• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

নির্বাচন নিয়ে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি

Reporter Name / ১৬৫ Time View
Update : রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২২

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মুখোমুখি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজপথ। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারিও দিচ্ছে দলটি। কিন্তু বিএনপির এসব হুমকি আমলে নিচ্ছেন না ক্ষমতাসীনরা। দলটির নেতারা বলছেন, সংবিধানের বিদ্যমান ধারাতেই হবে আগামী নির্বাচন। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এমনকি এ ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসতেও রাজি নয় দলের হাইকমান্ড। কাজেই এ ইস্যুতে সংবিধানের বাইরে কোনো আলোচনা নয়। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা চান সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।

সেক্ষেত্রে সংবিধানের মধ্যে থেকে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি অনুযায়ী সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে। তবে কাউকে নির্বাচনে আনতে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না। উলটো নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালানো হলে তা কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে। যদিও বিগত দুটি নির্বাচনে বিএনপিকে ভোটে আনতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, সংবিধানে যেভাবে আছে সেভাবেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরে যাওয়ার তো কোনো সুযোগ নেই।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি আন্দোলনে নামলে আওয়ামী লীগ কী করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি তো আন্দোলন করে না। আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য করে। অতীতেও সেটাই করেছে। এবারও যদি আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য করতে চায়, তাহলে সরকার বসে থাকবে না। জনগণের জান-মাল রক্ষায় যা করণীয় তাই করবে। আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীনরা বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছিল। ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে ফোন করে তার বাসভবন গণভবনে এসে আলোচনার আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন।

কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। সেই নির্বাচনের আগে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়েছিল, সেই সরকারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বিএনপিকে দেওয়ার কথা বলেছিল আওয়ামী লীগ।

২০১৮ সালে বিএনপি ২০ দলীয় জোটের পাশাপাশি নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করেছিল। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর ডাকা সংলাপে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে অংশ নিয়েছিল বিএনপিও। নির্বাচনেও গিয়েছিল তারা।

এদিকে এবার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে লাগাতার বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোও বর্জন করে আসছে তারা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ৯ দফা দাবিতে ১২ তারিখ থেকে সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ করবে দলটি। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপিকে ভোটে আনতে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই আওয়ামী লীগের।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মনে করেন যতই হুমকি-ধমকি দিক না কেন বিএনপি শেষ পর্যন্ত ভোটে আসবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও একাধিকবার বলেছেন-তারা চান সবাই নির্বাচনে আসুক, কিন্তু কেউ ভোটে আসতে না চাইলে তাদের কিছু করার নেই।

এর আগে ভারত সফর নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এটাই আমরা চাই। আর যদি কেউ না করে, সেটা যার যার দলের সিদ্ধান্ত।

এর জন্য আমাদের সংবিধান তো আমরা বন্ধ করে রাখতে পারি না। সংবিধানের যে ধারা, সে অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ধারাটা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি কেউ না আসে (নির্বাচনে), সেখানে আমাদের কী করণীয়। হারার ভয়ে আসবে না। একেবারে সবাইকে লোকমা তুলে খাইয়ে দিতে হবে; জিতিয়ে দিতে হবে; তবেই আসব। এটা তো হয় না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই এবং মনে করি বিএনপি নির্বাচনে আসবে। তারা এলে আমরা স্বাগত জানাব। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতারা নিরপেক্ষ সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেক কথাই বলে। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলে কিছু নেই। উচ্চ আদালতের রায়ে এটা বাতিল হয়েছে। সুতরাং এটার আর কোনো সুযোগ নেই। সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করছে, তা বিএনপিই প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। দেশের জনগণও তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না। বিএনপি এখন আবার ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। পরে জবাব জনগণই দেবে। তিনি আরও বলেন, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তারা নির্বাচনে আসবে। আর যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।