• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না রাজশাহীতে নতুন জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম আগামী তিন মাসে যেকোনো বারের তুলনায় বাড়বে রাজস্ব আয়: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র ঈদের ছুটি শেষে বিকেল ৩টায় বসছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন ঈদ উপলক্ষে ট্রেন যাত্রীদের সহায়তায় রাসিক প্রশাসকের ব্যতিক্রমী প্রশংসনীয় উদ্যোগ ‘বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারে বাধা নেই’ দেশের সব পেট্রোল পাম্পে নিয়োগ করা হবে ট্যাগ অফিসার নেপালে নতুন সরকারের শপথের পরদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রেপ্তার রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার মৃত্যু পদ্মায় বাসডুবিতে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসছে সংসদীয় কমিটি ও সরকারি দল

সাড়ে তিন ভাগ গ্যাসের সিস্টেম লসের অভিযোগ সঞ্চালনেই

Reporter Name / ২৬০ Time View
Update : বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০২৪

সঞ্চালনেই আড়াই থেকে সাড়ে তিন ভাগ গ্যাসের সিস্টেম লসের অভিযোগ উঠেছে। গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাসের গ্যাস সঞ্চালন বিবেচনা করে পেট্রোবাংলা যে তথ্য দিয়েছে, তাতে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

পেট্রোবাংলা সঞ্চালনে এই সিস্টেম লস কমানোর চেষ্টা করলেও গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল) পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানের অপসারণ চেয়ে উল্টো মানববন্ধন করে চাপ প্রয়োগ করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১ আগস্ট ২০২২ সালে পেট্রোবাংলা একটি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয় খনিগুলো থেকে গ্যাস সঞ্চালন করে যে পয়েন্টে জিটিসিএল বিতরণ কোম্পানিকে গ্যাস বুঝিয়ে দেয়, ওই পয়েন্টে একটি মিটারিং সিস্টেম করা হবে। গত ১ জানুয়ারি থেকে যা কার্যকর করে পেট্রোবাংলা।

এতে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্যাস খনিগুলো থেকে জিটিসিএলকে ১৭৯ কোটি ৪১ লাখ ৭৭ হাজার ২৪৭ ঘনমিটার গ্যাস দেওয়া হয়। কিন্তু বিতরণ কোম্পানিকে তারা সরবরাহ করতে পেরেছে ১৭৪ কোটি ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৩১ ঘনফুট। অর্থাৎ খনি থেকে জিটিসিএলের পাইপলাইন দিয়ে আসার সময় ২ দশমিক ৯৫ ভাগ গ্যাসের সঞ্চালন ক্ষতি হয়েছে। সঞ্চালন ক্ষতি হওয়া মোট গ্যাসের পরিমাণ ৫ কোটি ৩০ লাখ ৪ হাজার ২১৬ ঘনমিটার।

একইভাবে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৬২ কোটি ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫০৪ ঘনফুট গ্যাস সঞ্চালন করে জিটিসিএল। এর মধ্যে ২ দশমিক ৯৯ ভাগ সঞ্চালন ক্ষতি বাদ দিয়ে ১৫৭ কোটি ৩৮ লাখ ৫৮ হাজার ৪৭২ ঘনমিটার গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কাছে পৌঁছে দিয়েছে। ওই মাসেও তারা ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭ ঘনমিটার গ্যাসের সঞ্চালন ক্ষতি করেছে।

একইভাবে গত মার্চে জিটিসিএল গ্যাস নিয়েছে ২০২ কোটি ৪২ লাখ ৭৫ হাজার ৭১০ ঘনমিটার। বিতরণ কোম্পানির কাছে সরবরাহ করেছে ১৯৬ কোটি ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২৩ ঘনিমটার। অর্থাৎ ৩ দশমিক ১০ ভাগ হারে সিস্টেম লসের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ২৮ লাখ ৬ হাজার ৮৭৮ ঘনমিটার।

এপ্রিলে ১৮৩ কোটি ২ লাখ ২১ হাজার ১৮৮ ঘনমিটার গ্যাস নিয়ে তারা সরবরাহ করেছে ১৭৮ কোটি ৬১ লাখ ৫৫ হাচার ৬৮৮ ঘনমিটার। অর্থাৎ ২ দশমিক ৪১ ভাগ হারে সঞ্চালন ক্ষতির পরিমাণ ৪ কোটি ৪০ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ ঘনমিটার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, আগে বিতরণ কোম্পানিগুলো যে গ্যাস নিচ্ছে এবং যে বিল আদায় করছে, তা যোগ-বিয়োগ করে সিস্টেম লস নির্ধারণ করা হতো। কিন্তু বিতরণ কোম্পানির তরফ থেকে দিনের পর দিন অভিযোগ করা হয়, তারা জিটিসিএলের কাছ থেকেই গ্যাস কম পাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ২০০৮ সাল থেকেই আলোচনা চলছিল। এ নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনও একাধিকবার নির্দেশনা দেয়।

তিনি আরও বলেন, এবার জিটিসিএল যে পয়েন্ট থেকে বিতরণ কোম্পানিকে গ্যাস বুঝিয়ে দিচ্ছে, সেই পয়েন্টে মিটারিং করা হয়। দেখা গেছে সত্যি সত্যি তারা গ্যাস কম পাচ্ছে। জিটিসিএল যেহেতু গ্যাস বিক্রি করে না, তাই এই গ্যাস কোথায় কীভাবে হারিয়ে যাচ্ছে, তা দেখার দায়িত্বও তাদের। নিয়ম অনুযায়ী যেহেতু পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস যাচ্ছে, তাই অপচয়ের কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু জিটিসিএল এখন এটি মানতে রাজি না। উল্টো তারা বিষয়টি অস্বীকার করছে বলেও অভিযোগ করেন এই কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে জিটিসিএলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জিটিসিএল থেকে সিস্টেম লস হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা শুধু গ্যাস পরিবহন করে বিতরণ লাইনে সরবরাহ করি। এই সঞ্চালন লাইনটি এত চাপে থাকে যে সেটি ফুটো করে বা অন্য কোনও উপায়ে গ্যাস চুরি সম্ভব নয়। যদি সিস্টেম লসের কথাই ওঠে, তাহলে তা বিতরণ লাইনে যাওয়ার পর থেকে পারে বলে তিনি মনে করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।