• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

‘গরিবের সবজি গাড়িতে উঠলেই ধনীর হয়ে যায়’

Reporter Name / ১৯৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৪

নিমসার বাজার। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সবজির মোকাম। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কঘেঁষা এই বাজার থেকেই সবজির চাহিদা মেটে কুমিল্লাসহ পার্শ্ববর্তী কয়েক জেলার মানুষের। বন্যার প্রভাব থাকলেও এ বাজারে সবজির সরবরাহ কম নয়। তুলনামূলক চড়া হলেও এ সময়ে অন্যান্য বছর সবজির দাম যেমন থাকে, বর্তমানেও ততটা হেরফের হয়নি। তবুও আড়তদারদের হাতবদল হয়ে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরের কুমিল্লা শহরে এলে একই সবজির দামে পার্থক্য দেখা যায় কেজি প্রতি ২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। গ্রামের চিত্রও প্রায় একই রকম। ক্রেতারা তাই বলে থাকেন, গরিবের সবজি গাড়িতে উঠলেই ধনীর হয়ে যায়! তা আর সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে থাকে না। আর এসবের নেপথ্যের কারিগর খুচরা ব্যবসায়ীরা।

সবজির দাম বাড়তি কেন

কুমিল্লার নিমসার বাজারের বিভিন্ন আড়ত ঘুরে আড়তদার, খুচরা ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লার নিমসার বাজারের মূল সবজি আসতো বুড়িচং, বরুড়া, দাউদকান্দি, লালমাই, সদর দক্ষিণ, চান্দিনা, সদরসহ কয়েকটি উপজেলা থেকে। কিন্তু বন্যার প্রভাবে এসব এলাকায় এবার কোনও সবজি নেই বললেই চলে। পাশাপাশি দেশের উত্তরের জেলা রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, নিলফামারী, ঠাকুরগাঁও, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সবজি আসে। যে কারণে আগের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি পড়ছে। কিন্তু হাতবদল হয়ে এসব সবজি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতেই দাম হয়ে যাচ্ছে আকাশ ছোঁয়া।

জানা গেছে, কুমিল্লা শহর থেকে কুমিল্লার বড় মোকাম নিমসার বাজারের দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। এই ১০ কিলোমিটারে সবজির দাম কখনও ২০ টাকা আবার কখনও ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয় খুচরা বিক্রেতারা।

শহরে এলে সবজির দামে পার্থক্য দেখা যায় কেজি প্রতি ২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত

১০ কিলোমিটারে সবজির দামের ব্যবধান

কারও মাথায় বস্তা, কারও হাতে। কেউ ছুটছে দোকানের পর দোকান। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক লাগোয়া কুমিল্লার নিমসার সবজির মোকাম এমনই ব্যস্ত। দেশের অন্যতম এই মোকামে প্রতিদিন কত টন সবজি বিক্রি হয় তার হিসেব মেলানো ভার। শনিবার (১৯ অক্টোবর) ভোর থেকে কুমিল্লার নিমসার মোকাম ঘুরে দেখা গেছে, বিকিকিনির ধুম। এদিন নিমসার বাজারের কাঁচা মরিচ ৩৮০, বেগুন ৬০-৭০, লাউ বড় ৪০, ছোট লাউ ২০, করলা ৫০, মুলা ৫০, ঢেঁড়স ৫০, কচুমুখী  (লম্বা) ৩০, কচুমুখী  (গোল) ৫০, ফুলকপি ৬০, শসা ৪৫, বরবটি ৫৫, ধনিয়া ১৩০, শিম ১৬০, কাকরোল ৮০, পটল ৫৫, পেঁপে ৩০, চিচিঙ্গা ৫৫, টমেটো ১৫০, গাজর ১৬০, কুমড়ার কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। নিমসারের মাইশা আড়ত, মোহাম্মদ ছিদরাতুল মোনতাহা বাণিজ্যালয়, বন্ধু বাণিজ্যালয়, একতা কাঁচা ও পাকা মালের আড়ত, মজুমদার বাণিজ্যালয়সহ কয়েকটি আড়ত ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

