
কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন বাহারের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক পরিবারের জমি দখল, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন হুমকিধামকির অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২০ অক্টোবর) কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন মা ও ছেলে।
অভিযোগকারীরা হলেন- কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কাশারীপট্টির আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মোহাম্মদ ইমরান হাসান ও তার মা রঙ্গি বিবি।
সেখানে ইমরান হাসান বলেন, কুমিল্লা নগরীর তেলিকোনা এলাকার গুধিরপুকুর পাড়ের দক্ষিণ কর্নারে আমি মায়ের সূত্রে কিছু সম্পত্তি পাই। সেখানে আমরা প্রায় ১৫ বছর ধরে টিনশেড চারটি ঘর উঠিয়ে ভাড়াও নিচ্ছি। ২০২২ সালে আমরা পুকুরপানিতে যেন ভেঙে না যায় সেজন্য বাড়ির চারপাশে বাউন্ডারি দেয়ালের কাজের সংস্কার করলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ডের তেলিকোনা এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা জামরুল হুদা, মাজেদ মিয়া, সেলিম মিয়া, জুয়েল মিয়া ও কাসেম মিয়াসহ কয়েকজন আমাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় তারা বিষয়টি রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়ে যায়। তারা দাবি করে এটি পার্শ্ববর্তী মসজিদের জায়গা। পরে আমরা স্থানীয় কাউন্সিলর, তৎকালীন মেয়র তাহসীন বাহার সূচনাসহ এলাকার সবাইকে জানাই।
তার দাবি, কাউন্সিলর মোহাম্মদ হানিফ আমাদের সোজা বলে দেন, ‘তিনি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেতে পারবেন না।’ এরপর মেয়রের কাছে গিয়েও আমরা কোনও সুরাহা পাইনি। পরে অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে গত মে মাসে উল্টো পুলিশ এসে আমাদের কাজ বন্ধ করে দিয়ে আমাদের শ্রমিকদের নিয়ে যায়। যখন জিজ্ঞেস করি, ‘আপনি এমন করছেন কেন? আমাদের শ্রমিক থানায় নিচ্ছেন কেন?’ থানার ওসি আমাকে বলেন, ‘এমপি বাহারের নির্দেশ আছে।’
ইমরান বলেন, সরকার পতনের পর ২৯ সেপ্টেম্বর আমরা আবার বাড়ির সংস্কার কাজ শুরু করলে তারা আবার আমাদের বাধা দেয় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও সহযোগিতা না পেয়ে আমরা আজ সাংবাদিক সম্মেলন করেছি। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে সাবেক এমপি বাহাউদ্দিন বাহারের ছত্রছায়ায় তার নেতাকর্মীরা আমাদের নিজেদের জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। আমরা এখনও আমাদের জমি দখলে আছি, কিন্তু তারা হুমকি দিচ্ছে, যেকোনও সময় আমাকে মেরে ফেলবে এবং সেই জমি যেন আমরা দিয়ে দেই। অথচ এই জমি আমার মায়ের থেকে আমি পেয়েছি। আমি এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।
তার মা রঙ্গি বিবি বলেন, ছেলেটা এসব বিষয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে তার চাকরিটাও হারিয়েছে। এখন ঘরে বসা। তখন এমপি বাহারের লোকজন আমাদের শান্তিতে থাকতে দেয়নি। এখনও তারা এলাকাবাসীর মাধ্যমে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে। আমি এর সুষ্ঠু সমাধান দেশবাসীর কাছে চাই। এই ছাড়াও প্রশাসনিক সহযোগিতা যেন আমাদের করা হয় সেই অনুরোধ জানাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেম ও মাজেদের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি। তাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এই বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়ে চকবাজার ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই খায়রুল ইসলামকে বিষয়টি তদন্তের জন্য নির্দেশনা দেয়াও হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।