• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

পাঁচ বছরে বাজারে এসেছে প্রায় ছয় হাজার, মান নিয়ে বিতর্ক: বইমেলার কবিতার বই

Reporter Name / ১৪৭ Time View
Update : শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪

অমর একুশে বইমেলা স্বীকৃতি পেয়েছে সাহিত্যপ্রেমী মানুষের প্রাণের মেলা হিসেবে। এই মেলার প্রতিদিনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ নতুন বই। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক বইয়ের পাশাপাশি আসছে কবিতার বইও। বাংলা একাডেমির তথ্যমতে গত পাঁচ বছরে (২০২০-২০২৪) বইমেলায় নতুন কবিতার বই এসেছে ৫ হাজার ৮০২টি। যেখানে মোট বই এসেছে ১৭হাজার ৭৯৬টি। অর্থাৎ কবিতার বই মোট বইয়ের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। বিষয়ভিত্তিক বইয়ের হিসেবে সবচেয়ে বেশি এটি।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত বাংলা একাডেমির জনসংযোগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, ২০২০সালে বইমেলায় মোট বই আসে ৪ হাজার ৯১৯টি। এরমধ্যে কবিতার বই ১ হাজার ৫৮৫ টি। এর আগে ২০২১ সালে ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া মেলায় বই আসে মোট ২ হাজার ৬৪০টি, এরমধ্যে কবিতার বই ছিল ৮৯৮টি। ২০২০ সালে মোট বই আসে ৩ হাজার ১২৪টি, এর মধ্যে কবিতার বই ছিল ৯৭০টি।

কবিতার বই সবচেয়ে বেশি ছাপা হচ্ছে, এর মান নিয়েও আলোচনা সবচেয়ে বেশি

করোনার প্রভাব কাটিয়ে আবারও ভাষার মাসের শুরু থেকে মেলা শুরু হয় ২০২৩সাল থেকে। ওই বছর মেলায় মোট নতুন বই আসে ৩ হাজার ৭৩০টি, এরমধ্যে কবিতার বই ১ হাজার ২৪৭টি। চলমান বইমেলার ২০২৪’এর ২৮তম দিন পর্যন্ত মেলায় নতুন বই আসে ৩ হাজার ৩৮৩টি, এরমধ্যে কবিতার বই এসেছে ১ হাজার ১০২টি।

সংখ্যাটা আশা জাগানিয়া হলেও কবিতার মান নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। যেই কবিতা এক সময় আন্দোলন সংগ্রামে প্রাণ জোগাতো, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন-একাত্তরের রণাঙ্গনে মনোবল ধরে রাখার উৎস ছিল, এখন আর সেই অবস্থা নেই বলে অভিযোগ। বর্তমানে কবিতার মান নিয়ে অসন্তোষের শেষ নেই। কবি আর কবিতার মান নিয়ে পাঠক-গবেষকরা সমালোচনায় মুখর। পাঠকরা বলছেন, কবিতার মান ঠিক রাখতে না পারলে কবিতার গৌরবের ঐতিহ্য হারাতে হবে হয়তো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার ছিদ্দিক ফারুক বলেন, পৃথিবীর সুন্দর বিষয়গুলোর সঙ্গে কবিতার তুলনা দেওয়া হয়, কবিতা সুন্দর। কবিতার শিল্পকর্ম সবাই আত্মস্থ করতে পারে না। কবিতায় যা আছে তারচেয়ে বেশি বোঝানো হয়, এতেই কবিতা অর্থবহ হয়। বইমেলা থেকে কবিতার বই প্রতিবছর সংগ্রহ করা হয়। এখন পর্যন্ত জাভেদ হুসেনের অনুবাদ, মির্জা গালিবের কবিতা, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের কবিতা সংগ্রহ করা হয়েছে। কবিতার বই নিয়ে পর্যবেক্ষণ রয়েছে, নতুন কবিদের বই সংগ্রহ করার চিন্তা রয়েছে। তবে নতুন কবিরা পাঠক সৃষ্টি করতে পারছে কিনা, তাও চিন্তার বিষয়।

কবিদের দাবি, পাঠকরা কবিতার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন না, এই কাজ গবেষকদের

কবিতার মান নিয়ে ঢাবির স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ যাইফ বলেন, কবিতাকে আমার কাছে এক ধরনের শিল্প মনে হয়। আর এ শিল্পের আয়ত্তের জন্য যেমন কাব্যপ্রতিভার প্রয়োজন, তেমনই দীর্ঘদিনের চর্চা–সাধনার প্রয়োজন। তরুণ কবিদের ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, একটা বই লেখার আগে যে প্রস্তুতি-সময় নিয়ে লেখা উচিত সেটা তরুণ কবিদের ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে না, ঘাটতি রয়েছে। যদি উদাহরণ দেই আমি, হেলাল হাফিজ একটা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের ২৬ বছর পর আরেকটি কবিতার বই বের করেছেন। এবং দেখুন দুটি বইই বাংলা কবিতার একটা মাইলফলক বলা যায়। বর্তমানে যারা লিখছেন তাদের ক্ষেত্রে এ প্রস্তুতি-সাধনার ঘাটতি আছে বলে আমার মনে হয়, যার কারণে কবিতার মান খুবই খারাপ।