অপরদিকে কুমিল্লার টমছম ব্রিজ বাজারে এসে দেখা গেছে, একই সবজি, ২০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। জানা গেছে, এই বাজারে নিমসার বাজারের তুলনায় ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৪৮০ কাঁচা মরিচ, ৬০ টাকা বাড়িয়ে ১২০ বেগুন, ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১২০ টাকায় বড় লাউ, ৪০ টাকা বাড়িয়ে ছোট লাউ ৬০, ৫০ টাকা বাড়িয়ে করলা ১০০, ১০ টাকা বাড়িয়ে মুলা ৬০, ৫০ টাকা বাড়িয়ে ঢেঁড়স ১০০, ৪০ টাকা বাড়িয়ে কচুমুখী ৭০ (লম্বা), ৩০ টাকা বাড়িয়ে কচুমুখী ৮০ (গোল), ৮০ টাকা বাড়িয়ে ফুলকপি ১৪০, ৩৫ টাকা বাড়িয়ে শসা ৮০, ৪০ টাকা বাড়িয়ে বেগুন ১২০, ৬৫ টাকা বাড়িয়ে বরবটি ১২০, ৭০ টাকা বাড়িয়ে ধনিয়া ২০০, ৬০ টাকা বাড়িয়ে শিম ২২০, ৪০ টাকা বাড়িয়ে কাকরোল ১২০, ৩৫ টাকা বাড়িয়ে পটল ৮০, ২০ টাকা বাড়িয়ে পেঁপে ৫০, ৭০ টাকা বাড়িয়ে টমেটো ২২০, ৪০ টাকা বাড়িয়ে গাজর ২০০, ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকায় প্রতি কেজি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে। টমছমব্রিজ বাজারের ভাসমান ব্যবসায়ী সুয়া মিয়া, মো. সোহেল, মো. কাউসার হামিদসহ অন্তত ১০ জন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সবজি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতেই দাম হয়ে যাচ্ছে আকাশ ছোঁয়া

এদিকে একই স্থান থেকে আনা এসব সবজি কুমিল্লার রাজগঞ্জ বাজার, রাণীরবাজার, বাদশামিয়ার বাজার, চকবাজার, পদুয়ার বাজার, নিউমার্কেট বাজারসহ আশপাশের সব বাজারেই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তবে বাজার তুলনায় সবচেয়ে বেশি দামে সবজি বিক্রি হয় নগরীর রাজগঞ্জ বাজারে। যেখানে মরিচের কেজি ৫৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা নিমসার বাজারে ৩৮০ টাকা।

চার হাত বদল হয়ে সবজি পায় জনতা

কুমিল্লার নিমসার বাজারের অন্তত ১০ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ বছর কুমিল্লার কোথাও তেমন সবজি নেই। বন্যা ও পরবর্তী বৃষ্টির কারণে সবজির আবাদে পুরোপুরি ধস নেমেছে। যে কারণে সবজির বড় জোগান আসছে উত্তরবঙ্গ থেকে। সেখানে প্রথমে কৃষকের জমির ফসল কিনে নেন ক্ষুদ্র মধ্যস্বত্বভোগী। তিনি জমির ফসল স্থানীয় বড় মোকামে নিয়ে আসেন। এরপর সেখানে ট্রাক নিয়ে বড় আরেক দল মধ্যস্বত্বভোগী থাকেন। তিনি কয়েকজন ক্ষুদ্র মধ্যস্বত্বভোগীর ফসল একত্রে নিয়ে আসেন কুমিল্লা ও ঢাকার বিভিন্ন বাজারে। এরপর কুমিল্লার নিমসার বাজারে আসার পর আবার তা আড়তদারদের হাতে যায়। এরপর আড়তদাররা দাম ঠিক করে তা বিক্রি করেন খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে। তারা বিভিন্ন বাজারে সাধারণ জনগণের কাছে বিক্রি করেন।

ব্যবসায়ীরা যা বলছেন

সবজির দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি আনা ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, উত্তরবঙ্গ থেকে সবজি আনার পরিবহন খরচ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা, যা সবজির বিক্রির লভ্যাংশ থেকেই দিতে হয়। এছাড়া অনেক সময় সবজি কম দামে বিক্রি হলে লোকসানের টাকাও পরেরবার সবজি বিক্রির সময় উসুল করা হয়। যে কারণে উত্তরবঙ্গের মোকাম থেকে আনা সবজির দাম কুমিল্লায় এলে কখনও কখনও দ্বিগুণ হয়।

উত্তর বঙ্গ থেকে সবজির ট্রাক নিয়ে আসা মো. মুরাদ বলেন, ‘আমরা কৃষকদের কখনও দেখি না। জমি থেকে যারা তুলে আনেন আমরা তাদের কাছ থেকে আনি। এরপর আড়তদাররা বিক্রি করেন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে।’

