• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

সরকারবিরোধী আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি বিএনপির, ১০ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা

Reporter Name / ১৫০ Time View
Update : বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২২

ঢাকা গণসমাবেশের দিন ১০ ডিসেম্বরেই যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিতে চায় বিএনপি। কর্মসূচি ঘোষণার আগে অভিন্ন দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে রাজি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বশেষ মতামত লিখিতভাবে নিতে চায় দলটি।

তবে কী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এই মুহূর্তে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি না দেয়ার পক্ষে বিএনপির হাইকমান্ড।

তবে ঢাকার সমাবেশে বাধা দেওয়া হলে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে। সোমবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই এককভাবে গণসমাবেশ করবে বিএনপি। এই দিনই দলটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে। পাশাপাশি ‘নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার’ দাবিতে আন্দোলনের পক্ষে থাকা সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ও জোটের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণার পক্ষে বিএনপি। নতুন কর্মসূচি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। দলের দুজন নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেন, নানা ইস্যুতে তারা রাজপথে কর্মসূচি পালন করে আসছে। ১০ ডিসেম্বর বিভাগীয় গণসমাবেশের মধ্য দিয়ে বড় কর্মসূচি শেষ হবে। বিভাগীয় গণসমাবেশে সারা দেশে নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বেশ উজ্জীবিত। নেতাকর্মীদের এ মনোবল ধরে রাখতে হবে। তাই গণসমাবেশ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারবিরোধী আন্দোলনের এ ধারা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে সবাই একমত পোষণ করেন। গণসমাবেশের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে বেশ শক্ত অবস্থানে আছে। ক্ষমতাসীনরা মুখে যাই বলুক তারাও এটা অনুধাবন করছে। তাই এখন বৃহত্তর ঐক্যের আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সেটা সম্ভব। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সবাই এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশের জন্য সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় জনগণ নেই। সমাবেশ বিএনপি করবেই। আওয়ামী লীগ সরকারকে কীভাবে তাড়াব ১০ ডিসেম্বর কী হবে, তা ১০ ডিসেম্বরেই জানিয়ে দেব। সেদিন বলে দেব কী কী করব। তবে জানিয়ে করব। অজ্ঞাত কোনো কাজ করব না।’ স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা যায়, দলের ঘোষণা অনুযায়ী, যে কোনো মূল্যে আগামী ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণসমাবেশ করবে বিএনপি। এখন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তেই অনড় অবস্থানে রয়েছে দলটি। এই গণসমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটোসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা মাঠে কাজও করছেন।

দলের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নেতা জানান, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ বিরোধী রাজনৈতিক দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার অধীনে যেসব রাজনৈতিক দল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে বিএনপি দুই দফা বৈঠক করেছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে অভিন্ন দাবি প্রস্তুত করা হবে। বিএনপি চাইছে, এই অভিন্ন দাবি নিয়ে মাঠে নামতে। সেক্ষেত্রে ঢাকার গণসমাবেশের দিনই তারা যুগপৎ কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে মাঠে নামতে চাইছে। সে লক্ষ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ও অন্য দলগুলোর কমন দাবিগুলো নিয়ে কীভাবে মাঠে নামা যায়, সে বিষয়ে একটি লিখিত দলিল তৈরি করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষর নিয়ে দাবিগুলো চূড়ান্ত করতে চায় দলটি।

খুব দ্রুতই এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমদিকে যুগপৎ আন্দোলনে রাজি দলগুলোকে ১০ ডিসেম্বর গণসমাবেশ মঞ্চে উঠানোর একটা প্রস্তাব ছিল। কিন্তু বিএনপির নীতিনির্ধারকরা চাচ্ছেন, আন্দোলনের শেষদিকে এক মঞ্চে উঠতে। তার আগে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অভিন্ন দাবি ও কর্মসূচিতে যুগপৎ আন্দোলন করবে দলগুলো।

কূটনৈতিক উইংয়ের এক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, বিভাগীয় সমাবেশে ব্যাপক জমায়েতের পর থেকে বিএনপির সঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দেশের কূটনীতিকরা যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। তারা বিভিন্নভাবে বিএনপির অবস্থান জানার চেষ্টা করছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, আগামী দ্বাদশ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিতে চায়। কিন্তু সেই নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। তা ছাড়া নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা বিভাগের সব জেলার নেতাদের নিয়েই হবে ঢাকা বিভাগের সমাবেশ। এই সমাবেশে অন্যান্য বিভাগের নেতাকর্মীদের যোগ দেওয়ার আগ্রহ ব্যাপক। কিন্তু অন্যান্য বিভাগের নেতাদের ঢাকায় আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। কারণ এই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের মতিগতি বোঝা বড় মুশকিল। ঢাকার সমাবেশে যদি কোনো ধরনের হামলা বা বাধা দেয়, তাহলে সারা দেশে একযোগে প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।