‘কবিতা সমসাময়িকরা বিচার করতে পারেন না’

কবিতার সংখ্যা সব সময়ই বেশি ছিল বলে দাবি করছেন কবিরা। মানের প্রশ্নে তাদের দাবি, সমসাময়িকরা কবিতার মান নিয়ে কথা বলতে পারেন না। কবিতার মান বুঝতে অন্তত ২০ বছর সময় লাগবে। আবার কেউ কেউ বলেন, পাঠকরা কবিতার মান নিয়ে কথা বলতে পারেন না। মান নিয়ে কথা বলবেন গবেষকরা।

কবিতার সংখ্যা ও মান নিয়ে কবি হাসান রোবায়েত বলেন, কবিতার সংখ্যা সব সময়ই বেশি ছিল। শুধু পাঁচ-দশ বছর ধরেই এটা হচ্ছে না। বাংলা ভাষার কারণে কবির সংখ্যা বেশি।

মান নিয়ে তিনি বলেন, কবিতার জন্য সমসাময়িকরা কখনও বিচারক না। কবিতার মান বিচার করতে পারেন না তারা। কবিতার মান বিচার করতে অন্তত ২০ বছর সময় লাগবে। অনেক বিখ্যাত কবি আছেন যাদের কবিতার মান নিয়ে প্রথম দিকে প্রশ্ন থাকলেও বর্তমানে তা অনুসরণীয়।

কবিতার মান বুঝতে অন্তত ২০ বছর অপেক্ষা করতে হয় বলে দাবি কবিদের

কবিতার মান নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে যশোর-৩ আসনের সাংসদ ও কবি কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, কবিতা মানসম্পন্ন কি মানহীন সেটা ভবিষ্যতই বিচার করবে। যেকোনও সাহিত্যের বর্তমানকালে আমরা যারা আছি, তারা কিন্তু তার সঠিক বিচারক নই। অনেক জাতীয় সাহিত্য, যাকে আমরা স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরে নেই, তৎকালে সেগুলো মানসম্পন্ন কিনা সেটি নিয়ে প্রশ্ন করা হতো। যেকোনও সৃষ্টিশীল কাজের সবদিকই আছে। কেউ তাকে ভালো বলবে, আবার কেউ বলবে আরও ভালো হতে পারতো। আমি বলবো যেকোনও চর্চা অব্যাহত থাকুক। সেটি ভালো বা খারাপ, তা ভবিষ্যতেই বিচার করবে।

বিক্রি নিয়ে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ বলেন, কবিতার বই সংখ্যায় বেশি। হিসেবে করলে দেখা যাবে বিক্রিও হচ্ছে। সেই সংখ্যাও খারাপ না।

‘পাঠক কবিতার মান নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন না’

জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, পাঠকরা কবিতার মান নিয়ে কথা বলতে পারে না। তারা ভালো লাগা, মন্দ লাগা নিয়ে কথা বলতে পারে। কবিতার মান নিয়ে কথা বলবেন গবেষকরা।

তবে কবিতার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গবেষণারাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বায়তুল্লাহ কাদেরী বলেন,হ্যাঁ, কবিতার মান ঠিক নেই। কিন্তু এখন মান দেখার তো লোক নেই। যার যেমন ইচ্ছে বই প্রকাশ করে ফেলছে কবিতা না বুঝে, কবিতার অর্থ না জেনে। কবিতার বই প্রকাশ করা তো এখন খুব সহজ। যেকোনও প্রকাশকের কাছে টাকা দিয়ে দেয়, তারপর বই প্রকাশ করে। সুতরাং মানসম্মত কবিতার বই তো কমই আছে। অনেক নতুন লেখক আছে যাদের হাত পাকেনি বা কবিতার বই প্রকাশ করার মতো অবস্থায় যায়নি। তারাও বই প্রকাশ করছে। গত কয়েকবছর ধরেই হয়ে আসছে মেলায়।

এবিষয়ে করণীয় কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশি-নব্বইয়ের দশকে আমরা যারা কবিতা লিখতাম, সেময় সাহিত্যের পাতাগুলোয় আমাদের একটা পরীক্ষা হতো। তারপর কবিতা ছাপা হতো। লিটলম্যাগগুলোয় কবিতা ছাপাতাম। অনেকদিন ধরে এভাবে চর্চা হতো। চর্চার অনেক পরে তারপর আমরা বই বের করতাম। তখন বই বের করা অনেক কষ্টের ছিল। এখন তো কম্পিউটারে কম্পোজ করে বই প্রকাশ করতে সময়ই লাগে না। এখন অনেকের হাতেই পয়সাকড়ি আছে। এইসব বই অধিকাংশই ডাস্টবিনে বা ফুটপাতে চলে যায়। এটা নিয়ে আসলে করণীয় কিছু নেই। অনেক প্রকাশক আছে যারা লেখকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বই প্রকাশ করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।