• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে দেখতে হাসপাতালে মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ রাজশাহীতে নারীসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ট্যাপেন্টাডল-গাঁজা উদ্ধার দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে রাসিক প্রশাসক, শুভেচ্ছা বিনিময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার সমান: সমাজকল্যাণমন্ত্রী পেনাল্টি মিস, তবু গোলসংখ্যায় মেসির চেয়ে এগিয়ে রোনালদো মাগুরায় যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার, গুলিতে হত্যার অভিযোগ বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন নারীরা মোদির বাসভবনের পাশে মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মোবাইল খুইয়েছেন ৯ নেতা-কর্মী তিন বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বগুড়ায় কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ

Reporter Name / ৮০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে গতিশীল এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে বগুড়া কৃষি অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ২ দিনব্যাপী বিশেষ কৃষি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আজ সম্পন্ন হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়া শহরের বনানীতে অবস্থিত হর্টিকালচার সেন্টারের প্রশিক্ষণ হলরুমে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত সনদ বিতরণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।

এরআগে গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আব্দুল ওয়াদুদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ।

কর্মশালার উদ্দেশ্য ও সার্বিক দিক নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. নুরুল ইসলাম বাসস’কে জানান, ‘বগুড়া অঞ্চলে কৃষিকে আরও লাভজনক ও নিরাপদ পেশা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তাদের নিয়ে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মোট ১০টি সেশনের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, যাতে বেসরকারি পর্যায়ে কৃষি পণ্য উৎপাদন বাড়িয়ে তারা লাভজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের বিভিন্ন রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।’

তিনি আরও জানান, কৃষি পণ্যে রাসায়নিক সার ও বালাইনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কমিয়ে এনে জৈব সারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেয়া এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সরকারি বীজের অপ্রতুলতা দূর করতে বেসরকারি পর্যায়ে মানসম্মত বীজ উৎপাদনে উদ্যোক্তা তৈরি এবং ব্যবসা পরিচালনায় সামাজিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল এখানে শেখানো হচ্ছে।

কর্মশালায় উদ্যান তত্ত্বীয় ফসল ও ফলমূলের চারা তৈরি, ‘পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি’ ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল কাটার পর ক্ষয়ক্ষতি কমানো, ভার্মি কম্পোস্ট ও ট্রাইকো কম্পোস্ট সার প্রস্তুত ও বাজারজাতকরণ, মাশরুম চাষ, ফুড প্রসেসিং এবং উন্নতমানের ধান-গমের বীজ উৎপাদনের আধুনিক কৌশল তুলে ধরা হয়।

এ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা দেউলী ইউনিয়নের উদ্যোক্তা কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি তার প্রায় ৩শ’ শতাংশ (৩ একর) জমিতে পলিনেট হাউস স্থাপন, চারা উৎপাদনের জন্য নার্সারি, সমন্বিত গরুর খামার ও ভার্মি কম্পোস্ট প্রস্তুতের কাজ করছেন। প্রথাগত চাষাবাদের বাইরে গিয়ে তিনি মাঠে জিরা, আদা, রসুন ও হলুদের মতো উচ্চমূল্যের মসলা চাষে সফল হয়েছেন।

নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে সাইফুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, ‘আগে সাধারণ কৃষক হিসেবে প্রশিক্ষণ নিলেও এবার একজন উদ্যোক্তা হিসেবে মাঠ পর্যায়ের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে যুক্ত হয়েছি।

এখান থেকে অর্জিত আধুনিক জ্ঞান নিজের খামারে প্রয়োগ করব এবং স্থানীয় অন্য কৃষকদের মাঝে তা ছড়িয়ে দেব, যাতে পুরো অঞ্চলের কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।’

দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা আজ বিকেলে অংশগ্রহণকারী কৃষি উদ্যোক্তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র তুলে দেয়ার মাধ্যমে শেষ হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।