• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

জালের মতো বিস্তৃত গাজায় সুড়ঙ্গের ভেতরে কী আছে

Reporter Name / ১৫৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৩

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ দুই মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দিকে গাজায় শুধু বিমান হামলা চালালে এবার সেখানে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনারা। স্থল অভিযান শুরুর পর থেকেই হামাস ও ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের খবর আসছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের স্থল অভিযানে বেশ চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে ইসরায়েল। তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পুরো গাজায় জালের মতো বিস্তৃত হামাসের বিশাল সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক। মূলত এই সুড়ঙ্গ ঘিরেই দুপক্ষের মধ্যে লড়াই হবে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

এখন প্রশ্ন হলো, হামাসের সুড়ঙ্গপথ কতটা বিস্তৃত, এসব সুড়ঙ্গের ভেতরে আসলে কী আছে? কিংবা কোন কাজে এই সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করেন হামাস যোদ্ধারা?

২০২১ সালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছিল, হামাসের ১০০ কিলোমিটারের বেশি সুড়ঙ্গ বা টানেল নেটওয়ার্ক তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার তখন বলেছিলেন, গাজার সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা কি না গাজার দৈর্ঘ্যের চেয়েও ১০ গুণ বড়। এর মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ ধ্বংস করতে পেরেছে ইসরায়েল।

হামাসের টানেলগুলোকে ‘গাজা মেট্রো’ বলে ডাকে ইসরায়েলি বাহিনী। অতীতের বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, এসব সুড়ঙ্গের ভেতরে আলো ও পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা আছে। এসব সুড়ঙ্গের দেয়াল সিমেন্টের তৈরি। সুড়ঙ্গগুলোতে বিদ্যুৎ ও রেলট্র্যাকের ব্যবস্থাও থাকে।

বিবিসি বলছে, এসব টানেল ব্যবহার করে হামাস পণ্য পরিবহন, বিমান হামলা থেকে আশ্রয় নেওয়া এবং ইসরায়েলে হামলা চালায়। এসব সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করতে পারবে হামাস। এ ছাড়া এই সুড়ঙ্গগুলো সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েল পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছেন হামাসের যোদ্ধারা। এই আন্তঃসীমান্ত সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে ইসরায়েলে আক্রমণও করেছেন তারা। ২০০৬ সালে তারা এ রকম একটি সুড়ঙ্গ দিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে করপোরাল গিলাদ শালিতকে অপহরণ করেন। শালিতের মুক্তির বিনিময়ে পরে এক হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছাড়িয়ে এনেছিল হামাস।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব টানেলের প্রবেশপথ আবাসিক এলাকার বিভিন্ন ভবনের মধ্যে লুকানো। ফলে এসব টানেল ধ্বংস করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। এমনকি গত ৭ অক্টোবরের হামলায় যে দুই শতাধিক ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে হামাস গাজায় নিয়ে এসেছে তাদের এসব গোপন সুড়ঙ্গে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি সূত্রগুলোর দাবি, গাজায় মাটির নিচে সুবিস্তৃত সুড়ঙ্গপথে ‘ইসরায়েল-প্রুফ’ যোগাযোগ অবকাঠামো তৈরি করেছে হামাস। বাইরে থেকে কেউ যাতে তাদের কথায় আড়ি পাততে না পারে, সে জন্য হামাস প্রায় ১০ কিলোমিটারের বেশি জায়গাজুড়ে বিশেষ আবরণযুক্ত তার বসিয়েছে। ফলে খুব সহজেই হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলের চোখ ফাঁকি দিতে পারে। এই নতুন ধরনের সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই সম্ভবত হামাস ৭ অক্টোবরের হামলার পরিকল্পনা ইসরায়েলের কাছ থেকে গোপন রাখতে পেরেছিল।

এ ছাড়া আত্মগোপন এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের রক্ষার জন্য এসব সুড়ঙ্গ ব্যবহার করেন হামাস যোদ্ধারা। এ ছাড়া এই সুড়ঙ্গগুলো অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুকানোর কাজেও ব্যবহার করা হয়।

এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল যেসব বোমা ব্যবহার করছে, তা মাটির খুব বেশি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। এক মিটারের বেশি গভীরে আছে এমন যে কোনো কিছুই ইসরায়েলের বোমা থেকে নিরাপদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।