নতুন সবজি বাজারে এলে দাম কিছুটা সহনশীল হতে পারে

মোহাম্মদ ছিদরাতুল মোনতাহা বাণিজ্যালয়ের মালিক মো. ইয়াছিন বলেন, ‘সরকারের দোষ দিয়ে কী লাভ? দেশের ক্ষতি দেশের জনগণ করে। এই যে আমরা কম দামে খুচরা বাজারে বিক্রি করি। আর আমাদের কাছ থেকে নিয়ে বাজারে যা ইচ্ছা তা দামে বিক্রি করে খুচরা ব্যবসায়ীরা। অথচ জরিমানা করে আমাদের। সবজির বাজার এক মুহূর্তে পরিবর্তন হয়। অথচ ২০ টাকার মাল আমাদের কাছ থেকে নিয়ে জনগণের কাছে ৮০ টাকা বিক্রি করে। জনগণ প্রতিবাদ করলে বলে সিন্ডিকেট বাড়িয়েছে। সিন্ডিকেট বলতে কিছু নাই। তারা ক্রাইসিস দেখিয়ে মালের দাম বাড়ায়। এটা খুচরা বিক্রেতাদের দোষ।’

এ বছর সবজির দাম অতিরিক্ত বাড়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি ২৪ বছর ব্যবসা করি। এখন দুইটা আড়তের মালিক। একসময় চার টাকায় আলু বিক্রি হয়েছে। তখন বুড়িচং ছিল সবজির ভাণ্ডার। গোমতীর চর থেকে সবজি এলেই বাজার ভরে যেতো। এ বছর তা নেই। বন্যা এসে সব শেষ করে দিয়ে গেছে। এরপর আবার সবজি লাগালেও তা নষ্ট হয়ে গেছে বৃষ্টিতে। তাই এবার বাইরে থেকে এসেছে সবজি। দামও তুলনামূলক বেশি।’

টমছমব্রিজ বাজারের ব্যবসায়ী সুয়া মিয়া বলেন, ‘আমরা কিনে আনার পর পথে পরিবহন ভাড়া ও দোকান ভাড়ার চিন্তা করতে হয়। যাতে কিনে নেই তা বিক্রি করা সম্ভব নয়। মাঝেমধ্যে সবজি নষ্ট হয়। সব মিলিয়ে আমরা একটা দাম ধরি। কয়েক হাত বদল হয়ে আমাদের হাতে আসায় দাম বেশি পড়ে যায় মাঝেমধ্যে।’

দ্বিগুণ দাম ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হিসেবে যা আসে আমরা তাই ধরি। এতে কত আসে তা আমাদের বিষয় না।’

রাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মো. শোয়েব ও শাহ আলম বলেন, রাজগঞ্জ বাজার শহরের একপাশ হওয়াতে পরিবহন খরচ বেশি। তাই অন্য বাজারের তুলনায় এখানে দামও বেশি। তাছাড়া এখন সবজি পাওয়া যায় না। চাহিদা বেশি থাকলেও সবজির যোগান কম। যে কারণে আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়। তাই দামও বেশি পড়ে।’

যা বলছেন দায়িত্বশীলরা

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কুমিল্লার উপ-পরিচালক আইয়ুব মাহমুদ বলেন, ‘এবারের বন্যা আমাদের কৃষি খাতকে শেষ করে দিয়েছে। কৃষকরা ঋণ করে জমি চাষ করেছেন। অনেকে জমি প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু বন্যা সব ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। টাকার অংকে যা ৭৫৫ কোটির বেশি। যে কারণে স্বাভাবিকভাবেই এবার সবজির দাম বেশি। তবে বুড়িচংসহ কুমিল্লার সব উপজেলায় সবজি চাষ শুরু হয়েছে। তাই ধারণা করছি, এক মাসের কম সময়ে কুমিল্লার বাজারে সবজি নামবে। তখন দাম কিছুটা সহনশীল হবে।’

দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের কাজ উৎপাদনের বিষয়ে খেয়াল রাখা। কিন্তু বাজার মনিটরিং করে অন্য দফতর।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক আছাদুল ইসলাম বলেন, ‘শহরের বাজারগুলোতে নিয়মিত নজরদারি থাকে আমাদের। আজও চার প্রতিষ্ঠানকে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। তাছাড়া বাজার মনিটরিংয়ে যদি অনিয়ম ধরা পড়ে আমাদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।