব্য যাচ্ছেন।

শিল্প পুলিশ জানায়, টিএনজেড অ্যাপারেলসের লিমিটেড, বেসিক ক্লোথিং লিমিটেড, অ্যাপারেলস প্লাস ইকো, বেসিক নিটওয়্যার লিমিটেড, অ্যাপারেল আর্ট লিমিটেড কারখানার প্রায় চার হাজার শ্রমিক গত তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। কয়েক দফায় বেতন পরিশোধের দিন ও সময় নির্ধারিত হলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ কথা রাখেনি। টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে আছেন। আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরও বেতন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনও কথাই শুনতে তাদের ভালো লাগছে না বলে জানান শ্রমিকরা।

৪৮ ঘণ্টা ধরে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা। অনেকে ট্রেনে এবং বিকল্প সড়ক দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করছেন। কোনও যানবাহন যাওয়ার চেষ্টা করলেই শ্রমিকেরা লাঠি হাতে নিয়ে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। সেগুলো আটকানোর চেষ্টা করছেন। মহাসড়কের উভয় পাশে দক্ষিণে টঙ্গী পর্যন্ত এবং উত্তরে রাজেন্দ্রপুর পর্যন্ত সর্বমোট ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট লেগে আছে। সড়ক অবরোধের কথা না জেনে বাসা থেকে বের হওয়ায় অনেক যাত্রীকে হেঁটে তাদের গন্তব্য যাত্রা করতে দেখা গেছে। তবে তিন দিন ধরে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলেও কোনও শ্রমিককে যানবাহন ভাঙচুর করতে দেখা যায়নি। তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের দাবি জানান।

এদিকে, গতকাল থেকেই গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিকল্প সড়ক ব্যবহারে অনুরোধে করে একটি ট্রাফিক আপডেট দেওয়া হয়েছে। ওই আপডেটে বলা হয়েছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ব্যবহারকারী যাত্রীদের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে, বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে গার্মেন্টসের শ্রমিকরা ভোগড়া বাইপাস ও মালেকের বাড়ির মাঝামাঝি কলম্বিয়া গার্মেন্টসের সামনে (শনিবার) সকাল থেকে অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন। তাই সম্মানিত যাত্রীদেরকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ইব্রাহিম খান বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই শ্রমিকদের বারবার বলেছি, সড়ক ছেড়ে দিয়ে সরে যাওয়ার জন্য। তাদের একটাই কথা, আমরা বেতন না পাওয়া পর্যন্ত সড়ক থেকে উঠবে না।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার (এসপি) সারোয়ার আলম বলেন, একাধিকবার মালিক পক্ষ শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে বেতন দিতে পারেননি। তারা এখন আর কারও কথা বিশ্বাস করছে না। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তাদের কথা বেতন হাতে না পেয়ে মহাসড়ক ছাড়বো না। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়টি বিজিএমইএসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করা হচ্ছে। আশা করছি, খুব দ্রুত সমাধান হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।