• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

বংশাল থানায় সেদিন কিছুই অবশিষ্ট ছিল না

Reporter Name / ১৮১ Time View
Update : সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

৫ আগস্ট সরকারের পটপরিবর্তনের পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল রাজধানীর বংশাল থানা। থানার চেয়ার-টেবিল থেকে শুরু করে অস্ত্র, ফ্যান, এসি, গ্লাস, অফিসিয়াল কাগজপত্র কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে বাকি সবকিছু পুড়িয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন এই ধ্বংসস্তূপে থেকেই থানার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে বংশাল থানা পুলিশ।

বংশাল থানায় গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে এখনও ভাঙাচোরা চেয়ার-টেবিল পড়ে আছে, আশপাশে গ্লাসের ভাঙা টুকরা। পুলিশ সদস্যদের বসার স্থান এখনও ঠিকমতো মেরামত করা হয়নি। কেবল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পুলিশ পরিদর্শকের (অপারেশন) কক্ষ বসার উপযোগী করা হয়েছে। বাকি সবকিছুর সংস্কারকাজ এখনও চলমান।

কী ঘটেছিল থানায়?

৫ আগস্ট বংশাল থানায় ডিউটিতে যারা ছিলেন তাদের বেশিরভাগই অন্যত্রে বদলি হয়ে গেছেন। দু-একজন যারা আছেন তারা কোনোভাবেই ঘটনার বিবরণ দিতে রাজি নন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বলা চলে ৫ আগস্ট পুরো থানা ধ্বংস হয়ে গেছে। ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যরা কোনোরকমে জীবন রক্ষা করে থানা ত্যাগ করেছেন। উত্তেজিত ছাত্র-জনতার সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। তবে রাত গড়াতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তার আগেই থানা লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার পর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না বংশাল থানায়

এই পুলিশ সদস্য হামলার ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, তখন আনুমানিক বিকাল ৩টা বাজে। আমাদের কাছে খবর এলো যাত্রাবাড়ী থানায় হামলা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের বেধড়ক মারধর করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। এসব শোনার পর আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তখন আমাদের থানায় ডিউটিরত সবাই সতর্ক অবস্থান নেয়। এসময় দেখলাম অসংখ্য মানুষ রাস্তায় বিজয় মিছিল নিয়ে বের হয়েছে। তারা সবাই বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিয়ে গুলিস্তানের দিকে যাচ্ছে। কেউ বললো গণভবনে যাচ্ছে, আবার কেউ বললো শহীদ মিনারে যাচ্ছে। বিকাল সাড়ে ৩টার পরও বংশাল থানার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। এরপর ঝামেলা শুরু হয়। তারপরের ঘটনা আর বলার কিছু নেই।

৫ আগস্ট বংশাল থানায় ঠিক কী হয়েছিল তা জানতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রতিবেদক। সায়েদুল ইসলাম নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পুলিশ সদস্যরা বংশাল থানার সামনে দাঁড়িয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছিল। বিপরীতে রায়সাহেব বাজার মোড় থেকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছে। আসর নামাজের আগে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ থেমে থেমে এশার নামাজের পর পর্যন্ত চলেছে। সেদিন অসংখ্য মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কারও হাতে গুলি লেগেছে, কারও পায়ে, কারও বুকে বা পেটে। একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

থানার কাজকর্ম চলছে ভাঙাচোরা চেয়ার-টেবিলের পাশে বসেই

এই সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় রিপন বলেন, ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে জানি না। শুনলাম শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তখন আমরা পরিবারের সবাই বাসা থেকে বের হয়েছি। হাজার হাজার মানুষ বিজয় মিছিল নিয়ে উল্লাস করছিল। আমি তখন বিজয় মিছিলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে এই ঘটনা লক্ষ করি।

