• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

দিনব্যাপী আলোচনা সংগীতের মেধাস্বত্ব নিয়ে

Reporter Name / ১৪৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০২৪

মেধাস্বত্ব নিয়ে জলঘোলা কম হলো না দেশে। স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও এটির কোনও স্বচ্ছ সুরাহা মেলেনি। এখনও একজন সংগীত স্রষ্টাকে মামলার বেড়াজাল পেরিয়ে নিজের স্বত্ব বা রয়্যালটি বুঝে নিতে হয়।

তবে আশার কথা গেল ক’বছর হলো বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস মেধাস্বত্ব নিয়ে বেশ খাটছে। সঙ্গে সিএমও হিসেবে বিএলসিপিএস (বাংলাদেশ লিরিসিস্ট, কম্পোজার্স অ্যান্ড পারফর্মারস সোসাইটি) কাজ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও প্রযোজকদের সমন্বিত আগ্রহের অভাবে পুরো কার্যক্রমটি দানা বাঁধছে না। ফলে মেধাস্বত্ব বা সিএমও’র সুফল ঘরে উঠছে না সঠিক শিল্প-স্রষ্টাদের হাতে।

মূলত এসব জটিলতা কিংবা বাধা নিরসনে ৪ জুন দিনব্যাপী একটি বিশেষ কর্মশালা হয়েছে রাজধানীর সিক্স সিজন হোটেলে। ডব্লিউআইপিও (ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশন) এবং জাপান কপিরাইট অফিসের সহযোগিতায় বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস ও বিএলসিপিএস-এর যৌথ আয়োজনে এই মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ডব্লিউআইপিও এবং আইপিআরএস (ইন্ডিয়ান পারফর্মিং রাইট সোসাইটি)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করেন।


মঙ্গলবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয় স্বাগত বক্তব্য দিয়ে। বিএলসিপিএস, ডব্লিউআইপিও এবং বাংলাদেশ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যথাক্রমে হামিন আহমেদ, মিয়ুকি মনরইং এবং নাফরিজা শ্যামা স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

এরপর কপিরাইট রেজিস্ট্রার মোঃ দাউদ মিয়া, এনডিসি (অতিঃ সচিব) দিনের কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উদ্বোধনের পর পর্যায়ক্রমে মোট ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম সেশনের বিষয় ছিলো- স্থানীয় সিএমও’র প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য কালেকটিভ ম্যানেজমেন্ট এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে ডব্লিউআইপিও-এর কার্যক্রম। সেশনটি পরিচালনা করেন সংস্থাটির কপিরাইট বিভাগের প্রোগ্রাম অফিসার মিয়ুকি মনরইং।

দ্বিতীয় সেশনের বিষয় ছিলো ‘বিশ্বজুড়ে সংগীত প্রণেতাদের নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রতিনিধিত্ব করা এবং কার্যকরভাবে সংগীত প্রণেতাদের কাছে রয়্যালটি প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য সিআইএসএসি-এর ভূমিকা এবং উদ্যোগসমূহ’। এই বিষয়ের ওপর আলোচনা করেন সিআইএসএসি (ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব সোসাইটিজ অব অথরস অ্যান্ড কমপোজার্স)-এর রিজিওনাল ডিরেক্টর বেনজামিন এনজি।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর অনুষ্ঠিত দিনের তৃতীয় সেশনের বিষয় ছিল–‘সংগীত প্রণেতা এবং সংগীতের শ্রোতা/ভোক্তাদের জন্য একটি সৃজনশীল ইকোসিস্টেম তৈরিতে স্থানীয় সিএমওগুলির ভূমিকা: সিএমওগুলি আপনার প্রতি কী অবদান রাখতে পারে’।

‘বাংলাদেশে কপিরাইট এবং রিলেটেড রাইটসের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যতে সংগীত প্রণেতা এবং সৃজনশীল শিল্পকে সমর্থন করার জন্য যে সকল সহযোগিতা দিতে পারে’- এই বিষয়ের ওপর দিনের চতুর্থ সেশনটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার মোঃ দাউদ মিয়া।

দিনের শেষ সেশনে বিএলসিপিএস-এর বর্তমান কার্যক্রমের অবস্থা এবং ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন এর সিইও মাইলস ব্যান্ড প্রধান হামিন আহমেদ।


তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীদের সিএমও হিসেবে বিএলসিপিএস সরকারি অনুমোদন পায় ২০১৪ সালে। তখন থেকেই দেশের গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীদের কপিরাইটসহ অন্যান্য স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আমরা কাজ করছি। পশ্চিমাদেশগুলোতে এ ধরনের উদ্যোগ অনেক সফলতা পেয়েছে। কারণ এর বিকল্প নেই। বাংলাদেশ স্বাধীনতার দীর্ঘ বছর কেটে যাবার পরও মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ এবং রয়্যালটি আদায়ের বিষয়টি ছিল হযবরল। এই কারণে বাংলাদেশের গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীদের জন্য সিএমও হিসেবে কাজ করছে বিএলসিপিএস। আর বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিতে এই ধরনের সুবিধা নেবার সিস্টেম দ্বিতীয়টি নেই।’

দিনব্যাপী এই আয়োজনে অতিথি হিসেবে অংশ নেন সংগীতের নানা শাখার শীর্ষস্থানীয়রা। এরমধ্যে রয়েছেন নকীব খান, মাকসুদুল হক, শহীদ মাহমুদ জঙ্গি, শেখ মনিরুল ইসলাম টিপু, শওকত আলী ইমন, প্রিন্স মাহমুদ, অর্ণব, বালাম, আলিফ আলাউদ্দিন, রাহুল আনন্দ, প্রীতম হাসান, জুনায়েদ ইভানসহ অনেকে।

বলা দরকার, বর্তমানে বিএলসিপিএস-এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে একটি অলাভজনক ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে, যার নেতৃত্বে আছেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।