• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

বাংলাদেশের অচেনা মাঠে বিশ্বকাপ শুরু

Reporter Name / ১৬১ Time View
Update : শনিবার, ৮ জুন, ২০২৪

ডালাসের আবহাওয়া আর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স- দুটোই অনিশ্চয়তায় ভরা। গত কিছুদিন ধরে এই শহরের আবহাওয়া এই ভালো তো, এই খারাপ। এই ঝড় তো, এই তীব্র রোদ! বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও অনেকটা তেমনই! কখন, কবে, কার বিপক্ষে বাংলাদেশ দল প্রতিরোধ গড়বে, আগে থেকে বোঝা বেশ কঠিনই! এই যখন অবস্থা, তখন নাজমুল হোসেন শান্তর দলের বিশ্বকাপ সফর শঙ্কা-আশার দোলাচলে বন্দি। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে লাল-সবুজদের। ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে নাগরিক টেলিভিশনে।

তবে এই মুহূর্তে দুটি দলই প্রায় একই সমীকরণে দাঁড়িয়ে! ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় তাদের মধ্যে। ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা বাতিল হয়। এই কারণে মাঠটি অনেকটা অচেনা থেকে গেছে বাংলাদেশের জন্য। শ্রীলঙ্কার জন্যও মাঠটি অচেনা, তারা নিউইয়র্কে প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলেছে। ওই ম্যাচে নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৭৭ রানে অলআউট হয়েছিল লঙ্কানরা। স্বাভাবিকভাবেই তারা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া সুযোগ সুবিধার স্বল্পতা নিয়ে ক্ষোভ তো আছেই! বাংলাদেশও বিধ্বস্ত, স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজ খুঁইয়েছে শান্তর দল, হেরেছে ভারতের বিপক্ষে ওয়ার্মআপ ম্যাচও। সবমিলিয়ে দুই দল ‘সহঅবস্থানে’ বলা যায়।

তাই তো ডালাসের অচেনা ভেন্যুতে দুই দলের একটাই চাওয়া- জয়। নিউইয়র্কে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে আসা শ্রীলঙ্কার সামনে সুপার এইটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প নেই। আর বাংলাদেশ চায় লঙ্কানদের হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশনের শুভসূচনা করতে।

যদিও দুই দলই ডালাসের ম্যাচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে। এমনিতেই ডালাসের অতীত পরিসংখ্যান ব্যাটারদের পক্ষেই কথা বলছে! গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামের পিচ রিপোর্ট এবং অতীত পরিসংখ্যান বলছে টস জয়ী দল আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে সফল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি ছিল হাই স্কোরিং। কানাডার দেওয়ার ১৯৫ রানের টার্গেটে ১৪ বল হাতে রেখে জয় পায় যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল আবার লো স্কোরিং। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাত্র ১০৬ রানে অলআউট হয় নেপাল। আবার গতরাতে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তানের ম্যাচটি শেষ হয় সুপার ওভারে। এ ম্যাচে আবার স্কোর হয়েছে মাঝারি মানের। সবমিলিয়ে তাই উইকেট নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি থাকছেই।

ডালাসের উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এখানে এক ম্যাচে ১৯৪ রান হলো, আরেক ম্যাচে হলো ১৫০ এর মতো। কালকে (শনিবার) যখন আমরা খেলাটা শুরু করবো, তখনই আসলে বোঝা যাবে কত রানের উইকেট বা কত রান আমরা ডিফেন্ড করতে পারবো। এটা বলা মুশকিল। কিন্তু ওভারওল যদি চিন্তা করা যায় অবশ্যই আমার কাছে যেটা মনে হচ্ছে নতুন বলে ব্যাটিংটা চ্যালেঞ্জিং।’

উইকেটে চ্যালেঞ্জ থাকুক কিংবা না থাকুক; বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি বেশ চ্যালেঞ্জিংই। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে তীব্র সমালোচনার সামনে শান্তরা। এই অবস্থায় বিশ্বকাপের মঞ্চে ভালো করতে না পারলে সমালোচনার তীরে আরও ক্ষত-বিক্ষত হতে হবে লিটন-সাকিবদের। শান্ত জানিয়েছেন বিশ্বকাপ মিশনে নামতে তার দল পুরোপুরি প্রস্তুত আছে, ‘খুবই ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে সবাই। আপনি যেটা বললেন অবশ্যই অতীতে আমরা ভালো সিরিজ যায়নি বা ব্যাটাররা রান করেনি। কিন্তু কালকে (শনিবার) পুরোপুরি একটা নতুন দিন। আমরা কেউই জানি না কে ভালো খেলবে বা কে দলকে জেতাবে। সবাই দলকে জেতানোর জন্য প্রস্তুত। সবার মধ্যে সেই সামর্থ্যটা আছে। আমি আশা করবো যে, আমরা দিনটা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবো।’

তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে না। কেননা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার রয়েছে একচ্ছত্র আধিপত্য। দুইবার মুখোমুখি হয়েছে তারা। দুইবার শ্রীলঙ্কার জয়। মোট লড়াইয়েও শ্রীলঙ্কা এগিয়ে। ১৬ লড়াইয়ের ১১টিতে জয় লঙ্কানদের।  শনিবার নতুন ম্যাচের আগে পরিস্থিতি কতটা পাল্টানো যাবে, সেইসব নিয়ে আছে সন্দেহ। কেননা বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় দু:চিন্তার নাম ব্যাটিং।  লিটন দাস, সৌম্য সরকার আর নাজমুল হোসেন শান্ত একসঙ্গে ছন্দ হারিয়ে বসে আছেন। শুরুতেই তাদের ব্যর্থতা আগের ম্যাচগুলোর মতো জয়ের সম্ভাবনাকে ফিঁকে করে দিতে পারে।

শান্ত অবশ্য নতুন দিনে, নতুন ম্যাচে আশার বাণীই শুনিয়ে গেলেন, ‘আগে যা হয়েছে তা নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমরা জানি, আমরা কতটা সামর্থ্যবান। ম্যাচে আমাদের সাহসী হতে হবে এবং পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে হবে।’

ব্যাটিং ভাবালেও বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে তাসকিন আহমেদ আর শরিফুল ইসলামের চোট পেস আক্রমণকে করেছে ভোঁতা। শরিফুলকে না পেলেও তাসকিনের খেলা অনেকটাই নিশ্চিত। তাসকিন-মোস্তাফিজের সঙ্গে বোলিং আক্রমণে কারা থাকবেন, সেটি নিয়ে অবশ্য অস্পষ্টতা আছে। ডালাসের উইকেট-কন্ডিশনে তিন পেসার নাকি তিন স্পিনারের বোলিং আক্রমণ নিয়ে দল সাজানো হবে, সেই ব্যাপারে কিছু বলেননি অধিনায়ক শান্ত।

বিশ্ব ক্রিকেটে দুই দলের লড়াইটা এখন বেশ ঝাঁঝালো। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের মানেই যেন বিতর্ক, উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ। নিদাহাস ট্রফিতে ‘নাগিন ড্যান্স’, ওয়ানডে বিশ্বকাপে ‘টাইমড আউট’ বিতর্ক। যা বারবার ফিরে আসছে দুই দলের লড়াইয়ে। যার আবহ ছিল গত মার্চে দুই দলের সিরিজে। এ ম্যাচেও যে এমন বিতর্ক মাথা চাড়া দেবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়?


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।