• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বেবিচকের পাঁচ কর্মকর্তার : বিরুদ্ধে নিয়োগ বদলি পদোন্নতি

Reporter Name / ২২৭ Time View
Update : বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য এবং সহকর্মীদের নানাভাবে নাজেহাল করার দায়ে পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ‘বিক্ষুব্ধ’ কর্মচারীদের অভিযোগের পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে বেবিচক সূত্র জানিয়েছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন—নিরাপত্তা বিভাগের উপ-পরিচালক রাশিদা সুলতানা, ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্স বিভাগের উপপরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্স বিভাগের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন, ভাণ্ডার শাখার উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান এবং বেবিচক সদর দফতরের উপপরিচালক (পিএস টু চেয়ারম্যান) সোহেল কামরুজ্জামান।

রাশিদা সুলতানাকে গত ১৫ আগস্ট পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে বদলি করা হলেও তিনি এখনও সেখানে যোগদান করেননি। এমতাবস্থায় তার বেতন বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে। বেবিচক সদর দফতরের উপপরিচালক (পিএস টু চেয়ারম্যান) সোহেল কামরুজ্জামানকে ১১ আগস্ট ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনসে বদলি করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে বেবিচক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেবিচকে এই পাঁচ কর্মকর্তা অবৈধ প্রভাব খাটাতেন। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিতে একচ্ছত্র প্রাধান্য ছিল তাদের। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা কামানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। রাশিদা সুলতানার দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদনও হয়েছে।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেন বিমানের কর্মচারীরা। গত ১৮ আগস্ট এই কর্মকর্তাদের ‘দুর্নীতিবাজ-দানব’ উল্লেখ করে তাদের তাৎক্ষণিক চাকরিচ্যুত করার দাবি জানান তারা।

জসীম নামে এক কর্মচারী বলেন, এই কর্মকর্তারা বেবিচকের নানা টেন্ডারবাজির সঙ্গেও জড়িত। তারা অনেকের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রমোশন আটকানোর কাজ করতেন। তাদের নানা কাজে মদত দিতেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোকাম্মেল হোসেন। আমরা তার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

বেবিচকের একটি সূত্র জানায়, কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগ সত্য কিনা সে ব্যাপারে কোনও তদন্ত হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বদলি বাণিজ্য করেছেন। যাকে যেখানে খুশি বদলি করেছেন, প্রমোশন আটকে রেখেছেন, বিদেশে যেতে বাধা দিয়েছেন। তাদের কথামতো কাজ না করলেই বিএনপি-জামায়াতসহ দলীয় ট্যাগ দিয়ে অফিসিয়াল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতেন। কর্মকর্তাদের অনেকেই আবাসন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হলেও তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অনেক কর্মচারী তাদের নিপীড়নের শিকার। তাদের বদলি নয়, অপসারণ করতে হবে। নতুবা তারা বেবিচকে থেকে আবারও নানা ষড়যন্ত্র করতে পারে।

অপরদিকে অভিযোগের বিষয়ে উপপরিচালক কামরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যারা আমাদের দুর্নীতিবাজ বলছে তাদের ইতিহাস কী? আমরা কোনোভাবেই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় আমাকে চট্টগ্রাম বদলি করা হয়েছিল। অথচ সেখানে আমার কোনও পদই ছিল না। এগুলো তো আমরা মেনে নিয়েছি। ওই সময় যারা নিজেকে আওয়ামী লীগ দাবি করেছিল, এখন তারাই বিএনপি সেজে আমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন যদি কর্তৃপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তবে কী আর করার আছে। আইনিভাবে সেটি মোকাবিলা করতে হবে।

অভিযুক্ত অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সার্বিক দিক বিবেচনা করে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। আরও কিছু পদক্ষেপ আমরা নেবো।’

তিনি বলেন, ‘আমার যোগদানের পর অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। তারই আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।