
ফেসবুকে একটি ধর্মীয় সংগঠনের নামে দেওয়া পোস্ট শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন হাজারিগলিতে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে পুলিশের ওপর এসিড নিক্ষেপ, ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সাত জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে যৌথবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৮০ জনকে আটক করা হয়। আটকদের যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরীর হাজারিগলির মিয়া শপিং সেন্টার মার্কেট ঘিরে ওই ঘটনার পর সেখানে অভিযানে নামে যৌথ বাহিনী। মধ্যরাত পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে, হাজারিগলি মিয়া শপিং সেন্টার নামের একটি মার্কেটের এক দোকানের মালিক ওসমান মোল্লা ফেসবুকে হিন্দুদের ধর্মীয় একটি সংগঠন ইসকনকে নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেটা নিয়ে স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধরা দল বেঁধে গিয়ে মার্কেটের সামনে জড়ো হন। তারা দোকানটি ঘিরে রাখেন। দোকান মালিক ওসমান মোল্লাকে জিম্মি করে রাখেন।
খবর পেয়ে পুলিশ হাজারিগলিতে ওসমানকে উদ্ধারে অভিযানে গেলে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে এসিড, ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেন।
এ প্রসঙ্গে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) কাজী মো. তারেক আজিজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাজারিগলি এলাকার ওসমান নামের এক দোকানদার কয়েক দিন আগে তার ফেসবুকে হিন্দুদের ধর্মীয় সংগঠন ইসকনের নাম উল্লেখ করে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু লোক মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বিক্ষোভ করে তার দোকানে গিয়ে হামলা চালান। পরে পুলিশ গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এমনকি সেখানে পুলিশকে লক্ষ্য করে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘হামলায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি অঞ্চল) মাহফুজুর রহমানসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। এর মধ্যে একজন সামান্য অ্যাসিড দগ্ধ হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
পরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৮০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের বিষয়ে যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে। এর মধ্যে যারা নির্দোষ তাদের ছেড়ে দিয়ে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমানে হাজারিগলির পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন আছে।