ঘটনার সূত্রপাত জানতে কথা হয় ধোলাইখাল টং মার্কেটে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে। তাদের একজন রিফাত হোসেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, সবাই যখন আনন্দ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে যাচ্ছিল, তখন বেশ কয়েকজন বংশাল থানার পাশে থাকা আওয়ামী লীগের একটা অফিস ভাঙচুর করে। বিকাল ৪টা নাগাদ থানায় কোনও হামলা হয়নি। পুলিশ সদস্যরা থানার সামনে অবস্থান করছিল। এর মধ্যে একদল মানুষ ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারে। থানার সামনে বংশাল থানা লেখা যে ব্যানার ছিল তার ওপরে ইট মারে। থানার ভেতরেও ইটপাটকেল, জুতাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছুড়ে মারে। তখন পুলিশ পাল্টা ইটের বদলে গুলি করতে থাকে। মুহূর্তেই ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

রিফাত জানান, এক সাংবাদিক এসেছিলেন পুলিশ আনন্দ মিছিলে কেন গুলি করছে জিজ্ঞাসা করতে। পুলিশ উল্টো তাকে গুলি করার হুমকি দেয়। পরে তিনি ওই স্পট ত্যাগ করেন।

আস্থা ফিরেছে?

বংশাল থানার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এখনও তারা পুলিশের ওপর আস্থা আনতে পারছেন না। স্থানীয় আব্দুল মোত্তালিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনা কোনোভাবেই ভুলতে পারছি না। এই থানার পুলিশই আমাদের ভাই-ব্রাদার প্রতিবেশীর ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। এখনও ওই দৃশ্য চোখে ভেসে ওঠে। পুলিশের এমন নিষ্ঠুরতা কল্পনা করলে এখনও গা শিউরে ওঠে। তবে আমাদের প্রত্যাশা, বংশাল থানার পুলিশ জনগণের পুলিশ হয়ে ফিরবে।

বংশাল থানার সার্বিক বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই মুহূর্তে বংশাল থানার অবস্থা ভালো। পুলিশ তার নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরে এসেছে। নিয়মিত ডিউটি, মামলা তদন্তসহ সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বংশাল থানা মেরামতের কাজ এখনও চলছে

থানা ভাঙচুর এবং ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা অতি উৎসাহী মানুষের কার্যকলাপ ছিল। আর সেদিন কী রকম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও দৃশ্যমান। এখনও থানা পুরোপুরি মেরামত করা হয়নি। বাজেট হয়েছে, কাজ চলমান আছে। থানার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি বলতে পারবেন। কারণ তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না। থানার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তা কীভাবে ঘুচবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে জনগণের জন্যই তো পুলিশ। পুলিশটা করা হয়েছে তো জনগণের জন্য। একটা সময় এটা পলিটিক্যালি ব্যবহার হয়েছে, তা এখন আর নেই। আর এখন পুলিশ তার সত্যিকারের পেশাগত আচরণে ফিরে আসবে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যে দূরত্ব তা আমরা আমাদের পেশাগত আচরণ দিয়েই দূর করবো।

থানার ওসি বলছেন, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে

থানায় হামলা ও এলাকার বাসিন্দাদের বিষয়ে ওসি আতিকুর রহমান বলেন, সেদিন আসলে কিছু মানুষ গুজব ছড়িয়ে এবং অতি উৎসাহী হয়ে থানা ভাঙচুরের মতো উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ড করেছে। তবে বংশাল এলাকার অনেক মানুষ পুলিশকে সহযোগিতা করেছে। পুলিশের জান-মাল রক্ষা করেছে। বংশাল থানার মানুষের কাছে এজন্য পুলিশ বাহিনী কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে এই বংশাল এলাকার মানুষের জন্য পুলিশ তার পেশাদারিত্ব দিয়ে সর্বোচ্চটুকু সহযোগিতা করবে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যা যা করা প্রয়োজন তা-ই করবে।

পুলিশ সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে তিনি বলেন, পুলিশ হচ্ছে একটা ট্রেনিংয়ের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করা ডিসিপ্লিনড বাহিনী। এবার যে ঘটনা ঘটেছে তা পুলিশ অতীত জীবনে কখনও দেখেনি, আর ভবিষ্যতেও দেখবে বলে মনে হয় না। এজন্য আমরা আসলে কিছুটা হতভম্ব, তবে ট্রমাটাইজড না। তো মানসিক স্বাস্থ্যের যে বিষয়টা, সেটির উন্নতি হয়ে এখন ভালো আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।