
জাতীয় সংসদের বাজেট (ত্রয়োদশ) অধিবেশন বসছে আজ। বিকাল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে। আগামীকাল বেলা ৩টায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তারিত বাজেট উত্থাপন করবেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে অধিবেশন হবে সংক্ষিপ্ত। পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি অধিবেশন ১২ কার্যদিবস চলবে। প্রথমদিন চলতি সংসদের সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এবং আসলামুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও গ্রহণের পর অধিবেশন মুলতবি করা হবে। পরদিন বিকাল ৩টায় বাজেট প্রস্তাব ও অর্থ বিল উত্থাপন করা হবে। এরপর প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের সাধারণ আলোচনা শেষে ৩০ জুন বাজেট পাশ হবে।
জানা যায়, এবারের অধিবেশনে একজন সংসদ সদস্য ৩ থেকে ৪ কার্যদিবস উপস্থিত থাকবেন। অধিবেশনে যোগদানের জন্য তাদের করোনা নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে। যার মেয়াদ থাকবে সর্বোচ্চ ৩ দিন। অর্থাৎ সংসদে যোগদানের জন্য তাদের একাধিকবার নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন পড়বে। অধিবেশন কক্ষে গত ৭টি অধিবেশনের মতো নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখে আসন বণ্টন থাকছে। সংসদ চলাকালীন দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে বাজেট ডকুমেন্ট সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকরা ৩ জুন সংসদে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম সাংবাদিকদের জানান, করোনা পরিস্থিতিতে ঝুঁকি ও আতঙ্ক থাকলেও তা মোকাবিলার জন্য কঠোর সতর্কতাও অবলম্বন করা হচ্ছে। বাজেট অধিবেশন থেকে যাতে নতুন কেউ সংক্রমিত না হন, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অধিবেশন কক্ষে আসন বণ্টন আগের মতোই থাকছে। নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখেই সদস্যরা বসবেন। নির্ধারিত সময় পার হলেই অধিবেশনে যোগদানের জন্য নমুনা পরীক্ষা করোনা নেগেটিভ সনদ নিতে হবে।
সূত্র জানায়, আগামী বছরের জন্য বাজেটের আকার ৬ লাখ কোটি টাকার উপরে হবে। চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরের বাজেট ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার। আর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট অর্থাৎ ১৯৭২-৭৩ সালে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকার বাজেট গত বছরের ১১ জুন ঘোষণা হয়েছিল। মাত্র ৯ কার্যদিবসে করোনাকালের প্রথম বাজেট অধিবেশন শেষ হয়। এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন।