
আর্চারি মানেই কোরিয়া। ১৯৭২ সালের পর থেকে অলিম্পিক গেমসে এ পর্যন্ত ২৬টি স্বর্ণ জিতে সবার ওপরে আছে তারা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়াযজ্ঞে ২০০০ সালের পর শুধু একবারই সেরা হতে পারেনি কোরিয়ানরা। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে তাদের আধিপত্যের অবসান ঘটায় ইতালি। সর্বশেষ ছয় অলিম্পিকের মধ্যে পাঁচটিতেই সেরা হয়েছে কোরিয়া। সেই ধারা এবারও ধরে রেখেছে তারা।
টোকিও অলিম্পিকে এখন পর্যন্ত হওয়া আর্চারির তিনটি ইভেন্টেই স্বর্ণ জিতেছে কোরিয়া। রিকার্ভ মিশ্র দলগত, মেয়েদের দলগত ও পুরুষ দলগত ইভেন্টে সোনালি হাসি হেসেছে আর্চারির জায়ান্টরা। গতকাল পুরুষ দলগত বিভাগের ফাইনালে চায়নিজ তাইপেকে ৬-০ সেট পয়েন্টে হারিয়েছে তারা। এই বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছে স্বাগতিক জাপান। আগের দিন নারী দলগত ইভেন্টে রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটিকে ৬-০ সেট পয়েন্টে উড়িয়ে স্বর্ণ জিতে কোরিয়া। তার আগে শনিবার মিশ্র দলগত ইভেন্টে নেদারল্যান্ডসকে হারায় ৫-৩ ব্যবধানে। এবারের অলিম্পিকে আর্চারির আর দুই ইভেন্ট বাকি আছে- রিকার্ভ পুরুষ ব্যক্তিগত ও রিকার্ভ নারী ব্যক্তিগত। এ দুই বিভাগেই খেলবেন বাংলাদেশের রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকী। মঙ্গলবার রোমান ও ২৯ জুলাই দিয়া নিশানা ভেদে নামবেন। টোকিও অলিম্পিকে বাংলাদেশের ছয় ক্রীড়াবিদের মধ্যে বিদায় নিয়েছেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী। বাকি পাঁচ অ্যাথলেট এখনও টিকে আছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় গেমসে। ঠিকমতো নিশানা ভেদ করতে না পারলে আজ বিদায়ঘণ্টা বেজে যেতে পারে রোমান সানার। এলিমিনেশন রাউন্ডে ইংল্যান্ডের টম হলকে হারাতে পারলে শেষ বত্রিশে উঠে যাবেন তিনি। এরপর লড়বেন শেষ ষোলোর একজন হতে। তবে টোকিওর আকাশে ঝড়ের শঙ্কা। সোমবার থেকে প্রচণ্ড বাতাস বয়ে যাচ্ছে। বাতাসের মধ্যে এদিন অনুশীলন সেরে নিয়েছেন রোমান। মূলত তাকে ঘিরেই অলিম্পিকে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। পুরো দেশ তাকিয়ে রোমানের দিকে। বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে বড় মঞ্চে খেলার চাপ- কিছুটা স্নায়ুর চাপে ভুগছেন রোমান। তবে কোচ ফ্রেডরিক মার্টিন সারাক্ষণই রোমানকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছেন। র্যাঙ্কিং রাউন্ডে ৬৬২ স্কোর করে সানা হয়েছেন ১৭তম। প্রতিপক্ষ ব্রিটেনের হল করেন ৬৪৯ স্কোর। র্যাঙ্কিংয়ের স্কোরটাই রোমানের আজ বড় প্রেরণা। হলকে হারাতে পারলে এক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রি-কোয়ার্টারে নামবেন রোমান। আপাতত এলিমিনেশন রাউন্ড নিয়েই ভাবছেন কোচ মার্টিন।