• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

রাজশাহীতে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট

Reporter Name / ১৫৪ Time View
Update : রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

দাম বাড়ার ঘোষণার পরপরই রাজশাহীতে রান্নার জন্য ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির পরিবেশকরা বলছেন, তারা তিন থেকে চার দিন ধরে চাহিদা মাফিক সিলিন্ডার সরবরাহ পাচ্ছেন না। সিলিন্ডার নেওয়ার জন্য গাড়ি পাঠাচ্ছেন কোম্পানির গুদামে কিন্তু গাড়ি আসছে না।

এদিকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় রাজশাহীতে সিলিন্ডারের দামও বেড়ে গেছে। এক হাজার ৪৯৮ টাকার সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে এক হাজার ৫৫০ টাকা করে। নগরীর বাইরের গ্রাম মহল্লা ও জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬০০ টাকা করে। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি। যদিও ক্রেতারা বলছেন, বৃহস্পতিবার দাম বাড়ানোর দুদিন আগে থেকেই রাজশাহীতে বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি শুরু করেন পরিবেশকরা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। আনুষ্ঠানিকভাবে দাম বাড়ানোর দুদিন আগে বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করায় বৃহস্পতিবার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ দপ্তর রাজশাহীর ছয়জন পরিবেশককে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করেন। এরপর থেকেই রাজশাহীতে সিলিন্ডার সংকটের কথা বলছেন পরিবেশকরা।

এদিকে নগরের গৌরহাঙ্গা এলাকার গ্যাস সিলিন্ডার পরিবেশক মেসার্স আনন্দ কুমার সাহার ব্যবস্থাপক সজীব বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান ওমেরা কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করে। গত চার দিন আগেই সিলিন্ডার আনতে গাড়ি পাঠানো হয়েছে কিন্তু গাড়ি ফিরে আসেনি সিলিন্ডার নিয়ে। অনেক সময় কোম্পানি নিজেরাও সরবরাহ দেয়। তাও দেওয়া হয়নি। তাদের গুদামে এখন গ্যাস সিলিন্ডার মজুত নেই। ফলে খুচরা ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীদের তারা দিতে পারছেন না। কয়েকজন গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহকারী জানান, এরই মধ্যে ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে অভিযান চালিয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগে তাদের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে গেছে। অন্য পরিবেশকদেরও জরিমানা করা হয়। এভাবে চলতে থাকলে তারা আর সিলিন্ডার ব্যবসা করতে পারবেন না। ঘন ঘন দাম বাড়ানো হচ্ছে। তারা তো কম দামে সিলিন্ডার বিক্রি করতে পারেন না।

যমুনা ও লাভ কোম্পানির গ্যাসের রাজশাহীর পরিবেশক মেসার্স হালিমা এজেন্সির ব্যবস্থাপক আবদুর রহিম বলেন, তাদের প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা রয়েছে। তারা দু’দিন পরপর একটি করে গাড়ি পাঠিয়ে সিলিন্ডার আনিয়ে থাকেন। এক গাড়িতে ৬১৬টি সিলিন্ডার আসে। এখন তাদের বলা হচ্ছে, সংকটের কারণে তিন থেকে চার দিন পরপর গাড়িতে ২০০ করে সিলিন্ডার দেওয়া হবে। সরবরাহ সংকটের কারণে এখন তারা গ্রাহককে চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। অনেক গ্রাহক ফিরে যাচ্ছেন সিলিন্ডার না পেয়ে।

পরিবেশক অগ্নি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামীমা সুলতানা বলেন, প্রতি মাসে তাদের দুই হাজার গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা আছে। তাদের ৯০০ থেকে এক হাজার গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া হচ্ছে। জানুয়ারি মাসে তাদের খুব ভোগান্তি হয়েছে। একটি সিলিন্ডার থেকে মাত্র আট থেকে ১০ টাকা লাভ হয়। এখন একসঙ্গে এক সিলিন্ডারের ওপর ২৬৬ টাকা দাম বাড়ালে লাভ যোগ করার আর জায়গা থাকছে না। এভাবে এতবার দাম বাড়ানোর কারণে গ্রাহকরা ভীষণ কষ্টে পড়েছেন।

এদিকে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারপ্রতি দাম এক লাফে ২৬৬ টাকা করে বাড়ানোর ফলে রাজশাহীতে সিলিন্ডার বিক্রি নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। রাজশাহীতে শনিবার বিভিন্ন এজেন্সিতে এক সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৪৯৮ টাকায়। তবে গ্রাহক পর্যায়ে আরও ১০০ টাকা নিচ্ছেন খুচরা বিক্রেতারা। নগরীর সাগরপাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, এভাবে প্রতি মাসে সিলিন্ডারের দাম এত টাকা করে বাড়ানোর ফলে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান শেখ বলেন, দাম বাড়ানোর পর প্রতি সিলিন্ডারে ২৬৬ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে। আবার খুচরা ব্যবসায়ীরা বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য আরও ১০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। ক’দিন ধরে আবার সিলিন্ডারই পাওয়া যাচ্ছে না। এ সুযোগে কেউ কেউ এক হাজার ৫৫০ টাকা করে নিচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।