• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে দেখতে হাসপাতালে মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ রাজশাহীতে নারীসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ট্যাপেন্টাডল-গাঁজা উদ্ধার দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে রাসিক প্রশাসক, শুভেচ্ছা বিনিময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার সমান: সমাজকল্যাণমন্ত্রী পেনাল্টি মিস, তবু গোলসংখ্যায় মেসির চেয়ে এগিয়ে রোনালদো মাগুরায় যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার, গুলিতে হত্যার অভিযোগ বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন নারীরা মোদির বাসভবনের পাশে মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মোবাইল খুইয়েছেন ৯ নেতা-কর্মী তিন বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহীতে পাটের বাম্পার ফলন, আয়ের সম্ভাবনা ৫৪৯ কোটি টাকা

Reporter Name / ৮৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা ‘সোনালি আঁশ’ পাটের ভালো ফলনে রাজশাহীর কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টি এবং কৃষকদের যথাযথ পরিচর্যায় চলতি মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ ও উৎপাদন বেড়েছে। একই সঙ্গে বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় লাভের আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে উৎপাদিত পাট বিক্রি করে প্রায় ৫৪৯ কোটি টাকা আয় হতে পারে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর নয়টি উপজেলাতেই এবার কমবেশি পাটের আবাদ হয়েছে। মোট ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। এসব জমি থেকে ৪৯ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ২০২৫ সালে জেলায় ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। সে বছর উৎপাদন হয়েছিল ৪৮ হাজার ৬৭৭ মেট্রিক টন। গত বছরের তুলনায় এবার আবাদি জমির পরিমাণ যেমন বেড়েছে, তেমনি উৎপাদনের পরিমাণও বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কার্যক্রম এখন শেষ পর্যায়ে। কৃষি বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ইতোমধ্যে মোট আবাদি জমির প্রায় ৮২ শতাংশের পাট কাটা শেষ হয়েছে। এসব জমি থেকে পাওয়া গেছে প্রায় ৪৮ হাজার ২০০ মেট্রিক টন পাট। অবশিষ্ট জমির পাট কাটা শেষ হলে উৎপাদন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে এবার পাটের বাজারদরও কৃষকদের জন্য বেশ আশাব্যঞ্জক। রাজশাহীর বিভিন্ন হাট-বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ (৪০ কেজি) পাট ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে, প্রত্যাশিত উৎপাদন ও বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় চলতি মৌসুমে পাট বিক্রি করে প্রায় ৫৪৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা আয় হতে পারে। বিপুল এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম এলাকার পাটচাষি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর পাটের দাম তুলনামূলক কম থাকায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা ছিল। তবে এবার পরিস্থিতি অনেক ভালো। ফলনও ভালো হয়েছে, পাশাপাশি বাজারে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেন। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হচ্ছে।

মোহনপুর উপজেলার কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাট জাগ দেওয়া ও ধোয়ার কাজে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির কিছুটা ঘাটতি থাকলেও পরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি অনুকূলে আসে। বর্তমান বাজারদর ভালো থাকায় পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ মিটিয়ে কিছু অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

রাজশাহীতে উৎপাদিত পাট শুধু স্থানীয় বাজারেই বিক্রি হচ্ছে না। জেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব পাট দেশের বিভিন্ন পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে। পরে পাট প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি বিভিন্ন পণ্য দেশের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও রপ্তানি করা হয়। ফলে রাজশাহীর পাট জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নত জাতের বীজ ও সারের সহজলভ্যতা, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে রাজশাহীতে পাটের আবাদ আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে কৃষকদের আয় ও লাভের পরিমাণও বাড়বে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে ৪৯ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত বছর ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ করে ৪৮ হাজার ৬৭৭ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছিল।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি মণ পাট সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। এই দর অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে পাট বিক্রি করে প্রায় ৫৪৯ কোটি টাকা আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদিত পাট স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।